দেশ করোনা ঝুঁকিতে

5

অসহনীয় গরম কমে আসতে শুরু করেছে, অন্যদিকে করোনার সংক্রমণের গতিও নিম্নমুখী। করোনা রোগীর মৃত্যুর সংখ্যা দিনে দশের নিচে নেমে এসেছে। বলা যায় গত পৌনে দুই বছরে এতটা ভাল পরিস্থিতি আগে কখনই ছিল না। এই স্বস্তিকর পরিবেশের সদ্ব্যবহার করতে তাই কার্পণ্যও করছেন না মানুষ। বেরিয়ে পড়ছেন দলেদলে ঘরের বাইরে। হোটেল রেস্তরাঁ শপিং মল বিনোদনকেন্দ্র- সব আবার ভিড়াক্রান্ত হয়ে উঠছে। সামাজিক বা শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার বাধ্যবাধকতা আর কেউ আমলে নিচ্ছেন বলে মনেই হচ্ছে না। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে দেশ থেকে বুঝি বিদায়ই নিয়েছে করোনাভাইরাস। আসলে কি তাই? এক বছর আগে অনেকের কাছে করোনার কারণে বিভীষিকাময় জীবন যখন স্বাভাবিক রূপ নিচ্ছে তখন বিশেষজ্ঞরা তাদের কাজটি ঠিকই করছেন, দিচ্ছেন সতর্ক বার্তা। বিশ্বের অনেক দেশেই করোনার তৃতীয় ঢেউ শুরু হওয়ায় দেশের মানুষকে সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যবিধি মানার তাগিদ দিয়েছেন তারা।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের মুখপাত্র ও পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডাঃ মোঃ নাজমুল ইসলাম গত রবিবার বলেছেন, সংক্রমণ কমে যাওয়ার হার আশাব্যঞ্জক হলেও আত্মতুষ্টিতে ভোগার কোন কারণ নেই। দেশের শতভাগ মানুষের টিকা না পাওয়া পর্যন্ত সবধরনের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতেই হবে। দেশকে করোনামুক্ত বলা যাবে না। এখনও প্রতিদিন নতুন নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছে। হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ কমে এলেও শতভাগ মানুষ টিকা না পাওয়া পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। আমরা মনে করি স্বাস্থ্য অধিদফতর দায়িত্বশীল ভূমিকাই পালন করেছে মানুষকে সতর্ক ও সচেতন করার প্রয়াস নিয়ে। সামাজিক বা ধর্মীয় অনুষ্ঠানে মাত্রাছাড়া লোক সমাগম বা ভিড় কয়েকদিনের মধ্যেই পুরো চিত্র নেতিবাচকভাবে বদলে দিতে পারে। এ আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যায় না। প্রতিবেশী দেশ ভারতের কলকাতায় পূজার সময় বাজারে ও ম-পে ব্যাপক লোক সমাগমের কুফল ফলতে শুরু করেছে। সেখানে করোনার সংক্রমণ বাড়ছে। তাই সাধু সাবধান!
ভুলে গেলে চলবে না এখনও প্রত্যেকটি মানুষই আছেন করোনাক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে। কেউ সচেতন, কেউ অসতর্ক। কেউ আবার দুই ডোজ টিকা নিয়েই মুখের মাস্ক খুলে ফেলেছেন, ঘন ঘন সাবান দিয়ে আর হাত ধুচ্ছেন না। তিনি হয়ত জানেন না যে, দুবার টিকা নেয়ার পরও তিনি আক্রান্ত হতে পারেন। আর আগে থেকে তিনি কোন অসংক্রামক জটিল রোগে ভুগে থাকলে সেই পুরনো রোগই তার স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়বে। বলা হচ্ছে, দুই ডোজ টিকা নেয়ার পর আক্রান্ত হলে জটিলতা হবে না, মৃত্যুঝুঁকি থাকবে না। হয়ত কথাটা সত্যিই। কিন্তু করোনাভাইরাস যে বহুরূপী! সে বারবার তার রূপ বদলাচ্ছে, শক্তি বাড়াচ্ছে। তাই এমন তো হতেই পারে যে, এই দুই ডোজ টিকা গ্রহণ এবং একবার করোনায় ভোগার পরও আমরা আক্রান্ত হতে পারি। আর এমন একটি ধরন আমাদের আক্রমণ করতে পারে যার থেকে শতভাগ সুরক্ষা পাওয়ার এ্যান্টিবডি মানবদেহে নেই। তাই কতখানি জটিলতায় পড়বে মানুষ তা কে বলে দেবে আগাম? তাই সতর্ক থাকাটাই উত্তম। আমরাও বলি, স্বাস্থ্যবিধি শতভাগ মানুন।