তাহিরপুরে হাওরে-হাওরে ধানের চারা সংগ্রহে ব্যস্ত শিশু কিশোর, প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে উপস্থিতি কম

বাবরুল হাসান বাবলু তাহিরপুর থেকে :
বোরো ধান রোপণ মৌসুমে তাহিরপুরের হাওরে-হাওরে ধানের চারার আটি তৈরীতে ব্যস্ত থাকায় শিশু কিশোর প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে উপস্থিতি কম গেছে। সখের বসে, অনেকে কৃষক বাবাকে সাহায্য করতে আবার অনেকে দরিদ্র বাবা মায়ের সংসারে ক’টা টাকা হাতে তুলে দিতে প্রচন্ড শীতকে উপেক্ষা করে ধানের চারা সংগ্রহের কাজটি করছে। উপজেলার শনি, মাটিয়ান, মহালিয়া, ধরুন, আঙ্গারুলি সহ সব হাওরপারেই বর্তমানে একই চিত্র। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চারা জমিতে চারা সংগ্রহের কাজ করছে হাজারো শিশু কিশোর। এ শিশুদের অধিকাংশ হাওরপারের বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী।
সরজমিন শনির হাওরে উজান তাহিরপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, শত-শত শিশু ধানের চার সংগ্রহে ব্যস্ত রয়েছে বিভিন্ন চারা জমিতে। এদের মধ্যে কথা হয় উজান তাহিরপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী প্রমিতা, সাইমুল মধ্য তাহিরপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মিনহা, মোক্তাকিন সহ অনেকের সাথে। তাদের মতে এই সময়টাতে তাদের বিদ্যালয়ে তেমন পাঠদান হয় না। সেই সাথে বোরো ধান রোপণ মৌসুম থাকায় বাবা মায়েদের পক্ষ থেকেও কোন চাপ না থাকায় এ সময়টা তারা ধানের চারা সংগ্রহ করে থাকে। যে দিন নিজেদের ধানের চারা সংগ্রহের কাজ থাকে সেদিন নিজেদের কাজ করে না থাকালে অন্যের বোরো ধানের চারা সংগ্রহ করে প্রতিটি শিশু কিশোর। প্রতিটি চারার আটি থেকে তারা ক্ষেত্র বিশেষ এক থেকে দেড় টাকা পায়। বোরো ধান রোপণের মৌসুম থাকে ১৫ থেকে ২০ দিন। এ ১৫-২০ দিন তারা অনকেটা আনন্দের সাথে প্রতি দিন সকাল ৭ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত ধানের চারা সংগ্রহের কাজ করে। কেহ ৩০ টি, কেহ ৫০ টি, কেহ ১০০ টি ধানের চারার আটি সংগ্রহ করে থাকে। ১৫-২০ দিন তাদের অনকেটা আনন্দেই কাটে বলে শিক্ষার্থীরা জানায়। তারা আরও জানায় এ সময় তারা বিদ্যালয়ে যেতে না পারলেও পরবর্তীতে তারা আবারো তাদের বিদ্যালয়ে নিয়মিত লেখা-পড়ায় ফিরে যায়।
শনি হাওর উজান তাহিরপুর গ্রামের কৃষক আবুল কালাম, ইউনূছ আলী সহ একাধিক কৃষক জানান, বোরো ধান রোপণের মৌসুমে হাওর পারের কৃষক পরিবারে নারী-পুরুষ,শিশু প্রত্যেকেই কম বেশী ব্যস্ত হয়ে পড়েন। সে ক্ষেত্রে শিশুরা তাদের অনেক সাহায্য করে থাকে। তাদের মতে একজন পূর্ণ বয়স্ক ব্যক্তি যা করতে পারে অনেক ক্ষেত্রে শিশুরাও তাই করতে পারে, আর এ থেকেই শিশুরা এ ব্যস্ত সময়ে ধানের চারা সংগ্রহের কাজটি করছে।
উজান তাহিরপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাকসুম আহমেদ বলেন, বোরো ধান রোপণ মৌসুমে ১০/১৫ দিন বিদ্যালয়ে কিছুটা ছাত্র উপস্থিতি কমে যায়। তিনি আরও জানান, এক সময় বড়রা ধানের চারা আটি তৈরীর কাজটি করলেও এখন ছোটরাই এ কাজটি করছে।
শ্রীপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসিমা আক্তার বলেন, বোরো ধান রোপণের মৌসুমে শিশুরা তাদের বাবা-মা কে কৃষি-কাজে সাহায্য করে যে কারণে নতুন বছরের শুরুতে কয়েকদিন বিদ্যালয় গুলোতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি একটু কম থাকে।