সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন ॥ প্রভাবশালীদের হয়রানির শিকার বীর মুক্তিযোদ্ধা

7

স্টাফ রিপোর্টার :
বাসার সামনের বাউন্ডারি দেয়াল ভাঙা ও একজন মুক্তিযোদ্ধাকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রচার করছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। এমন অভিযোগ করেছেন সিলেট নগরের শিবগঞ্জের স্থায়ী বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শাহাব উদ্দিন আহমেদ। গতকাল বুধবার সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘শিবগঞ্জের স্থানীয় একটি প্রভাবশালীচক্র মহল আমার বিরুদ্ধে ওঠেপড়ে লেগেছে। নানাভাবে আমাকে হয়রানি করে যাচ্ছে। গত ১২ জুন সকাল ৯টার দিকে হঠাৎ দেয়াল ভাঙার আওয়াজ শুনে বের হয়ে দেখি আমার বাসার সামনের বাউন্ডারি দেয়ালে স্থানীয় দুদু মিয়া ও তার ১০/১৫ জন সহযোগী শাবল, রড ও হাতুড়ি দিয়ে ভাঙচুর করছে। এসময় আমরা বাধা দিয়ে এর কারণ জানতে চাইলে তারা এ কাজ সিলেট সিটি করপোরেশনের নির্দেশে করছে বলে জানায়। তখন আমি সিসিকের নির্দেশের কাগজপত্র দেখাতে চাইলে তারা আমাদেরকে কাগজপত্র না দেখিয়ে শাবল-হাতুড়ি-রড নিয়ে তেড়ে আসে। এ ঘটনায় আমি শারীরিক ও মানসিভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ি। পরে নিরাপত্তার স্বার্থে সিলেটের শাহপরাণ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করি। অভিযোগ নং-৬৫৭।’
ওই চক্র মানববন্ধন করে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা। তিনি বলেন, ‘দেয়ালভাঙার ঘটনার পরপরই ওই কুচক্রি মহল আমার বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্রমূলক মানবন্ধনের আয়োজন করে। এই মানবন্ধনে সিসিকের উন্নয়নকাজে বাধা দিয়েছি বলে অপপ্রচার করে। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। সম্প্রতি আমার বাসার সামনে দিয়ে সিসিক ড্রেন সংস্কার করেছে। সেজন্য আমি জায়গা ছেড়ে দিয়েছি। সুতরাং আমি সিসিকের উন্নয়নকাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করিনি বরং সহযোগিতা করেছি।’
তিনি বলেন, ‘আমি গ্যাজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা এবং আমি নিয়মিত সরকারি ভাতা পেয়ে থাকি। তবুও ওই মানববন্ধনে আমাকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা বলে উল্লেখ করা হয়।’
বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শাহাব উদ্দিন আহমেদ জানান, অভিযোগের পর গত ১৮ জুন শাহপরাণ থানার ওসি, সিসিকের ২০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যত্তিগণ ঘটনাস্থল সরেজমিন পরিদর্শন করেন। তবে তারা বিষয়টির সুরাহা করতে পারেননি। পরে বিষয়টি সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ১৯ জুন ঘটনাস্থল সরেজমিন পরিদর্শন করে এটি সিসিকের কাজ নয় বলে জানান এবং যারা দেয়াল ভেঙেছেন তাদেরকে পুনরায় দ্রুত দেয়াল নির্মাণ করে দেয়ার নির্দেশন দেন। এ সময় কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদও উপস্থিত ছিলেন।
তিনি বলেন, ‘এ সময় দুদু মিয়ারাও মেয়রের নির্দেশনা মেনে নেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমার দেয়াল পুননির্মাণ করে দেয়া হয়নি বরং আমাকে হুমকি-ধমকি প্রদান করা হচ্ছে।’ এ বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, ‘আমারা মুক্তিযোদ্ধারা নিজেদের জান বাজি রেখে ১৯৭১ সালে লাল-সবুজের পতাকা দেশবাসীকে উপহার দিয়েছিলাম। কিন্তু স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও যদি একজন মুক্তিযোদ্ধা জান-মালের নিরাপত্তাহীনতায় থাকেন তবে সেটি সত্যিই দু:খজনক। যে কুচক্রি মহল আমাকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা বলে জাতির সকল সূর্যসন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করেছে আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন তাঁর স্ত্রী আনোয়ারা বেগম, ছেলে সাকলাইন দেওয়ান রুজেল, মেয়ে মোছা. রুনা লায়লা, রোজিনা আক্তার শিপা ও সেলিনা আক্তার লুনা।