আমদানি করা মাছের সঙ্গে জীবাণু ঠেকাতে নতুন আইন হচ্ছে

কাজিরবাজার ডেস্ক :
আমদানি করা মাছের সঙ্গে যে কোনও ধরনের ক্ষতিকারক জীবাণু ঠেকাতে ‘ মৎস্য সঙ্গনিরোধ আইন, ২০১৮’ নামে একটি নতুন আইনের খসড়ার অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
সোমবার (০২ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তার তেজগাঁওস্থ কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। আগে দেশে এ ধরনের কোনও আইন ছিল না।
মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব মোহম্মদ শফিউল আলম জানিয়েছেন, মাছ আমদানির সময় কোনও ক্ষতিকারক জীবাণু যাতে না আসে তা ঠেকাতে এই মুহুর্তে দেশে কোনও আইন নেই, এজন্য নতুন আইনটা করা হচ্ছে। এই আইনের অধীনে একটি সঙ্গনিরোধী কর্তৃপক্ষ হবে, এই দায়িত্ব পালন করবে মৎস্য অধিদফতর।
প্রস্তাবিত আইনে মৎস্য বলতে সব ধরনের কোমল ও কঠিন অস্থিবিশিষ্ট মাছ, স্বাদু ও লবণাক্ত পানির চিংড়ি, উভচর জলজ প্রাণী, কচ্ছপ, কুমির, কাঁকড়া জাতীয় প্রাণী, শামুক বা ঝিনুক জাতীয় জলজ প্রাণী, ব্যাঙ বা সরকারি প্রজ্ঞাপন দ্বারা ঘোষিত জলজ প্রাণীকে বোঝাবে।
সচিব বলেন, পুলিশ, র‌্যাব, কাস্টমস, বিজিবি, কোস্টগার্ড, ডাক বিভাগ, বন্দর কর্তৃপক্ষ, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, রেলওয়ে, শিপিং এজেন্সিসহ সমজাতীয় এজেন্সিগুলোর কর্মকর্তা এই আইনের পরিপন্থী কার্যক্রম রোধ করতে পারবেন।
প্রস্তাবিত আইনের অধীনে অনুমতি ছাড়া মৎস্যপণ্য আমদানি করলে সর্বনিম্ন এক বছর ও সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড অথবা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড দেওয়া হবে।
শফিউল আলম জানান, কোনও কোম্পানির পরিচালক, অংশীদার, ম্যানেজার বা অন্য কোনও কর্মকর্তা অনুমতি ছাড়া মৎস্যপণ্য আমদানি করলে ব্যক্তির অপরাধের মতো একই সাজা পাবেন।
অন্য দেশ থেকে বাংলাদেশে মৎস্যের রোগ-জীবাণু অনুপ্রবেশ ও বিস্তার রোধকল্পে মৎস্য, মৎস্যপণ্য, উপকারী জীবাণু বা প্যাকিং দ্রব্যাদির আমদানি নিয়ন্ত্রণ করাসহ কর্তৃপক্ষকে ১০টি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ সংক্রান্ত কোনও অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি আপিল করতে পারবে যা ৯০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে বলেও আইনে বলা হয়েছে।