সঠিক সময়ে শেষ হয়নি হাওর রক্ষা বাঁধের কাজ, সর্বদলীয় সম্প্রীতি উদ্যোগের উদ্বেগ

10

একে কুদরত পাশা সুনামগঞ্জ থেকে :
সর্বদলীয় সম্প্রীতি উদ্যোগ জামালগঞ্জের উদ্যোগে গত ৪ ফেব্রুয়ারি সর্বদলীয় সম্প্রীতি উদ্যোগ সুনামগঞ্জ জেলার উপদেষ্টা উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল হক আফিন্দি, উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান তালুকদার, সমন্বয়কারী, জামালগঞ্জ উপজেলা সুজনের সভাপতি মিসবাহ উদ্দিন ও নির্বাহী সদস্য, জামালগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল উপজেলার বিভিন্ন হাওর রক্ষা বাঁধ পরিদর্শন শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিশ্বজিৎ দেবের সাথে মতবিনিময় করেন।
তারই ধারাবাহিকতায় ২৭ ফেব্রুয়ারী শনিবার সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত উপজেলার পাগনা, হালি, মহালিয়া ও শনির হাওরে কাবিটা বাস্তবায়নাধীন ৪৪টি পিআইসির মধ্যে ২৫টি পিআইসি পরিদর্শন করেন সর্বদলীয় সম্প্রীতি উদ্যোজ জামালগঞ্জ উপজেলা কমিটি। তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উপজেলা একটি বাঁধের কাজও শেষ হয়নি। শঙ্কার বিষয় হচ্ছে ক্লোজারগুলোতে এখনও কাজ শেষ হয়নি। কোন কোন বাঁধে মাটির কাজ চলছে মাত্র। কোন অবস্থাতেই মন্ত্রীর বেধে দেওয়া সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার কোন লক্ষণ নেই। কৃষকদের সচেতন করতে বাজারে বাজারে কৃষকদের সাথে মতবিনিময় করা হয়। পরিদর্শন দলে ছিলেন, উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান তালুকদার, সমন্বয়কারী, জামালগঞ্জ উপজেলা সুজনের সভাপতি মিসবাহ উদ্দিন ও নির্বাহী সদস্য, জামালগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলী, হাওর বাঁচাও আন্দোলন জামালগঞ্জ উপজেলা সভাপতি শাহানা আল-আজাদ, সাধারণ সম্পাদক অঞ্জন পুরকায়স্থ, পিএফজি সদস্য নাজিম উদ্দিন, মারজানা ইসলাম শিবনা।
উদ্যোগের জেলা সমন্বয়কারী মিসবাহ উদ্দিন জানান, সোমবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে পরিদর্শন প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।
প্রেতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, পাগনার হাওরের ৪নং পিআইসি (মুচী বাড়ির খাল) মাটির কাজ ও ড্রেসিং সম্পন্ন করলেও ঘাস লাগানো বাকি রয়েছে। বাঁশ ও বস্তা জিও টেক্সটাইল লাগানো হয়নি। এর সাথে সোনাপুর গ্রামের ২টি নতুন ভাঙ্গায় মাটি ভরাটের কাজ বাকি আছে। হালির হাওরে ২৫নং পিআইসির (লক্ষীপুরের খাল) মাটির কাজ সম্পন্ন হলেও সাইনবোডর্ বিহীন এই বাঁধে ঘাস লাগানো হয়নি। মাটি ভর্তি কিছু বস্তা পাশে তৈরি করা আছে। একই হাওরের ২৬নং পিআইসির মাটির কাজ চলমান। পুরাতন বাঁধ কেটে নামে মাত্র হালকা ভাবে দায়সারা ভাবে মাটি কাটা হচ্ছে। স্লোভ ও উচ্চতা বলতে কিছুই বুঝার উপায় নেই। ২৭নং পিআইসি মাটি কাটার কাজ শেষ করে ড্রেসিং কাজ চলমান আছে। তবে কোথাও দুরমুজ করা হয়নি। ২৮নং পিআইসির কাজ সন্তোষজনক তবে এখনও বাঁধে মাটির কাজ চলমান তবে যে অংশে মাটি ভরাট হয়েছে তাতে বাঁধের উভয় পাশে ঘাস লাগানো হচ্ছে। ২৯নং পিআইসি মাটি ভরাট করে রাখা হয়েছে, বাধেঁর স্লোভ ও ঘাস লাগানো হচ্ছে না। ৩০নং পিআইসি মাটি কাটা কাজ শেষে স্লোভে পানি ঢেলে ঘাস লাগানো হচ্ছে।মনে হচ্ছে এ বাঁধে অতিরিক্ত সময়ের কাজ শেষ হবে। ৩১নং পিআইসিতে কোন লোকজন পাওয়া যায়নি। মাটির কাজও বাকি রয়েছে। মেশিন বন্ধ থাকায় কাজও বন্ধ রয়েছে। বাধেঁ কম্পেকশন নেই। ৩২নং পিআইসি (সুন্দরপুরের ক্লোজার) মাটি কাটার কাজ সম্পন্ন হয়ে ঘাস লাগানোর কাজ চলছে। ৩৩নং পিআইসি মাটির কাজ শেষ করে এখন ঘাস লাগানো শুরু হয়েছে। ৩৪নং পিআইসি মাটির কাজ শেষে ড্রেসিং করা হচ্ছে তবে দুরমুজ করা হচ্ছে না, ঘাসও লাগানো হচ্ছেনা। ৩৫নং পিআইসি (হেরারকান্দি ক্লোজার) এটি সারেন্ডারকৃত কাজ। নতুন পিআইসি মাটি কাটার কাজ শুরু করেছে। ৩৬নং পিআইসির অবস্তা নাজুক মাটির কাজ এখনো ৪০% বাকি। ৩৭নং পিআইসির অবস্থা একই। ২৩নং পিআইসি (মহালিয়া হাওর ) পিআইসির কোন সদস্য বাঁধে নেই। কাজ ও চলছে ধীরগতিতে এটা কবে শেষ হবে কেউ জানে না। ১৮নং পিআইসি (শনির হাওর) সাইনবোর্ডের উভয় পাশে মাটির কাটার কোন দৃশ্য পাওয়া যায়নি। ১৯নং পিআইসি (শনির হাওর) বেহেলী বাজারে উত্তর পাশে (রহমতপুর ক্লোজার ) এখনো মাটির কাজ শেষ হয়নি। ড্রেসিং নেই। এই পিআইসির সংযুক্ত নান্টু খালির বাধেঁও ৪০০ ফুট মাটি কাটার কাজ বাকি রয়েছে। ৪০ নং পিআইসি হালির হাওরের (ঘনিয়ার খাড়া ক্লোজার) অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এরপরও এ ক্লোজারের কাজ শেষ করা হয়নি। নদীতে একটু পানি বৃদ্ধি পেলে অথবা বৃষ্টি নামলেই কৃষকের সর্বনাশ হয়ে যেতে পারে। ৪১ নং পিআইসিতে মাটি কাটার কাজ এখনো ৪০% বাকি রয়েছে। বদরপুরের পাশের খাল ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। ২০নং পিআইসি শনির হাওরে ( লালুর গোয়ালা ) কাজ চলমান আছে। মাটির কাজ এখনো শেষ হয়নি। বাকী কাজ কবে হবে। ৩৮নং পিআইসি (মাহমুদপুরের খাল) পুরাতন বাঁধের মাটি কেটে নতুন বাঁধে নিয়ে আসার কারনে বাঁধটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়েছে বলে স্থানীয় কৃষকদের মন্তব্য । বেশি করে বাঁশ ও বস্তা ছাড়া এ বাঁধ রক্ষা করা যাবে না।