সিলেটের ১৯টি আসনে বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থীসহ ২৬ জনের মনোনয়ন প্রত্যাহার

স্টাফ রিপোর্টার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে সিলেটের ১৯টি আসনে বিএনপি, এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ২৬ জন সংসদ প্রার্থী তাদের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিনে সিলেট বিভাগের চার জেলার রিটানিং কর্মকর্তাদের দেয়া তথ্যনুযায়ী সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার ২৬ জন সংসদ সদস্য প্রার্থী তাদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন।
তাদের মধ্যে সিলেট জেলা জেলায় বিএনপি ও এনসিপির প্রার্থীসহ ১১ জন তাদের প্রার্থীতা বাতিল করেছেন, তাদের মধ্যে সিলেট-১ আসন থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপির) এহতেশামুল হক ও খেলাফত মজলিসের প্রার্থী তাজুল ইসলাম হাসান, সিলেট-২ আসন থেকে গণঅধিকার পরিষদের জামান আহমেদ সিদ্দিকী ও জামায়াতে ইসলামীর মো. আব্দুল হান্নান, সিলেট-৩ আসন থেকে খেলাফত মজলিসের দিলওয়ার হোসাইন, জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা লোকমান আহমদ ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)’র নুরুল হুদা জুনেদ, সিলেট-৪ আসন থেকে খেলাফত মজলিসের আলী হাসান ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)’র মো. রাশেদ উল আলম, সিলেট-৫ আসনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন জামায়াতে ইসলামের হাফিজ মো. আনওয়ার হোসাইন খান এবং সিলেট-৬ আসন থেকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন বিএনপির ফয়সল আহমদ চৌধুরী।
এদিকে, সুনামগঞ্জ-১ থেকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী হিসেবে হাজী মুখলেছুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. রফিকুল ইসলাম চৌধুরী, সুনামগঞ্জ-২ আসন থেকে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রার্থী মনোনীত প্রার্থী শোয়াইব আহমদ ও খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মো. সাখাওয়াত হোসেন, সুনামগঞ্জ-৩ আসন থেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ইয়াসীন খান, সুনামগঞ্জ-৪ আসন থেকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে মোহাম্মদ আজিজুল হক, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) থেকে মো. মাহফুজুর রহমান খালেদ ও সুনামগঞ্জ-৫ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী তার প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেছেন।
হবিগঞ্জে ৪ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন হবিগঞ্জ-১ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মো. শাহজাহান আলী, হবিগঞ্জ-২ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ মনোনীত প্রার্থী নোমান বিন সাদিক, হবিগঞ্জ-৩ আসনে গণঅধিকার পরিষদের মনোনীত প্রার্থী এডভোকেট চৌধুরী আশরাফুল বারী নোমান এবং হবিগঞ্জ-৪ আসনে এবি পার্টির মনোনীত প্রার্থী মোকাম্মেল হোসেন।
অন্যদিকে মৌলভীবাজার জেলায় ৪ জন সংসদ সদস্য প্রার্থী তাদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। প্রার্থীরা হলেন, মৌলভীবাজার-১ আসনে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী লোকমান আহমদ, মৌলভীবাজার-৩ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মোহাম্মদ লুতফর রহমান কামালী এবং মৌলভীবাজার-৪ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুর রব।

মাঠ, মঞ্চ সব একই আছে নেই শুধু খালেদা জিয়া

  • আজ আসছেন তারেক রহমান

সোয়েব বাসিত

দীর্ঘ ২০ বছর পর পূর্ণ্যভ‚মি সিলেটের মাটিতে পা রাখছেন তারেক রহমান। সাবেক ৩ বারের প্রধানমন্ত্রী মা বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর ২১ দিনের মাথায় তাঁর এ সিলেট সফর। বেগম খালেদা জিয়া সর্বশেষ ২০১৮ সালে বিএনপির চেয়ারপার্সন হিসেবে সিলেট সফরে এসেছিলেন। এই হিসেবে মায়ের সফরের ৭ বছর পর ছেলে তারেক রহমান আজ ২১ জানুয়ারি সিলেট আসছেন। আগামীকাল বৃহস্পতিবার ২২ জানুয়ারি বেলা ১১টায় সিলেটের ঐতিহাসিক আলিয়া মাদরাসা মাঠে বিএনপি আয়োজিত বিশাল জনসভায় ভাষন দেবেন। ধারণা করা হচ্ছে স্মরণাতীত কালের মধ্যে এটি হতে যাচ্ছে বিএনপির সর্ববৃহৎ জনসমাবেশ। পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমানের সিলেট সফর দেশের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে নিঃসন্দেহে। তারেক রহমানের সফরকে কেন্দ্র করে উচ্ছৃসিত দলের তৃণমূল থেকে শীর্ষ পর্যায়ে নেতাকর্মীরা। প্রবল আগ্রহ নিয়ে সাধারণ মানুষও মুখিয়ে আছেন তারেক রহমানের সিলেট সফর ও সমাবেশকে ঘিরে। দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে দেশে ফেরা, ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকো ও সাবেক ৩ বারের প্রধানমন্ত্রী মা বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর তারেক রহমানের সিলেট সফরকে কেন্দ্র করে বাড়তি উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। সর্বত্রই যেন সাজ সাজ রব। পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন আর তুরণে ছেয়ে গেছে গোটা নগরী। নেওয়া হয়েছে ছয় স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
তারেক রহমানের সিলেট সফরে বাড়তি উৎসাহ উদ্দিপনা যোগ করেছে তার শশুর বাড়ি। তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানের বাড়ি সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় সিলামের বিরাহীমপুরে। সাবেক বিমান বাহিনীর প্রধান মরহুম রিয়াল এডমিরাল মাহবুব আলী খান তারেক রহমানের শশুর।
এ কারণে অনেকেই তারেক রহমানের এ সফরকে ‘সিলেটী জামাইয়ের’ সিলেট সফর হিসেবেও দেখছেন। দেশে ফেরার আগে লন্ডনে তারেক রহমান সর্বশেষ এক সংবর্ধনায় নিজেকে ‘হাফ সিলেটি” বলেও উল্লেখ করেছিলেন। তার এ কথায় তখন সংবর্ধনা সভার হল রুম জুড়ে উপস্থিত নেতা কর্মীরা তুমুল করতালি দিয়ে সাদরে গ্রহন করেন। সব মিলিয়ে তারেক রহমানের সিলেট আগমন দলীয় সকল দ্ব›দ্ব, গ্রæপিং আর সংঘাতকে পেছনে ফেলে সিলেট বিএনপিকে এ মুহুর্তে এক ফ্রেমে বন্দি করেছে।
গত ১২ জানুয়ারি দলের পক্ষথেকে তারেক রহমানের সিলেট আগমনের পূর্ণাঙ্গ সূচি নিশ্চিত করা হয়েছে। কর্মসূচি অনুযায়ী, ২১ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। এরপর ২২ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হবে। ওই হিসেবে ২১ জানুয়ারি আকাশপথে সিলেটে পৌঁছানোর পরের দিন ২২ জানুয়ারি হজরত শাহজালাল ও হযরত শাহপরান (রঃ) মাজার জিয়ারত শেষে বেলা ১১টায় তিনি সিলেট নগরীর আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে প্রথম নির্বাচনী জনসভায় যোগ দেবেন। ওই জনসভায় সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার বিএনপি ও এর নেতৃত্বাধীন জোটের মনোনয়নপ্রাপ্ত সংসদ সদস্য প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হবে। জনসভা শেষে তিনি সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন। পথে মৌলভীবাজারের শেরপুর ও হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে আরও দুটি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন তারেক রহমান। এসব জনসভায় ও সংশ্লিষ্ট জেলার সংসদ সদস্য প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হবে।

বিএনপির চেয়ারম্যান নিযুক্ত হওয়ার পর ঢাকার বাইরে এটিই হবে তারেক রহমানের প্রথম সফর। এই সফরের মধ্য দিয়ে তিনি তার দলের আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রমের যাত্রা শুরু করবেন। এর আগে উত্তরবঙ্গের কয়েকটি এলাকায় স্বাভাবিক সফরের উদ্যোগ নেয়া হলেও তা পরবর্তীতে বাতিল করা হয়।

২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমান যুক্তরাজ্যে দীর্ঘ নির্বাসিত জীবন শেষে সিলেট হয়েই দেশে ফেরেন। ঐদিন বিমানবন্দর থেকে সরাসরি তিনি ঢাকায় চলে যান। সিলেট বিমানবন্দরে নেতা-কর্মীরা এক মুহুর্তের জন্য তাকে দেখার সুযোগ পাননি। যার কারণে নেতা কর্মীদের মধ্যে কিছুটা হলেও আফসোস ছিল। আজকের সিলেট সফরের মধ্যদিয়ে নেতা কর্মীদের সেই আফসোস কিছুটা হলেও মিটবে বলে মনে করছেন তারা।

যুক্তরাজ্যে থাকাকালীন তারেক রহমান তাঁর ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোকে হারান। অকালে মারা যান ক্রীড়ামোদি কোকো। এরপর তাঁর মা বেগম খালেদা জিয়া কারাবরণ করেন। পরে সেখানেই তিনি গুরুতর অসুস্থ্য হয়ে পড়েন। ২০০৭ সালে তত্ত¡াবধায়ক সরকার আসার পর তারেক রহমানের জীবনের উপর বয়ে যায় একের পর এক রাজনৈতিক নিপীড়ন। কিশোর বয়সে পিতার মৃত্যু, প্রবাসে থেকে ভাইয়ের মৃত্যু, মায়ের জেল-জুলুম, অসুস্থ্যতা- তারেক রহমান জীবনের এমন কোনো কঠিন পরিস্থিতি নেই যে, তার মুখোমুখী হননি। প্রবাসে থাকাকালীন তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোয়াবদা রহমানও ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের রোষানলে পড়েন। ২০০৭ সালে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা একটি মামলায় গত বছরের আগস্টে ঢাকার একটি আদালত জোবাইদা রহমানকে তিন বছরের কারাদÐ এবং তারেক রহমানকে নয় বছরের কারাদÐ দেয়া হয়। অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপন করার অভিযোগে ২০০৭ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর কাফরুল থানায় করা এ মামলায় জোবাইদা রহমানের মাকেও আসামি করা হয়।

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রæয়ারি ছিল জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়কে ঘিরে ৫ ফেব্রæয়ারি সর্বশেষ সিলেট আসেন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া। হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের নারী ইবাদতখানায় কোরআন তেলাওয়াত, ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ দোয়া করেন তিনি। এরপর রাতে শাহপরান (রহ.) মাজার জিয়ারত করেন। রাত ১০টায় সিলেট সার্কিট হাউস থেকে খালেদা জিয়া গাড়িবহর নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। এটাই ছিল বেগম খালেদা জিয়ার সিলেটের শেষ সফর। ওইদিন খালেদা জিয়ার আগমনে সিলেট শহরে জনতার ঢল নামে। নারায়ণগঞ্জ থেকে সিলেটে আসার পথে তখনকার ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের ব্যাপক বাধার সম্মুখীন হন খালেদা জিয়া। পথে পথে তাকে স্বাগত জানাতে আসা দলীয় নেতাকর্মীদের আটক করা হয়। নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে অনেক জায়গায় নেতাকর্মীদের দাঁড়াতে দেয়নি পুলিশ। কোথাও কোথাও এ নিয়ে বিএনপি নেতাকর্মী ও পুলিশের মধ্যে সংঘাতের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে এসব ঘটনায় শতশত নেতাকর্মী পুলিশী হয়ারানি ও জেল-জুলুমের শিকারহন। তবে সব বাধা ডিঙ্গিয়ে বেগম খালেদা জিয়া সিলেট সার্কিট হাউজে যান। কিন্তু তখনকার ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও তাদের অনুগত প্রসাশন খালেদা জিয়ার সিলেট সফর ও সার্কিট হাউসে অবস্থানের ক্ষেত্রে প্রবল বাধার সৃষ্টি করে। এক পর্যায়ে বিএনপির সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা মাঠে নেমে আসলে ভেস্তে যায় ক্ষমাতাসীন দলের সকল বাধা বিপত্তি। এর আগে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ২০১৩ সালের ৪ অক্টোবর সিলেট সফর করেন বেগম খালেদা জিয়া। সে সময় আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে ২০ দলীয় জোটের এক বিশাল জনসভায় বক্তব্য দেন। এবারও সেই একই মাঠে জনসভা অনুষ্টিত হচ্ছে। বক্তব্য দেবেন বিএনপির চেয়ারম্যান হিসাবে তারই পুত্র তারেক রহমান। মাঠ, মঞ্চ, পরিবেশ সবই একই আছে নেই শুধু বেগম খালেদা।

এলাকায় আতঙ্ক : ‘ডেভিল মতিন খাঁ’ গ্রেপ্তার না হওয়ায় উদ্বেগ, পুলিশের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার

শহরতলীর খাদিম নগর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড সহ-সভাপতি, সদর উপজেলা তাঁতীলীগ ‘ডেভিল মতিন খাঁ’ এখনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার না হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মতিন খাঁ-সহ তার ছেলে ও অনুসারীরা এলাকায় প্রভাব বজায় রেখে নানা ধরনের অপকর্ম ও ভীতি সৃষ্টিমূলক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি মতিন খাঁ’র ছেলেরা প্রকাশ্যে তাদের বাবার আওয়ামী লীগের পদ-পদবি অস্বীকার করে দাবি করছেন যে তারা কোনো রাজনৈতিক কর্মী নন। তবে এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক পরিচয় অস্বীকার করলেও তাদের কার্যক্রমে কোনো পরিবর্তন আসেনি।
অভিযোগ রয়েছে, চোরাকারবারসহ বিভিন্ন অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর মতিন খাঁ ও তার সংঘবদ্ধ চক্র পুলিশের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা অপবাদ ছড়াচ্ছে এবং হয়রানিমূলক অপপ্রচার চালাচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করতেই এই ধরনের বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
এছাড়াও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে যে, সাংবাদিক পরিচয়ধারী কিছু ব্যক্তিÑযাদেরকে স্থানীয়রা ফ্যাসিস্ট ঘরানার বলে আখ্যা দিচ্ছেনÑএই অপকর্ম ও অপপ্রচারে সক্রিয়ভাবে সহায়তা করছেন। এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, তারা তথাকথিত সংবাদ পরিবেশনের আড়ালে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য ছড়িয়ে মতিন খাঁ ও তার অনুসারীদের পক্ষে জনমত গঠনের চেষ্টা করছেন।
এদিকে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে নানা তৎপরতা চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের মতে, মতিন খাঁর অনুসারীদের নিয়ে গঠিত ‘খাঁ বাহিনী’ এলাকায় ভয়ভীতি সৃষ্টি করছে, যার ফলে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন,
“অপকর্মের পাশাপাশি এখন মিথ্যা খবর ও অপপ্রচারের মাধ্যমে পুলিশ ও প্রশাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা চলছে। সাংবাদিক পরিচয়ে যারা এতে সহায়তা করছে, আইনের আওতায় এনে তাদের ভ‚মিকা তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।”
এ বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনের একটি সূত্র জানায়, সামগ্রিক পরিস্থিতি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তারা জানিয়েছেন।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, ডেভিল মতিন খাঁসহ তার ছেলে ও অনুসারিদের অতিসত্ত¡র গ্রেফতারের মাধ্যমে এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা হবে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা ফিরে আসবে।

সাহেবেরবাজারে আসামি গ্রেফতার করতে গিয়ে ৫ পুলিশ সদস্য আহত

স্টাফ রিপোর্টার
শহরতলীর খাদিমনগর ইউনিয়নের সাহেবেরবাজারে গ্রেফতারী পরোয়ানাভুক্ত ও নিয়মিত মামলার আসামি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ নেতা ডেভিল মতিন খাঁ’কে গ্রেফতার করতে গিয়ে এয়ারপোর্ট থানার ৫ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এসময় পুলিশের বহনকৃত একটি সিএনজি অটোরিকশাও ভাংচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল শনিবার (৬ ডিসেম্বর) দুপুর দেড় টার দিকে এসএমপি এয়ারপোর্ট থানার সাহেবেরবাজারের পাঠানগাঁও এলাকায় আসামি মতিন খাঁ’র বাড়ির সামনে এ ঘটনাটি ঘটে।
আহত পুলিশ সদস্যদের সিলেট ওসামনী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে গতকাল শনিবার বিকেল ৫ টার দিকে আহত পুলিশ সদস্যরা চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। আহতরা হলেন- এয়ারপোর্ট থানার এসআই বিধান কুমার দেব, এএসআই ফেরদৌস, এএসআই শওকত, কনেষ্টবল আবু বক্কর সিদ্দিক ও কনেষ্টবল আব্দুর রহিম।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতারী পরোয়ানাভুক্ত ও নিয়মিত মামলার আসামি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ নেতা মতিন খাঁকে গ্রেফতার করতে গতকাল শনিবার দুপুরের দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শহরতলীর সাহেবেরবাজারের পাঠানগাঁও এলাকায় ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্তকর্তার নির্দেশে এয়ারপোর্ট থানার এসআই বিধান কুমার দেবের নেতৃত্বে পুলিশের ৫ সদস্যের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়। এ সময় মামলার আসামি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ নেতা মতিন খাঁকে গ্রেফতার করলে আসামির সহযোগী বাহিনী ‘মব’ সৃষ্টি করে পুলিশের উক্ত ৫ পুলিশ সদস্যদের দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে আক্রমন করে এবং মারধর করে পুলিশের কাছ থেকে আসামিকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। তখন মতিন খাঁ’র বাহিনীর লোকজন পুলিশের বহনকৃত একটি সিএনজি অটোরিকশাও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে ভাংচুর করে। এসময় প্রাণ রক্ষার্থে পুলিশ সদস্যরা চলে আসতে সক্ষম হয়। পরে আহত এয়ারপোর্ট থানার এসআই বিধান কুমার দেব, এএসআই ফেরদৌস, এএসআই শওকত, কনেষ্টবল আবু বক্কর সিদ্দিক ও কনেষ্টবল আব্দুর রহিমকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে আহতরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ বক্সের দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা জানান।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে এয়ারপোর্ট থানার এসআই বিধান কুমার দেব বলেন- গতকাল শনিবার দুপুরে গ্রেফতারী পরোয়ানাভুক্ত ও নিয়মিত মামলার আসামি মতিন খাঁকে গ্রেফতার করতে সাহেবেরবাজারের পাঠানগাঁও এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এসময় আসামি মতিন খাঁ’র লোকজন ‘মব’ সৃষ্টি করে আমিসহ ৫ পুলিশ সদস্যকে মারধরে আহত করে আসামিকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। শুধু তাই নয় মতিন খাঁ’র লোকজন তখন আমাদের বহনকৃত একটি সিএনজি অটোরিকশাকে দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র দিয়ে ভাংচুর করে। পুলিশের কাজে বাঁধা ও পুলিশদের আহত হওয়ার অপরাধ জানিয়ে তিনি আরো বলেন- এ ঘটনায় পুলিশ মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এ ব্যাপারে এসএমপি পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন- এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন হলেও এর কালো ছায়া রয়ে গেছে : ডা. শফিকুর রহমান

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডাঃ শফিকুর রহমান বলেছেন, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদের পতন হলেও এর কালো ছায়া এখনো রয়ে গেছে। এক দল লুটপাট করে দেশে-বিদেশে বেগম পাড়া বানিয়েছে। খুন, গুম, জুলুম নিপীড়ন করেছে। শেষ পর্যন্ত জনরোষে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। কলাপাতায় শুয়েও কারো রক্ষা হয়নি। আরেক দল খুনোখুনি করে নিজেদেরকেই শেষ করে দিচ্ছে। সিলেট থেকে ৮ দলের সমাবেশ শেষ হচ্ছে, এই সিলেট থেকেই বিজয়ের শুরু হবে। ইনশাআল্লাহ।
তিনি বলেন, ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে দেশ ফ্যাসিবাদ মুক্ত হলেও জুলাই আকাঙ্খা পূরণে তারা নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। তাদের সংস্কার ও গণভোটে আপত্তি। শেষ পর্যন্ত মানলেও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ভোটের দিনে গণভোট আয়োজনে সরকারকে বাধ্য করেছে। তারা শুধু নির্বাচন চেয়ে পাগল হয়েছিলেন। এখন তাদের কেউ কেউ নির্বাচন পেছানোর জন্য ভিন্নসুরে কথা বলছেন। নির্বাচন নিয়ে কোন টালবাহানা জনগণ মেনে নিবেনা।
তিনি গতকাল শনিবার বিকেলে সিলেটের ঐতিহাসিক আলিয়া মাদ্রাসা ময়দানে ইসলামী ও সমমনা ৮ দলের সিলেট বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন। মূল সমাবেশ বেলা ২টা থেকে শুরু হলেও বেলা ১১টা থেকেই শুরু হয় আলিয়া মাদ্রাসা মাঠ মুখী জনস্রোত। বেলা ১টার আগেই মাঠ লোকে লোকারন্য হয়ে আশপাশের এলাকা জনস্রোত ছড়িয়ে পড়ে। জাতীয় নির্বাচনের আগে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশের ওপর গণভোট, নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডসহ পাঁচ দাবি ও গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বিজয় নিশ্চিতে অনুষ্ঠিত সিলেট বিভাগীয় সমাবেশে ৮ দলের নেতাকর্মীরা নিজ নিজ দলের প্রতীক সম্বলিত ব্যানার, ফ্যাস্টুন ও প্লেকার্ড হাতে ¯েøাগানে মুখর হন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমীরে জামায়াত বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও জাতির আশা আকাঙ্খা পূরণে দেশপ্রেমিক ইসলামী ও সমমনা ৮ দল মাঠে রয়েছে। আমাদের যেসব ইসলামী দলের ভাইয়েরা এখনো বাকী রয়েছেন, আপনাদেরকেও আমাদের সাথে আসার অনুরোধ করছি। এটা আপনাদেরই আঙ্গিনা, আপনাদের স্বাগত জানাতে আমরা সর্বদা প্রস্তুত। আপনারা ইসলামী ও দেশপ্রেমিক দলের নেতা হয়েও কেনো চাঁদাবাজ ও দখলদারদের অপবাদ নিতে যাবেন। তাই আপনাদেরকে ইসলাম ও দেশের স্বার্থে ফিরে ৫ দফা দাবীর আন্দোলনে শামিল হওয়ার আহŸান জানাচ্ছি। আপনাদের নিয়েই আমরা সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজমুক্ত মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে চাই। সিলেটের মানুষ অতীতেও আওয়ামী লীগকে লাল কার্ড দেখিয়েছিলো। জুলাই গণঅভ্যুত্থানেও সিলেট গর্জে উঠেছিল। এই সিলেটের মাটিতেই ৮ দল সর্বশেষ সমাবেশ বাস্তবায়ন করেছে।
ডা: শফিকুর রহমান বলেন, আমাদেরকে বিভিন্ন শক্তির ভয় দেখানো হয়। যারা হাসিমুখে ফাঁসির রশি গলায় পড়ে তাদেরকে ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। আমরা আল্লাহ ছাড়া কাউতে পাত্তা দিতে চাইনা। জুলুম, চাঁদাবাজী ও দখলবাজি বন্ধ করুন। জনগণ আর এসব বরদাশত করবেনা। মানবিক বাংলাদেশে আর কাউকে ফ্যাসিবাদী আচরণ করতে দেয়া হবেনা। কারণ জনগণ আজ জেগে উঠেছে। জনতার বিজয় হবেই।
খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা আব্দুল বাসিত আজাদের সভাপতিত্বে ইসলামী ও সমমনা ৮ দল সিলেট জেলা ও মহানগর নেতৃবৃন্দের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর সৈয়দ মোঃ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর শায়খ মাওলানা মামনুল হক, খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় মহাসচিব মাওলানা আহমদ আবদুল কাদের, জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল মাওলানা এটিএম মাছুম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ প্রফেসর মাওলানা মুহাম্দ ইউনুছ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা রেজাউল করিম জালালী, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমীর মাওলানা হাবীবুল্লাহ মিয়াজী, নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুল মজিদ আতাহারি, বাংলাদেশ ডেভোলাপমেন্ট পার্টি-বিডিপির সভাপতি এডভোকেট এ.কে.এম আনোয়ারুল হক চান, জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ও জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট-জাগপার সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতী সৈয়দ মোঃ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, আজকে বাংলাদেশের মধ্যে ৫৪ বছর ধরে যারা আমাদেরকে জিম্মি করে রেখেছিল, তাদেরও চরিত্র আমরা দেখেছি। যে তারা নিজেদের কাছে নিজেরা নিরাপদ নয়, আজকে তারা নিজেরা নিজেদের খেয়ে ফেলছে। আমার দুঃখ হয়, আজকে এত গুম হল, এত খুন হলো, লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মী যুগ যুগ পর্যন্ত তাদের জীবনকে বিপন্ন করলো জেলের মধ্যে। আমাদের দাবী ছিল, ৫ই আগস্টের অভ্যুত্থানের খুনীদের বিচার হবে, এই খুনীদের লক্ষ, কোটি টাকা পাচারকারীদের বিচার হবে। এরপরে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডে নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি হবে। কিন্তু, আমরা দেখে হতবাক, আজকে সংস্কারে বাঁধা, দৃশ্যমান বিচারে বাঁধা, নির্বাচনের জন্য যেন তারা পাগল হয়ে গিয়েছিল, আজকে যখন তারা দেখেছে বাংলাদেশের জনগণ ফ্যাসিস্টদের পক্ষে এবং জালেম-চাঁদাবাজদের পক্ষে নয়, ওদের বিরুদ্ধে অবস্থান করেছে। এখন ওরা পাগল হয়ে গেছে আজকে নির্বাচনকে আবার পেছানোর জন্য। কিন্তু, আমরা পরিষ্কার বলবো- রাশি যখন বামে ঘুরে, তখন যত পরিকল্পনা সব বামেই যায়। আপনারা যত শয়তানি পরিকল্পনা করবেন, ততই আপনারা বাংলাদেশের জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হবেন তাতে কোনো সন্দেহ নাই।
তিনি বলেন, ৫৩ বছর আমাদেরকে যারা জিম্মি করে রেখেছিল, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদেরকে ৫ই আগস্ট স্বাধীনতা দান করেছেন। এই স্বাধীনতার ফসল যারা আমরা দেশপ্রেমিক রয়েছি, যারা আমরা জনতাপ্রেমী রয়েছি, যদি আমরা ভুল করে থাকি, যদি আমরা ব্যর্থ হই, যখন ইতিহাস আমাদের প্রজন্ম লিখবে, তখন কলঙ্কজনক ইতিহাস আমাদের জন্য লিখবে। এই জন্য আমি সকলকে উদ্ধাত্ত আহবান জানাবো, আসেন আমরা যারা দেশপ্রেমিক রয়েছি, ক্ষমতাপ্রেমিকদেরকে, চাঁদাবাজদেরকে আমাদের দেশের টাকা যারা বিদেশে পাঁচার করে, তাদেরকে আমরা না বলার মাধ্যমে আমরা বাংলার জমিন থেকে চিরতরে উৎখাত করে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর শায়খ মাওলানা মামনুল হক বলেন, দেশে ইসলাম প্রতিষ্ঠার আন্দোলন করতে গিয়ে, বিদেশী আধিপত্যবাদী শক্তির বাংলাদেশী ক্রীড়নকদের হাতে ইসলামী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ নিপীড়িত হয়েছেন, কারানির্যাতিত হয়েছেন, ফাঁসির কাষ্ঠে বরণ করেছেন, জেলজুলুমের শিকার হয়েছেন, রক্ত দিয়েছেন, জীবন দিয়েছেন। তবুও অন্যায়ের সামনে, জুলুমের সামনে মাথানত করে নাই। তাই, আজ যখন জুলাই বিপ্লবের মধ্যে দিয়ে ফ্যাসিবাদী শক্তি বিতাড়িত হয়েছে, বাংলাদেশ বিরোধী বিদেশী আধিপত্যবাদী শক্তি তারা আবার বাংলাদেশে নতুন আরেক শক্তির ঘাড়ে সওয়ার হওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। আমরা পরিষ্কার ভাষায় বলতে চাই, জীবন দিয়ে জুলাই যোদ্ধারা বাংলার মাটি থেকে যেই ফ্যাসিবাদ এবং বিদেশী কায়েমি শক্তিবাদীকে উৎখাত করেছে, বাংলার মাটিতে নতুন কোনো ফ্যাসিবাদীকে জায়গা করতে দিবে না, ইনশাআল্লাহ।
তিনি বলেন, আমাদেরকে মনে রাখতে হবে, ২০২৬ সালের যে নির্বাচন, এটি শুধু প্রতীকের নির্বাচন নয়, এটি জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্য ঐতিহাসিক গণভোটের নির্বাচন। তাই ৮ দলের নেতাকর্মীরা প্রতি ঘরে ঘরে, প্রতি জনে জনে নিজেদের দলীয় প্রতীকের পাশাপাশি গণভোটের ‘হ্যা’কে বিজয়ী করতেও কাজ করতে হবে। মনে রাখতে হবে, জুলাই সনদকে কেন্দ্র করে আজ বাংলাদেশ আজ দুই শিবিরে বিভক্ত হয়েছে। একটি পক্ষ যে কোনো বাহানায় জুলাই সনদকে এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সংস্কার কার্যক্রমকে ব্যাহত করতে চায়। তারা চিন্তা করে বিগত সময়ে, বছরের পর বছর, একদল শাসন করেছে, আগামীতেও কোনো দল বছরের পর বছর একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েমের মধ্যে দিয়ে বাংলার সম্পদ লুটপাট করবে, মানুষের রাজনৈতিক অধিকার খর্ব করবে। আমরা বার্তা দিতে চাই, জুলাই সনদের বিপক্ষে যারা না বাক্সে ভোট দেওয়ার জন্য ক্যাম্পেইন করবে, বাংলার মানুষ তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করবে, প্রত্যাখ্যান করবে। ইনশাআল্লাহ।
বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমীর মাওলানা হাবীবুল্লাহ মিয়াজী বলেন, একটি দল ইসলামী দলের সাথে সব সময় প্রতারণা করে আসছে। তারা শরিয়া আইনে বিশ্বাস করেনা। এদের সাথে ইসলামী দলের কোন সম্পর্ক থাকতে পারবেনা। আগামী ইসলামী ও সমমনা ৮ দলের প্রার্থীদের বিজয়ী করে তাদের শিক্ষা দিতে হবে।
বাংলাদেশ ডেভোলাপমেন্ট পার্টি-বিডিপির সভাপতি এডভোকেট এ.কে.এম আনোয়ারুল হক চান বলেন- দেশের সবগুলো বিভাগীয় সমাবেশের মাধ্যমে স্পষ্ট বার্তা দেয়া হয়েছে। জুলাই বিপ্লবের স্বাধীনতার সুফলকে জাতির ঘরে পৌছে দিতে হবে। ইশ্বরদিতে কুকুর ছানা হত্যা নির্মম, এটার নিন্দা আমরাও জানাই। কিন্তু এটাকে নিয়ে মিডিয়ার অতিকথন উদ্দেশ্যপ্রনোদিত। অথচ সীমান্তে ভারতের মানুষ হত্যা নিয়ে মিডিয়া নিরব থাকা ঠিক নয়। আমরা স্বাধীন নিরপেক্ষ মিডিয়া চাই। বাংলাদেশ রুখে দাড়িয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অর্জন নিয়ে কোন ষড়যন্ত্র চলবেনা। প্রয়োজনে আবার জুলাই বিপ্লবের ডাক দেয়া হবে।
জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট-জাগপার সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান বলেন, আজকে বিভাগীয় পর্যায়ে সমাবেশ কর্মসূচী শেষ হয়েছে। নতুন করে জেগে উঠা জালিমরা যদি মনে করে ৮ দলের কর্মসূচী শেষ। তাদেরকে বলে দিতে চাই দেশে নতুন করে আর কোন ফ্যাসিবাদ তৈরী হতে দেয়া যাবেনা। ৮ দলের কর্মসূচী চলছে চলবে। জাতি ১৫ আগস্টে ফ্যাসিস্ট মুজিবের পতন, ৬ আগস্ট স্বৈরাচার এরশাদের পতন ও সর্বশেষ ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতন দেখেছে। আবার যদি কেউ ফ্যাসিস্ট হওয়ার স্বপ্ন দেখেন। তাদের জন্যও সামনে এই পতন অপেক্ষা করছে। বিজয়ের পদ যাত্রা শুরু, মাতৃভ‚মি অথবা মৃত্যু।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা রেজাউল করিম জালালী বলেন, ইসলামকে বিজয়ী করতে ৮ দলের জোট হয়েছে। আমাদের প্রত্যাশা বাকী সব ইসলামী দলও আমাদের সাথে আসবে।
নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুল মজিদ আতাহারি বলেন, নারায়ে তাকবির হচ্ছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা। এই চেতনাকে ভুলুন্টিত হতে হবে দেয়া হবেনা। প্রতীকের ভোটে ৮ দলের প্রার্থীকে এবং গণভোটে জুলাই সনদকে বিজয়ী করতে হবে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ প্রফেসর মাওলানা ইউনুছ আহমদ বলেন, অতীতে সরকার পরিবর্তন হলেও মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয় নাই। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরও দেশে চুরি, ডাকাতি, দুর্নীতি, চাঁদাবাজী বন্ধ হয়নি। এক জালিমের পরিবর্তন হলেও আরেক জালিমের আবির্ভাব হয়েছে। এথেকে জাতিকে মুক্ত করতে নেতা ও নীতির দরকার। আগামী নির্বাচনে ৮ দলের প্রার্থীদের বিজয়ী করতে হবে।
খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের বলেন, দেশে নতুন ফ্যাসিবাদ গজিয়ে উঠার ষড়যন্ত্র চলছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে মুছে দেয়ার আয়োজন চলছে। ২৪ এর বিপ্লবকে মুছে দিতে দেয়া যাবেনা। সব আলেম উলামাকে দেশপ্রেমের চেতনা উজ্জীবিত হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে নব্য ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে হবে।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল মাওলানা এটিএম মাছুম বলেন, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও চাদাবাজ মুক্ত মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে ৮ দলের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে হবে। আমরা রক্ত দিবো, জীবন দিবো, শহীদ হবো, তবু থামবোনা। এই দেশে চাঁদাবাজী ও দখলবাজি চলতে দেয়া হবেনা।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরী আমীর মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামের স্বাগত বক্তব্যের মধ্যে সুচীত সমাবেশের শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন হাফিজ মুহিউদ্দিন মোঃ নাকিব।
মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমীর ড. নুরুল ইসলাম বাবুল ও সেক্রেটারী মোহাম্মদ শাহজাহান আলী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সিলেট মহানগর সভাপতি ডা: রিয়াজুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস সিলেট মহানগর সভাপতি আলহাজ্ব মাওলানা এমরান আলম, খেলাফত মজলিস সিলেট মহানগর সভাপতি মাওলানা তাজুল ইসলাম হাসান, নেজামে ইসলাম পার্টির সিলেট মহানগর সভাপতি মাওলানা মোজাম্মেল হক, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন সিলেট জেলা সভাপতি মাওলানা নাসির উদ্দিন, জাগপা সিলেট মহানগর সভাপতি শাহজাহান আহমদ লিটন ও বাংলাদেশ ডেভোলাপমেন্ট পার্টি-বিডিপির সিলেট মহানগর সভাপতি কবির আহমদের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মুহাম্মদ মুনতাসির আলী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ মাদানী, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক মাওলানা মাহমুদুল হাসান, খেলাফত আন্দোলনের কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক মাওলানা মোহাম্মদ তৌহিদুজ্জামান, আতিকুর রহমান নান্নু মুন্সি, কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ খান, জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও সিলেট জেলা আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল আজিজ, খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় উলামা বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা আলী হাসান উসামা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় উলামা বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা রেজাউল করিম আবরার, নেজামে ইসলাম পার্টির কেন্দ্রীয় ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা এহতেশামুল হক সাকি, সিলেট অঞ্চল জামায়াতের টীম সদস্য হাফিজ আব্দুল হাই হারুন, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর হাফিজ আনওয়ার হোসাইন খান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিলেট জেলা সভাপতি মাওলানা সাঈদ আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস সিলেট জেলা সভাপতি মাওলানা মোঃ ইকবাল হোসাইন ও খেলাফত মজলিসের সিলেট জেলা সভাপতি মাওলানা নেহাল আহমদ প্রমূখ।
সভাপতির বক্তব্যে খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা আব্দুল বাসিত আজাদ বলেন, ভোট দিলেই দায়িত্ব শেষ হবেনা। ভোট রক্ষা করতে হবে। আমাদের বিশ্বাস দেশের সকল ইসলামী এবং দেশপ্রেমিক দলও আমাদের সাথে যোগ দিবে। আমরা অনেক দল ও জোট দেখেছি। এবার ইসলামকে ক্ষমতায় নিতে জোট করেছি। জুলাই শহীদের আশা আকাঙ্খা পূরণে ৮ দলের যুগপৎ কর্মসূচী অব্যাহত থাকবে। বিজ্ঞপ্তি

মেডিকেল বোর্ড সবুজ সংকেত দিলেই ঢাকায় আসবে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স

কাজির বাজার ডেস্ক

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এনামুল হক চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, মেডিকেল বোর্ড ‘সবুজ সংকেত’ দিলেই ঢাকায় আসবে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স। বিএনপির পক্ষ থেকে তিনিই কাতারের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক এই বিষয়ে যোগাযোগ রক্ষা করছেন। এনামুল হক চৌধুরী বলেন, ‘ম্যাডামের মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্তক্রমে কাতারের রয়েল অ্যাম্বুলেন্স বাংলাদেশে আসবে। সেই ভাবে তারা এখন প্রস্তুত রয়েছে।’ ‘এখন মেডিকেল বোর্ড যখনই সিদ্ধান্ত জানাবে তখনই এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ঢাকায় আসবে এবং ম্যাডাম বেগম খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডন নিয়ে যাবে। সব কিছুই কাতার কর্তৃপক্ষ অ্যারেজমেন্ট করেছে।’
জার্মানি থেকে অ্যাম্বুলেন্স আনার বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে খোলাশা করে তিনি বলেন, ‘জার্মানি থেকে অ্যাম্বুলেন্স এটা ঠিক আছে। আমরা নই, কাতার কর্তৃপক্ষই জার্মানি থেকে একটি অত্যাধুনিক এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের এরেঞ্জমেন্টটা করে দিচ্ছে।’
‘অর্থাৎ বিএনপি চেয়ারপারসন ও বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর জন্য রয়েল কর্তৃপক্ষের তত্ত¡াবধায়নে সব কিছু হচ্ছে। এখানে আমাদের কিছু নেই।’
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা আগের মতোই আছে। মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা ক্রিটিকাল কেয়ার ইউনিটে বেগম খালেদা জিয়াকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসার কাজ করছে।
একাধিক চিকিৎসকের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, বিএনপি চেয়ারপারসন এখনো ফ্লাই করার সমক্ষমতা অর্জন করেনি। সেজন্য লন্ডন যাত্রা বিলম্ব হচ্ছে। তবে তারা জানান, গত দুই দিনে মেডিকেল বোর্ড কিছু পরীক্ষা করেছে, তার প্রতিবেদনও তারা পর্যালোচনা করছেন। শুক্রবার দুই দফা মেডিকেল বোর্ডের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিদিনই বোর্ডের সভায় খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার নিয়মিত প্রতিবেদনগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
গত ২৩ নভেম্বর থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে মেডিকেল বোর্ড খালেদা জিয়ার চিকিৎসা দিচ্ছেন। এই মেডিকেল বোর্ডে তারেক রহমানের সহধর্মিনী ডা. জুবাইদা রহমানও সদস্য। শুক্রবার তিনি লন্ডন থেকে ঢাকায় এসেছেন খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডন নিয়ে যেতে।

আদর্শ সমাজ, প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হলে আগে নিজেকে গড়ে তুলতে হবে

আইডিয়াল মাদরাসার অভিভাবক সমাবেশে মাওলানা হাবীবুর রহমান

বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন ও রাজনীতিক সিলেট -১ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মাওলানা হাবীবুর রহমান বলেছেন, সংশোধন নিজে থেকে শুরু করতে হবে। নিজে আমল না করে উপদেশ দিলে ইতিবাচক প্রভাব পড়েনা। অভিভাবক ও শিক্ষকদের ক্ষেত্রে এ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, আমরা দুনিয়া ও আখেরাতের শান্তি ও কল্যাণ চাই। আমাদের সন্তানদের গড়ে তুলতে চাই। আদর্শ সমাজ, প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হলে আগে নিজেকে গড়ে তুলতে হবে।
বৃহস্পতিবার ৪ ডিসেম্বর সকালে সিলেট আইডিয়াল মাদরাসার অভিভাবক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত কথা বলেন।
মাদরাসার প্রিন্সিপাল ড. এ এইচ এম সোলায়মান এর সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদরাসার রেক্টর বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ জাহেদুর রহমান চৌধুরী, অভিভাবকদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন, বিশিষ্ট সাংবাদিক দৈনিক প্রভাতবেলা সম্পাদক কবীর আহমদ সোহেল।
মাদরাসার ভাইস প্রিন্সিপাল আহমদ হোসাইনের সঞ্চালনায় কুরআন তেলাওয়াত করেন ক্বারী আবু বকর।
প্রিন্সিপাল ড. এ এইচ এম সোলায়মান তাঁর বক্তব্যে শি মাদরাসার উন্নয়ন অগ্রগতিতে অভিভাবকদের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বলেন, এ মাদরাসার শিক্ষার্থীরা আজ মিশর মদীনাসহ দেশ বিদেশের খ্যাতিসম্পন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়ন করছে।
সাংবাদিক কবীর আহমদ সোহেল বলেন, ছাত্র শিক্ষক এবং অভিভাবক এই তিন শ্রেণির সমন্বয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সফল হয়। এই সফলতা ছাত্র শিক্ষক ও অভিভাবকদের। তিনি শিক্ষাদান ও পাঠদান কার্যক্রম নিয়ে আলোকপাত করে বলেন,শিক্ষকদের হীনমন্যতার উর্ধে থাকতে হবে। আইডিয়াল মাদরাসার পাঠদান ও শিক্ষাদান প্রক্রিয়া আরো গতিশীল করতে হবে।
অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- সিনিয়র শিক্ষক নাজিম উদ্দীন, ডে শিফটের ইনচার্জ মো ফারুক মিয়া, মাও হারুনুর রশিদ ও আহমদ আল মাসউদ প্রমুখ। সমাবেশে মাদ্রাসার সকল শিক্ষক ও বিপুল সংখ্যক অভিভাবক অংশ নেন।

ফ্যাসিস্টদের পূর্নবাসনের চেষ্টায় সক্রিয় আওয়ামী লীগ নেতা রহিম খাঁ ও মতিন খাঁ

স্টাফ রিপোর্টার

খাদিম নগর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডে অস্থিরতা ও উত্তেজনা বাড়ছে। অভিযোগ উঠেছে বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে অরাজকতা, দখলবাজি ও সংঘাত সৃষ্টির জন্য সমালোচিত ফ্যাসিস্টদের পুনরায় সক্রিয় করার চেষ্টা চলছে। এ কার্যক্রমের কেন্দ্রে রয়েছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ডেভিল রহিম খাঁ ও ডেভিল মতিন খাঁ।
স্থানীয় সূত্রের দাবি- ডেভিল রহিম খাঁ ও ডেভিল মতিন খাঁ তাদের সহযোগীদের নিয়ে গড়ে তোলা সন্ত্রাসী ‘খাঁ বাহিনী’র মাধ্যমে এলাকায় অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করা, গুপ্ত হামলা, ভীতি সঞ্চার ও নাশকতাসহ বিভিন্ন পরিকল্পনা সংগঠিত করে যাচ্ছে। জাতীয় নির্বাচন ঘনিয়ে আসতেই এই বাহিনীর তৎপরতা আরোও বেড়েছে। এতে সাধারণ বাসিন্দাদের মাঝে আতঙ্ক বাড়ছে এবং তারা নিরাপত্তাহীনতা বোধ করছেন।
স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এই দুই নেতা ডেভিল রহিম খাঁ ও ডেভিল মতিন খাঁ তাদের সহযোগী খাঁ বাহিনীকে নিয়ে এলাকায় গোপন বৈঠক, গ্রæপিং তৈরী, অনুসারিদের পুনরায় একত্রিত করাসহ নানা ধরনের কর্মকাÐে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ইতিমধ্যে খাঁ বাহিনী এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি, ভয়-ভীতি প্রদর্শন, বিশৃঙ্খলতার চেষ্টাসহ নানা অপকর্ম শুরু করেছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান- এই ‘খাঁ বাহিনী’ আমাদের এলাকার সবচেয়ে বড় সমস্যা। ২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের পর কিছুটা দমিয়ে গেলেও নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন তারা আরোও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে।
সূত্রে জানাগেছে, ডেভিল রহিম খাঁ, মতিন খাঁ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে এয়ারপোর্ট থানায় দখলবাজি, চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এছাড়াও রহিম খাঁ চিহ্নিত একজন মাদক ব্যবসায়ী। গত দুই বছর আগে ৪০ লিটার চোলাই মদসহ রহিম খাঁ তার ৪ সহযোগীসহ র‌্যাবের হাতে আটক হয়। তবে এসব মামলার পরও তারা প্রকাশ্যে তৎপর থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন এলাকার সাধারণ মানুষ। তাদের ভাষ্য- এলাকার স্থীতিশীলতা রক্ষায় চিহ্নিত এই সন্ত্রাসীদের অপতৎপরতা রোধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ জরুরি। যাতে পুরোনো অরাজকতার ছায়া আবারও এলাকায় ফিরে না আসে।
স্থানীয় সচেতন নাগরীকরা বলছেন- এভাবে পরিস্থিতি চলতে থাকলে আসন্ন নির্বাচন বানচালসহ জান-মালের বড় ধরনের ক্ষয়-ক্ষতির ঝুঁকি রয়েছে। এ ব্যাপারে প্রশাসনকে দ্রæত ব্যবস্থা নিতে দাবি জানান তাঁরা।
প্রশাসনের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হবে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রেহানা ৭, হাসিনা ৫ ও টিউলিপের দুই বছরের কারাদন্ড

কাজির বাজার ডেস্ক

পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে প্লট বরাদ্দে জালিয়াতির অভিযোগে দুদকের করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানার সাত বছর এবং তার মেয়ে ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিকের দুই বছরের কারাদÐ দিয়েছেন আদালত। গতকাল সোমবার ঢাকার বিশেষ জজ-৪ এর বিচারক রবিউল আলম এ রায় ঘোষণা করেন। এই মামলায় শেখ হাসিনাসহ অপর ১৫ আসামির পাঁচ বছর করে কারাদÐ ও এক লাখ জরিমানা করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদÐের পর গত ২৭ নভেম্বর শেখ হাসিনাকে প্লট বরাদ্দে জালিয়াতির পৃথক তিন মামলার মোট ২১ বছরের কারাদÐ দেওয়া হয়। একইসঙ্গে পৃথক দুই মামলায় হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের পাঁচ বছরের কারাদÐ দেওয়া হয়েছে। তারা এসব মামলায় পলাতক রয়েছেন।
এদিকে প্লট দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানা ও রেহানার মেয়ে ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিককে ইন্টারপোলের মাধ্যমে দেশে ফেরানো হবে বলে জানিয়েছেন দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) খান মুহাম্মদ মইনুল হাসান। গতকাল সোমবার ঢাকার বিশেষ জজ-৪ এর বিচারক রবিউল আলম মামলার রায় ঘোষণা করলে গণমাধ্যমকে দেওয়া এক ব্রিফিংয়ে তিনি একথা জানান।
রায়ে মামলার প্রধান আসামি শেখ রেহানার ৭ বছর, দ্বিতীয় আসামি টিউলিপের ২ বছর ও তৃতীয় আসামি শেখ হাসিনার ৫ বছরের কারাদÐ দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে প্রত্যেক আসামিকে এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদÐ দেওয়া হয়েছে।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় দুদকের পিপি মইনুল হাসান বলেন, এ রায় আমাদের প্রত্যাশা মতো হয়নি। আমরা সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন চেয়েছিলাম। দুদকের সাথে কথা বলে আমরা পরবর্তী ব্যবস্থা নেব।
পিপি আরও বলেন, যেসব দেশে শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, টিউলিপসহ অন্য আসামিরা পলাতক আছে সেসব দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগ করব। ইন্টারপোলের সহায়তায় তাদের দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা নেব আমরা। টিউলিপ একদিকে বাংলাদেশের নাগরিক, আবার যুক্তরাজ্যের নাগরিক। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আমরা টিউলিপের সাজার বিষয়টি অবহিত করব। আইনের যেসব প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে দেশে ফেরানো যায় সেসব প্রক্রিয়া আমরা সম্পন্ন করব।
তিনি আরও বলেন, টিউলিপ কখনো ফোন কল, কখনো অ্যাপস ব্যবহার করে শেখ হাসিনাকে প্লট বরাদ্দের জন্য ক্ষমতা প্রয়োগ করে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মচারীরা এসে এ বিষয়ে সাক্ষ্য দিয়ে গেছে। আমরা মামলাটি প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। তবে প্রত্যাশা অনুযায়ী রায় হয়নি।
এদিকে বিদেশে অবস্থান করলেও দেশে বিচারের সুযোগ আছে প্রসঙ্গ টেনে আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছেন, শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা ও তার মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিক পৃথিবীর যেখানে অবস্থান করুক। বিচার করতে বাধা নেই।
এছাড়া এ মামলায় ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন- জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পূরবী গোলদার, অতিরিক্ত সচিব অলিউল্লাহ, সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যানের পিএ মো. আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, তন্ময় দাস, মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, মেজর (অব.) ইঞ্জি. সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী, সাবেক পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক মাজহারুল ইসলাম, উপপরিচালক নায়েব আলী শরীফ, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন এবং সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ। তাদের মধ্যে আসামি খুরশীদ আলম কারাগারে আটক রয়েছেন। বাকিরা পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
গত ৩১ জুলাই এ মামলার চার্জগঠন করা হয়। বিচার চলাকালে এ মামলায় ৩২ জন আদালতে সাক্ষ্য দেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, সরকারের সর্বোচ্চ পদে থাকাকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের ওপর অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার করেন। তারা বরাদ্দ পাওয়ার যোগ্য না হওয়া সত্তে¡ও গরিব দেখিয়ে অসৎ উদ্দেশ্যে পূর্বাচল আবাসন প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরের ২০৩নং রাস্তার ৬টি প্লট শেখ হাসিনাসহ তার পরিবারের সদস্যদের নামে বরাদ্দ দেন।
টিউলিপের বিরুদ্ধে অভিযোগ : নিজের নামে প্লট বরাদ্দ না থাকলেও যে কারণে যুক্তরাজ্যের সাবেক সিটি মিনিস্টারে টিউলিপকে আসামি করা হয়েছে চার্জশিটে তার কারণ উল্লেখ করেছে দুদক। এতে বলা হয়েছে, ‘উৎস হতে প্রাপ্ত তথ্যাদি পর্যালোচনায় জানা যায় যে, আসামি টিউলিপ রিজওয়ানা যখন জানতে পারেন যে, তার খালা আসামি শেখ হাসিনা ক্ষমতা ব্যবহার করে তার নামে, তার ছেলে সজীব আহমেদ ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদের নামে পূর্বাচল নতুন শহরে প্রত্যেকে ১০ কাঠা প্লট বরাদ্দ নিচ্ছেন। তখন তিনি যুক্তরাজ্যের ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্য হিসেবে দায়িত্বপালনকালে একইসাথে তার মা রেহানা সিদ্দিক, বোন গতকাল মিনা সিদ্দিক ও ভাই রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিকের নামে একই প্রকল্পে প্লট বরাদ্দের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তার বিশেষ ক্ষমতা ব্যবহার করে খালা শেখ হাসিনার উপর চাপ প্রয়োগ ও প্রভাব বিস্তার করেন। এছাড়া চার্জশিটে বলা হয়, ‘প্লট বরাদ্দ নেওয়ার জন্য বোন শেখ হাসিনার কাছে আবদার করেন শেখ রেহানাও’।
প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে গত জানুয়ারিতে পৃথক ছয়টি মামলা করে দুদক। এ মামলাগুলোর মধ্যে ৪টি মামলার রায় ঘোষণা করা হলো। এর আগে প্লট দুর্নীতির তিন মামলায় গত ২৭ নভেম্বর শেখ হাসিনার ৭ বছর করে ২১ বছরের কারাদÐ দেন আদালত। এছাড়া এক মামলায় তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের ৫ বছরের কারাদÐ দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাজ্যে বিপদে পড়তে পারেন টিউলিপ
পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্লট নেওয়ার অভিযোগে সাবেক স্বৈরশাসক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহেনা এবং ভাগ্নি ও ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকের মামলার রায় ঘোষণা হয়েছে গতকাল গতকাল সোমবার। এই রায়ে টিউলিপ সিদ্দিককে ২ বছরের কারাদÐে দÐিত করা হয়েছে।
৪৩ বছর বয়সি টিউলিপের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছেÑ তিনি শেখ হাসিনার প্রভাব ব্যবহার করে তার মা, ভাই ও বোনকে প্লট পাইয়ে দিয়েছেন। পাশাপাশি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্প থেকে ৪ বিলিয়ন পাউন্ড আত্মসাতের অভিযোগেও তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। এই অভিযোগ প্রথম প্রকাশ্যে আনে ডেইলি মেইল। অভিযোগ সামনে এলে তিনি বাধ্য হয়ে সিটি মিনিস্টারের পদ ছাড়েন।
ডেইলি মেইল জানায়, দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণ হলে এবং টিউলিপ দীর্ঘমেয়াদি সাজা পেলে ব্রিটিশ এমপি হিসেবে তার পদ ছাড়ার চাপ আরও বাড়বে। গত ডিসেম্বরে রূপপুর প্রকল্পের অভিযোগের সময়ও তিনি এমন চাপে পড়েছিলেন। মন্ত্রিত্ব ছাড়লেও তখন এমপি পদ ধরে রাখতে পেরেছিলেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাজ্যের হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড হাইগেট এলাকার এমপি।
রূপপুর প্রকল্পের অভিযোগের মধ্যেই যুক্তরাজ্যে একটি ফ্ল্যাটকে কেন্দ্র করে টিউলিপের দেওয়া তথ্য নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। তিনি দাবি করেছিলেন, ফ্ল্যাটটি বাবা-মায়ের কাছ থেকে পেয়েছেন। পরে অভিযোগ ওঠে, আওয়ামীপন্থি একজন নেতার কাছ থেকে তিনি এটি উপহার হিসেবে নিয়েছেন, যা ঘুষ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
তবে ব্রিটিশ সরকারের এক তদন্তে বলা হয়, ফ্ল্যাট সংক্রান্ত তথ্য গোপন বা বিভ্রান্তির মাধ্যমে তিনি মন্ত্রিত্বের কোনো বিধি লঙ্ঘন করেননি।
এদিকে বাংলাদেশে টিউলিপের মামলার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন ব্রিটিশ আইনজীবী। তারা অভিযোগ করেছেন, মামলার পরিচালনায় স্বচ্ছতার ঘাটতি রয়েছে। এ বিষয়ে তারা বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাছে চিঠিও দিয়েছেন।

আল হারামাইন হাসপাতালের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় অবহেলাসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার

নগরীর বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান ‘আল হারামাইন হাসপাতাল’র বিরুদ্ধে চিকিৎসায় অবহেলা, ভুল চিকিৎসা দিয়ে রোগীকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া, অতিরিক্ত বিল আদায়, রোগী ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলা, রোগীকে পঁচা-বাসি খাবার সরবরাহ করা ও রোগীর স্বজনদের সাথে র্দুব্যবহার করা, সিসিউ ও আইসিউর ভৌতিক বিলসহ নানা ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে এমন পরিস্থিতির শিকার হয়েছে এবং হচ্ছেন।
এছাড়াও হাসপাতালের ভেতরে স্বাস্থ্যবিধি ও নিয়মনীতি লঙ্ঘনের অসংখ্য অভিযোগ উঠেছে। হাতপাতালের চেয়ারম্যান মাহতাবুর রহমান নাসির সেবার চেয়ে আর্থিক সুবিধার প্রতি বেশি আগ্রহি।
জানাগেছে, রোগী ও স্বজনদের জন্য পর্যাপ্ত তথ্য-সহায়তা না থাকায় বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। অপারেশন থিয়েটার থেকে শুরু করে ওয়ার্ডÑসব জায়গায়ই ব্যবস্থাপনায় নানা বিশৃঙ্খলা দেখা যায়।
সম্প্রতি একাধিক ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ করে জানিয়েছেন, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর রোগীর অবস্থা পর্যবেক্ষণে উদাসীনতা, ভুল ঔষুধ প্রদানসহ গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাগুলো বিলম্বিত করায় রোগীর অবস্থা আরও অবনতি ঘটে।
অভিযোগকারীরা আরোও জানান, হাসপাতালে চিকিৎসক উপস্থিত না থাকা, প্রশাসনিক গাফিলতি ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় এখন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকেই দাবি করেছেনÑ দ্রæত সেবা না দেওয়ায় রোগীর জীবন ঝুঁকিতে পড়ছে।
সম্প্রতি একজন বৃদ্ধের মৃত্যুর ঘটনায় তার চিকিৎসক কন্যা ডা. নুরিয়া জাহান কেয়া সংবাদ সম্মেলন করে হাসপাতালের বিরূদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান ৬৯ বছর বয়সী পিতা বেদার আহমেদকে ভুল ইনসুলিন ডোজ দেওয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে। তার দাবি, ওইদিন সকালে রোগীর রক্তের শর্করা (ঋইঝ) স্বাভাবিক (৭.১) থাকা সত্তে¡ও নার্স একজন ডাক্তারকে না জানিয়েই ১৬ ইউনিট ইনসুলিন প্রয়োগ করেন, যার ফলে রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে।
ডা. কেয়া আরও অভিযোগ করেন যে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের দেওয়া মৃত্যুর সার্টিফিকেটেও মৃত্যুর আসল কারণ গোপন করেছে।
এছাড়াও একজন সিনিয়র রিপোর্টারসহ অন্য কয়েকজন ভুক্তভোগী ফেসবুক পোস্টে অভিযোগ করেছেন যে, হাসপাতালটির বাহ্যিক চাকচিক্য থাকলেও ভেতরের ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত বিশৃঙ্খল। ডাক্তার, নার্স ও কর্মীদের অদক্ষতা, চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি এবং রোগীদের স্বজনদের সঙ্গে অমানবিক আচরণ সেখানে নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা।
সেবায় অবহেলা ও দায়িত্বরতদের অসৌজন্যমূলক আচরণসহ বিভিন্ন অভিযোগ ত্রনে এক ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে তুলে ধরেন ‘এখন টিভি’ সিলেট ব্যুরো ইনচার্জ (সিনিয়র রিপোর্টার) গুলজার আহমেদ।
এর আগে, ২০২২ সালের এপ্রিলে, সাংবাদিক শিপন খান তার অন্তঃস্বত্ত¡া স্ত্রীকে ভর্তি করেছিলেন এই হাসপাতালে। চিকিৎসাধীন স্ত্রীর জন্য হাসপাতাল থেকে সরবরাহ করা পঁচা ও দুর্গন্ধযুক্ত স্যুপ পাওয়ার অভিযোগ আনেন তিনি।
তিনি জানান, ১৬ এপ্রিল ২০২২ সকালে রোগীকে সরবরাহ করা হয় হাসপাতালের ক্যান্টিনে তৈরি করা স্যুপ। ওই স্যুপ খেয়ে তার স্ত্রী রাত থেকে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হন।
শিপন জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানালে সংশ্লিষ্টরা অভিযোগের সত্যতা খুঁজে পান। তারা ক্যান্টিন থেকে খাদ্য সরবরাহকারী স্টাফকে ক্যাবিনে পাঠায়। ওই স্টাফ রেফ্রিজারেটর থেকে ঠান্ডা খাবার বের করে গরম করে সরবরাহের কথা স্বীকার করে। কিন্তু এ ব্যাপারে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা গ্রহণ কিংবা সৌজন্যবোধ দেখায়নি।
এদিকে আল-হারামাইন হাসপাতালে চিকিৎসার ক্ষেত্রে নানা অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, দুর্ব্যহার ও অপচিকিৎসাসহ একাধিক রোগীর মৃত্্ুযর অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতালের জেনারেল ম্যানেজার পারভেজ আহমদের বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন- অভিযোগ আসলে আমরা সেগুলো শুনি। কোন কোন ক্ষেত্রে ব্যবস্থাও নেওয়া হয়। তবে তা আমরা প্রকাশ করিনা। সম্প্রতি ভুল চিকিৎসায় ডাক্তার নূরিয়া জাহান কেয়া নামের একজন নারী চিকিৎসকের বাবার মৃত্যুর অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন- এ বিষয়ে ওই চিকিৎসক স্বাস্থ্য মন্ত্রাণলয়ে অভিযোগ দিয়েছেন। তারা বিষয়টি দেখবেন।
এর আগে গুলজার আহমদ নামে সিলেটের একজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক তার শ্বশুড়ের চিকিৎসার ক্ষেত্রে নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন- এ সম্পর্কে তিনি জানেন না।
শিপন আহমদ নামের একজন সাংবাদিকের স্ত্রী ওই হাসপাতালে ভর্তি থাকাকালে কেন্টিন থেকে ভাসী ও দুগন্ধযুক্ত সুপ সরবরাহ করা হয় এনিয়ে একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে সংবাদ প্রকাশের বিষয়টি তাকে জানানো হলে তিনি বলেন- এটি আমার জানা নেই।
হাসপাতালটি নিয়ে সচেতন নাগরিকদের দাবি, স্বাস্থ্যসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে অবহেলা ও অনিয়ম কোনভাবেই বরদাশতযোগ্য নয়। দ্রæত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহŸান জানান।