হত্যা মামলায় একজনের ফাঁসি, একজনের ৩ বছরের কারাদন্ড ও ৪ জন খালাস

42

স্টাফ রিপোর্টার :
কানাইঘাটে আব্দুস ছুবহান হত্যা মামলায় এক জনের ফাঁসি (মৃত্যুদন্ড) ও তার সহোদরের ৩ বছরের কারাদন্ড এবং অপর ৪ আসামীকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত। রায়ের পাশাপাশি মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়। গতকাল রবিবার সন্ধ্যার দিকে সিলেটের শিশু আদালত ও অতিরিক্ত দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মো: আমিরুল ইসলাম এ রায় ঘোষনা করেন।
মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামী কানাইঘাট থানার সদিওলেরমাটি গ্রামের আব্দুল কুদ্দুছের পুত্র হারুনুর রশিদ (৪০)। ও ৩ বছরের সাজাপ্রাপ্ত অপর আসামী মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত হারুনুর রশিদের বড় ভাই গোলাম মোস্তফা (৪৫)। রায় ঘোষনার সময় দন্ডপ্রাপ্ত হারুনুর রশিদ ও গোলাম মোস্তফা আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলো না। বর্তমানে তারা পলাতক রয়েছে। এবং খালাসপ্রাপ্তরা হচ্ছে- কানাইঘাট থানার সদিওলেরমাটি গ্রামের মৃত হাজী আব্দুল কাদিরের পুত্র আব্দুল কুদ্দুছ (৬৫), একই গ্রামের জমির উদ্দিনের পুত্র জাহাঙ্গীর হোসেন (২৬), সাজাপ্রাপ্ত গোলাম মোস্তফার পুত্র রাসেল উরফে আব্দুস সহিদ রাসেল (১৫) ও একই থানার দাবাধরণীরমাটি গ্রামের মৃত মাহমুদ আলীর পুত্র আব্দুল ওকিল (৫০)।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা গেছে, আসামীগণ কানাঘাট থানার সদিওলেরমাটি গ্রামের আব্দুস ছুবহান (৬০)’র পাশ্ববর্তী বাড়ির লোকজন হয়। আব্দুস ছুবহানের বাড়ির সীমানা নিয়ে আসামীদের সাথে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এর জের ধরে ২০১১ সালের ৩০ মে রাত ৮টার দিকে স্থানীয় ভবানীগঞ্জ বাজারের মধ্য হারুনুর রশিদ, ও তার বড় ভাই গোলাম মোস্তফা গংরা আব্দুস ছুবহানের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় তারা মৃত্যু নিশ্চিত করতে হারুনুর রশিদ ও তার সহোদর মোস্তফা তাকে তার তলপেটে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে এবং অন্য আসামিরা রুল দিয়ে আব্দুস ছুবহানকে আঘাত করে গুরুতর আহত করে। তৎক্ষনাত বাজারের লোকজন এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় আব্দুস ছুবহানকে উদ্ধার করে স্থানীয় ও তার স্বজনরা সিলেট ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে আসার পথে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মামুন রশিদ বাদি হয়ে পরদিন কানাইঘাট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার নং- ২৪ (৩১-০৫-২০১১)।
দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০১৬ সালের ১৫ জানুয়ারি কানাইঘাট থানার এসআই সম্রাজ মিয়া ৬ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে এ মামলার চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন এবং একই বছরের ১২ জুলাই চার্জগঠনের মধ্য দিয়ে আদালতে এ মামলার বিচারকার্য শুরু হয়।
অত্র আদালতের এপিপি এডভোকেট নিজাম উদ্দিন বলেন, মামলায় দীর্ঘ শুনানী শেষে ২৩ জন সাক্ষির মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে প্রমাণের ভিত্তিতে আদালতের বিচারক ১৮৬০ সালের পেনাল কোড এর ৩০২ ধারায় হারুনুর রশিদকে মৃত্যুদন্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন এবং তার সহোদর গোলাম মস্তফাকে প্যানেল কোড এর ৩২৪ ধারায় ৩ বছরের সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন এবং উল্লেখিত আসামীদেরকে শিশু রাসেলসহ ৪ জনকে বেকসুর খালাস প্রদান করেছেন।
আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন এডভোকেট আব্দুল গফফার ও এড: আব্দুল মওদুদ এবং পলাতক আসামিদের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স হিসেবে আইনজীবী ছিলেন আসমা বেগম।