বাজার নিয়ন্ত্রণে অভিযান আবশ্যক

অসৎ ব্যবসায়ীদের কাছে ধর্ম নয়, মুনাফাই মুখ্য। তাই রোজার মাস তাঁদের জন্য আলাদা বা বিশেষ কোনো অর্থ বহন করে না। বরং সাধারণ মানুষের ধর্মানুভূতি ও প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তাঁদের জন্য বরতুল্য হয়ে ওঠে; তাঁরা চুটিয়ে ব্যবসা করেন। চাহিদা-সরবরাহের প্রসঙ্গ তুলে নিয়ম-নীতি, বাজারদরের তালিকা দূরে ঠেলে রাখেন। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অন্য দেশে যা ঘটে না, তা ঘটে বাংলাদেশে। প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম হু হু করে বেড়ে যায়। জনকল্যাণ বা জনসেবা সব ছেঁদো কথা। যত কায়দায় মুনাফার সর্বোচ্চকরণ সম্ভব, তা তাঁরা করেন। তাই মাংসে পানি ঢুকিয়ে ওজন বাড়িয়ে মুনাফা অর্জনের সুযোগ তাঁরা ছাড়বেন কেন? মাছে-সবজিতে রাসায়নিক ভেজাল মেশাবেন না কেন? বাস্তবে তা-ই তাঁরা করছেন, এ নিয়ে ভোক্তার অভিযোগের শেষ নেই। এই নীতিহীন ব্যবসায়ীরা আবার বণিক সংঘগুলোর নেতৃত্বেও ঢুকে পড়েছেন। ফলে সৎ ব্যবসায়ীরা ইচ্ছা থাকলেও মুনাফাবাজির চক্র থেকে বেরোতে পারেন না। বেরোতে চাইলে সমিতি বেঁকে বসবে। অসততাই এখন রীতি। সৎ থাকেন বা থাকার চেষ্টা করেন কিছু বোকা লোক।
রাজধানী সহ দেশের বিভিন্ন বিক্রয় কেন্দ্রে পচা মাংস বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। ওজন বাড়ানোর জন্য মাংস পানিতে চুবানো হয়, এ অভিযোগও প্রবল। রোজার শুরু থেকেই অভিযোগ উঠছে, সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত মূল্য অমান্য করে গরুর মাংস ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা ও খাসির মাংস ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হয়; ওজনেও কম দেওয়া হয়। অবশেষে সেখানে একটি অভিযান হয়েছে। ক্রেতাদের অভিযোগের ভিত্তিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালায়। র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে অভিযোগের প্রত্যক্ষ প্রমাণ পান। আদালতের সঙ্গে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) প্রতিনিধি ও জেলা বাজার নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তারা ছিলেন। সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে অভিযান চালানো হয়। প্রতারণা ও বাজারদর অমান্য করায় কারাদণ্ড এবং জরিমানা করা হয়।
বাজারদর কখনোই মানা হয় না। রোজার মাস এলে চাহিদা-সরবরাহের ফারাক দেখিয়ে ইফতারসামগ্রীর জন্য জরুরি পণ্যগুলোর দাম আরেক দফা বাড়ানো হয়। সেই সঙ্গে বাজারে ভেজাল পণ্য ছাড়া হয়। তবে এ সময়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কিছু অভিযান চালায় এটাই ভরসা। অভিযানের সংখ্যা বাড়লে আরো ভালো হয়। আর সারা বছরই যদি এ মাত্রায় অভিযান চলত, তাহলে ভোক্তাসাধারণ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারত। আমরা আশা করি, অন্তত রোজার মাসে বাজার মনিটরিং ও অভিযান ঠিকমতো চলবে এবং প্রতারক ও মুনাফালোভী ব্যবসায়ীদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।