মণিপুরী রাজবাড়িতে মণিপুরী মহারাস নৃত্য

35
মণিপুরী নৃত্য দিবস ও রাস পূর্ণিমা উপলক্ষে সিলেটের মণিপুরী রাজবাড়ি মির্জাজাঙ্গাল মন্ডপে আয়োজন করা হয় রাসলীলা উৎসবের। কৃষ্ণের সাথে নৃত্যের তালে মগ্ন গোপীরা। ছবিটি বুধবার রাতে তোলা। ছবি- মামুন হোসেন

মহারাস লীলা মনিপুরী সম্প্রদায়ের আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের অন্যতম। সোমবার রাতে নগরীর মির্জাজাঙ্গালস্থ মনিপুরী রাজবাড়ি শ্রী শ্রী মহাপ্রভূ মন্ডপে বাংলাদেশ মণিপুরী ছাত্র সমিতি (বামছাস) কেন্দ্রীয় কমিটি ও একাডেমী ফর মণিপুরী কালচার এন্ড আর্টস (এমকা), সিলেট এর উদ্যোগে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মহারাসলীলার অংশ বিশেষ পরিবেশন ও মণিপুরী ধর্মীয় সংস্কৃতির ঐতিহ্যবাহী একটি অংশ খুবাক ঈশৈ বা নুপী-পালা অনুষ্ঠিত হয়। মধ্যরাত পর্যন্ত চরা এ মহারাস লীলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পূর্বে মণিপুরী নৃত্য দিবস”- নির্ধারণ ও রাস পূর্ণিমা উপলক্ষে এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ মণিপুরী ছাত্র সমিতি (বামছাস) কেন্দ্রীয় কমিটি ও একাডেমী ফর মণিপুরী কালচার এন্ড আর্টস (এমকা), সিলেট আয়োজিত- “সেমিনার ও রাসোৎসব-২০২০” বিষয়ক সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন নাট্যজন ও সমাজসেবক এম.উত্তম সিংহ রতন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন এমকা সিলেটের সভাপতি ও “সেমিনার ও রাসোৎসব-২০২০” উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক দিগেন সিংহ। সেমিনারে মনিপুরী সাহিত্য পরিষদ ত্রিপুরার জেনারেল সেক্রেটারী এল. বীরমঙ্গল সিংহ এর লিখিত মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন একাডেমী ফর মণিপুরী কালচার এন্ড আর্টস (এমকা), সাধারণ সম্পাদক নৃত্য প্রশিক্ষক শান্তনা দেবী, আলোচক হিসাবে বক্তব্য রাখেন প্রাবন্ধিক ও গবেষক মনোজ বিকাশ দেব রায়, শিক্ষাবিদ ও গবেষক মিহির কান্তি চৌধুরী, গবেষক ও দৈনিক যুগভেরী পত্রিকার সম্পাদক অপূর্ব শর্মা, কবি ও প্রাবন্ধিক অহৈবম রনজিত, শিক্ষাবিদ ও প্রাবন্ধিক এল. নন্দলাল সিংহ। অনুষ্ঠানে সেমিনার ও রাসোৎসব-২০২০” উপলক্ষে প্রকাশিত স্মারক সংকলন “রাস”-এর মোড়ক উন্মোচন করেন আলোচকবৃন্দ। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বামছাস-এর উপদেষ্টা কে.এইচ. বিরেন সিংহ, সমাজসেবক কে এইচ সমরেন্দ্র সিংহ ও বামছাস-এর ইমা. বাংলাদেশের সেক্রেটারী জেনারেল থেঙুজম হিরন্ময় সিংহ হিরন। সমগ্র অনুষ্ঠান যৌথভাবে পরিচালনা করেন এল, লেকৌন দেবী যুথিকা ও বাংলাদেশ মণিপুরী ছাত্র সমিতি (বামছাস) এর সাধারণ সম্পাদক এস কেশব সিংহ। দুই পর্বে অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় প্রথম পর্বে সেমিনার ও দ্বিতীয়পর্বে মহারাসলীলা সহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করে ফানজৌবম্ ভাগ্য সিংহ, দিবা সিংহা, ওয়াই, সানি ও রুদ্র সিংহ, তবলায় সহযোগিতা করেন এল.সুকমল সিংহ শায়ন। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন বামছাস-সিলেট সাংস্কৃতিক সম্পাদক রনিক সিংহ।
সমগ্র অনুষ্ঠানে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেন প্রধান পৃষ্ঠপোষক আমেরিকা প্রবাসী বামছাস- উপদেষ্টা অসেম সত্যজিত সিংহ।
সেমিনারে বক্তারা বলেন বাঙালি জাতিসত্তার পাশাপাশি বাংলাদেশে বিভিন্ন সংখ্যালঘু নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর অন্যতম মণিপুরী। কৃষ্টি সংস্কৃতির গেীরবময় ঐতিহ্যে লালিত বাঙালি সংস্কৃতির ধারায় মিশে আছে স্বতন্ত্র ভাষা ও কৃষ্টি ও আচরিত। ধর্মীয় ও সামাজিক মনোরঞ্জনের দৃষ্টিকোণ থেকে মণিপুরী সমাজের মণিপুরী সংস্কৃতির একটি অন্যান্য সংযোজন ১৭৭৯ সালে মহারাজ ভাগ্যচন্দ্র প্রবর্তিত মণিপুরী মহারাস নৃত্য। এটা কোন সাধারণ নৃত্য নয় রাসনৃত্য অন্তর আত্মার দিকে ধাবিত করে। গেীড়ীয় বৈঞ্চব ধর্মে বিশ্বাসী প্রত্যেক মণিপুরী ধর্মীয় আবহে মন্দিরে অনুষ্ঠিত মহারাসকে শ্রদ্ধাভরে উপভোগ করেন। তাই মহারাসে অংশগ্রহণকালীন সকল অংশগ্রহণকারীকে সাধারণ মানুষ হিসেবে না ভেবে ভগবান শ্রীকৃঞ্চ, শ্রীমতি রাধিকা এবং গোপী ঞ্জানে ভক্তরা মহারাস লীলার রস আস্বাদন করেন। বিজ্ঞপ্তি