পাকিস্তানের প্রতিপক্ষ আজ দক্ষিণ আফ্রিকা

14

ক্রীড়াঙ্গন রিপোর্ট :
ছয় ম্যাচে চার হার, ৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের আট নম্বরে থাকা প্রোটিয়ারা যে সেমির আশা ছেড়ে দিয়েছে, কোচ ওটিস গিবসনের কথায় সেটি পরিষ্কার। তাদের একমাত্র লক্ষ্য এখন সম্মানজনকভাবে বিশ্বকাপ শেষ করা! অন্যদিকে পাঁচ ম্যাচে তিন হারের বিপরীতে সমান একটি জয় পাকিস্তানেরও। ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ১০৫ রানে অলআউট ‘আনপ্রেডিক্টেবল’ পাকিরা ইংল্যান্ডকে হারিয়ে যে আশার সঞ্চার করেছিল পরের ম্যাচগুলোতে সেটি ধরে রাখতে পারেনি। তবে পয়েন্ট টেবিলের নয় নম্বরে থাকা সরফরাজ আহমেদ এখনই হাল ছাড়তে রাজি নন; আজ দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর পাশাপাশি সেমির ক্ষীণ আশাটুকু বাঁচিয়ে রাখতে চায় পাকিস্তান! সেক্ষেত্রে অবশ্য নিজেদের বাকি ম্যাচগুলোর সবকটিতেই জিততে হবে। কাজটা ভীষণ কঠিন। ক্রিকেট গৌরবময় অনিশ্চয়তার খেলা, আর দলটির নাম যখন পাকিস্তান, তখন কিছুই বলা যায় না! লর্ডসে খেলা শুরু বাংলাদেশ সময় বেলা সাড়ে তিনটায়।
পাকিস্তান অধিনায়ক সরফরাজ বলেন, ‘একটি জয়ই দৃশ্যপট বদলে দিতে পারে। আমরা এখন যে অবস্থায় আছি সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়াতে হবে। লর্ডসে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়েই সেটা শুরু করতে চাই। জানি কাজটা কঠিন কিন্তু অসম্ভব নয়, অতীতে অনেকবার এটা করে দেখিয়েছি। আমরা জয়ের জন্য মাঠে নামব। সতীর্থরা সবাই নিজেদের সেরাটা দিতে মুখিয়ে আছে।’ পাকিস্তানের বিশ্বকাপ শুরু হয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে দুঃস্বপ্নের সেই হার দিয়ে, নটিংহ্যামে মাত্র ১০৫ রানে অলআউটের লজ্জায় ডুবেছিল সরফরাজ আহমেদের দল। সেই তারাই কিনা পরের ম্যাচে প্রবল পরাক্রমশালী আয়োজক ইংল্যান্ডকে ১৪ রানে হারিয়ে দেয়! এটা কেবল পাকিদের পক্ষেই সম্ভব। ওই জয়ে দারুণ আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছিল পাকিস্তান। তবে সেটি পরে আর কাজে লাগেনি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পরের ম্যাচ বৃষ্টির কারণে ভেস্তে যায়। পয়েন্ট ভাগাভাগি করে দু’দল। কিন্তু চতুর্থ ও পঞ্চম ম্যাচে আবারও হারের লজ্জায় ডুব দিতে হয় পাকিস্তানকে। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৪১ রানে ম্যাচ হারে। এতে আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরে তাদের। এ অবস্থায় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের মুখোমুখি হয়ে অসহায় আত্মসমর্পণ করেন মোহাম্মদ হাফিজ-শোয়েব মালিকরা।
বৃষ্টি আইনে ভারতের কাছে ৮৯ রানের বড় ব্যবধানে হারের পর পাকিস্তান তো বটেই বিশ্বব্যাপী সমালোচনায় বিদ্ধ হয় সরফরাজের দল। সেটি তাদের এমন অসহায় আত্মসমর্পণের ধরনের জন্য চিরশত্রুদের বিপক্ষে উন্মাদনার ম্যাচে পাত্তা পায়নি তারা। দেশে ফিরলে কি হবে অধিনায়ক নিজের সেই শঙ্কার কথা জানিয়ে সতীর্থদের সতর্ক করেছিলেন। ‘আপনি শুকরের মতো মোটা কেন?’ রাস্তায় এক সমর্থক সরফরাজকে সরাসরি এমন প্রশ্ন করে বসেন! সবমিলিয়ে এই অবস্থায় ঘুরে দাঁড়াতে হলে প্রচ- মানসিক শক্তি প্রয়োজন। ব্যাটিংয়ে দায়িত্ব নিতে হবে অভিজ্ঞ মোহাম্মদ হাফিজ, শোয়েব মালিক, প্রতিভাবান ইমাম উল হক, ফকর জামান ও বাবর আজমদের। দলের ব্যর্থতার মাঝেও বোলিংয়ে পেসার মোহাম্মদ আমির দুর্দান্ত করছেন, তাকে কার্যকর সঙ্গ দিতে হবে ওয়াহাব রিয়াজ ও হাসান আলীদের। তার ওপর ইতিহাসও সরফরাজদের পক্ষে নয়। মুখোমুখি ৭৮ ওয়ানডের ৫০টিতে জয় প্রোটিয়াদের, পাকিদের সাফল্য ২৭। পরিত্যক্ত ১। বছরের শুরুতে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে দারুণ লড়াইয়ের পরও শেষ ম্যাচ হেরে সিরিজ হাতছাড়া করেছিল পাকিস্তান। ১৯৯২ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত বিশ্বকাপে এ পর্যন্ত চার দেখায় তিন জয় দক্ষিণ আফ্রিকার, পাকিস্তান জিতেছে একবার।
অন্যদিকে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচেই মাঠে নেমেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রতিপক্ষ ছিল স্বাগতিক ইংল্যান্ড। ফর্মের তুঙ্গে থাকা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঐ ম্যাচে ফেবারিট হতে পারেনি প্রোটিয়ারা। মাঠের লড়াইয়েও সেই চিত্র দেখা যায়। ইংল্যান্ডের সঙ্গে লড়াইয়ে ছিটেফোটাও দেখাতে পারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা। ১০৪ রানের বড় ব্যবধানে ম্যাচ হারে প্রোটিয়ারা। ইংল্যান্ডের কাছে হারের পর নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে আরও বড় ধরনের ধাক্কা খায় দক্ষিণ আফ্রিকা। বাংলাদেশের কাছে ২১ রানে হারে তারা। টানা দুই হারের স্বাদ নিয়ে ভারতের মুখোমুখি হয় প্রোটিয়ারা। টিম-ইন্ডিয়ার সঙ্গেও হারের বৃত্ত থেকে বের হতে পারেনি। ৬ উইকেটে কোহলির দলের কাছে হেরে বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক পরাজয়বরণ করে ফ্যাফ ডুপ্লেসিসের দল। হ্যাটট্রিক হারকে সঙ্গী করে চতুর্থ ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ মুখোমুখি হয় দক্ষিণ আফ্রিকার। প্রকৃতির সহায়তায় ঐ ম্যাচ থেকে ১ পয়েন্ট অর্জন করতে পারে প্রোটিয়ারা। বৃষ্টির কারণে ম্যাচটি পরিত্যক্ত হওয়ায় এবারের আসরে প্রথম পয়েন্টের দেখা পায় তারা। আর পরের ম্যাচে দুর্বল আফগানদের ৪ উইকেটে হারিয়ে পায় ২ পয়েন্ট। সেমির আশা বাঁচিয়ে রাখতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জিততেই হতো, কিন্তু হেরে বসে ৪ উইকেটে।
তারপরও শেষ তিন ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে ভাগ্যের জোরে সেমিতে যাওযার স্বপ্ন দেখছে ‘চোকার’ দক্ষিণ আফ্রিকা! অধিনায়ক ডুপ্লেসিস বলেন, ‘আমাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়ের জন্যই মাঠে নামব আমরা।’ তবে কোচ ওটিস গিবসন যা বলেছেন তাতে মনে মনে আসন্ন বিদায় মেনে নিয়ে বাকি তিন ম্যাচে ভাল খেলে সম্মান পুনরুদ্ধারই এখন প্রথম লক্ষ্য, ‘বাকি ম্যাচগুলোতে ভাল খেলে প্রমাণ করতে চাই যে দুর্ভাগ্যবশত যেমন হচ্ছে আমরা তার চেয়ে অনেক ভাল দল’ বলেন তিনি। শেষ দুই ম্যাচে প্রোটিয়াদের প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা ও অস্ট্রেলিয়া।