হত্যার রায় নিশ্চিত হোক

14

বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার হত্যা মামলার বহু প্রতীক্ষিত রায় বুধবার প্রদান করা হয়েছে। এতে ২০ আসামিকে মৃত্যুদ- এবং পাঁচজনকে যাবজ্জীবন দেয়া হয়। বিচারক রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেছেন, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড দেশের মানুষকে ব্যথিত করেছে। এ ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে সে জন্যই আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়া হয়েছে। রায়ে আবরারের বাবা-মা সন্তোষ প্রকাশ করে দ্রুত রায় কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন।
২০১৯ সালের ৫ অক্টোবর বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে সম্পাদিত বিভিন্ন চুক্তি নিয়ে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন আবরার ফাহাদ রাব্বী। এর জের ধরে পরদিন ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের আবাসিক ছাত্র ও তড়িৎ কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরারকে তার কক্ষ থেকে ডেকে নিয়ে যায় বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। তারা আবরারের ১০১১ নম্বর কক্ষে গিয়ে তাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে তার ল্যাপটপ, দুটি মোবাইল ফোনসহ ২০১১ নম্বর রুমে নিয়ে আসে। এরপর ওই কক্ষে আবরারকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে। পরে রাত ৩টার দিকে শেরেবাংলা হলের সিঁড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
বর্তমান সরকারের আমলে আইনের শাসনে গতি সঞ্চার হয়েছে। মানুষ আবারও বিচার ব্যবস্থার ওপর আস্থা ফিরে পাচ্ছে। দেশে সুশাসন বিরাজ করলে আইন সঠিক পথে সঠিক গতিতেই চলে। সমাজে যাতে নৈরাজ্য সৃষ্টি না হয় সে ব্যাপারে সরকার সম্পূর্ণ সজাগ ও সচেতন। আবরার ট্র্যাজেডির মতো দলবদ্ধ হত্যাকান্ডের মহাঅপরাধ সংঘটিত হলে সঙ্গত কারণেই মানুষের ভেতর আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। এমন হত্যাকান্ডের বিচার প্রক্রিয়া যথোপযুক্ত তদন্ত শেষে আইনী ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে একটি প্রতিকার পাওয়া গেলে জনমনে ফিরে আসে স্বস্তি। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের এ আইনজীবী বলেছেন, প্রতিনিয়ত দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর হলে এমন নির্যাতন-নিপীড়ন চলে। আবরার হত্যা মামলার এ রায় তাদের জন্য একটি বার্তা।
অতীতে ছাত্রদল, ছাত্রশিবিরের হাতেও ঘটেছে অনেক নৃশংস হত্যাকাণ্ড। সেগুলোর যথাযথ বিচার হয়েছে কি? গত ১০ বছরে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ২৪ জনকে হত্যা করা হয়েছে। সব অপরাধীকেই আইনের মুখোমুখি দাঁড় করানো হচ্ছে। ফলে এটা ভাবার কোন কারণ নেই যে, হত্যার বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে যাবে। অপরাধী যে দলেরই হোক না কেন, যত প্রভাবশালী ও ক্ষমতাবানই হোক, অপরাধ করলে তাকে শাস্তি পেতেই হবে, এটি এখন সুনিশ্চিত।