চিকিৎসক নিয়োগ সময়োপযোগী

21

গণমাধ্যমে দুটি ইতিবাচক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, যা দেশ ও জাতির জন্য মঙ্গলজনক বলে বিবেচিত হতে পারে। ৩৯তম বিশেষ বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশে দেখা যায়, স্বাস্থ্যখাতে নিয়োগের জন্য চার হাজার ৯৯২ জন চিকিৎসককে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে পিএসসি কর্তৃক। নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে চার হাজার ৫৪২ জন সহকারী সার্জন এবং ২৫০ জন সহকারী ডেন্টাল সার্জন। তাদের মধ্যে নারী চিকিৎসকদের সংখ্যা এই মুহূর্তে জানা সম্ভব না হলেও দেশে নারী চিকিৎসকদের অগ্রণী ভূমিকা ও অবদান অস্বীকার করা যাবে না কিছুতেই। নিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসকরা উপজেলা কিংবা গ্রাম-গঞ্জে উপস্থিত থাকেন না বলে একটা অভিযোগ প্রায়ই শোনা যায়। নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত নবীন চিকিৎসকদের ক্ষেত্রে এমনটি হবে না বলেই প্রত্যাশা। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীও প্রায়ই বলে থাকেন- চিকিৎসকরা যেন কর্মস্থলে উপস্থিত থাকেন এবং গরিব মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় নিজেদের নিয়োজিত রাখেন।
অন্যদিকে বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক দশকে বাংলাদেশে নারীর কর্মসংস্থান যেমন বেড়েছে, তেমনি কমে এসেছে মজুরির ব্যবধানও। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৩ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত বাংলাদেশে নারীর কর্মসংস্থান ২৬ থেকে বেড়ে উন্নীত হয়েছে ৩৩ শতাংশে। নারী-পুরুষের সমতা অর্জনের ক্ষেত্রে অনেক সাফল্য দেখিয়েছে বাংলাদেশ, বিশেষ করে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে। নারীদের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ নিবেদিত রয়েছে দেশের অন্যতম অর্থনৈতিক অগ্রগতির খাত পোশাক শিল্প এবং জনস্বাস্থ্যসেবা খাত কমিউনিটি ক্লিনিকে।
জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা সপ্তাহ-২০১৯-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একগুচ্ছ নির্দেশনা ও পরামর্শ প্রদান করেছেন, যা সার্বিকভাবে জনস্বাস্থ্যের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে ইতিবাচক অবদান রাখতে সক্ষম। এ সবের মধ্যে অন্যতম দেশের ৮টি বিভাগে মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, যা হবে সর্বাধুনিক ও বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য নিবেদিত। উল্লেখ্য, বর্তমানে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় বাদে ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম, সিলেট ও রাজশাহীতে তিনটি মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ১৪ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক সারাদেশে মা ও শিশুদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছে। এসব কেন্দ্র থেকে ৩০টি মারাত্মক রোগের ওষুধও দেয়া হচ্ছে বিনামূল্যে। সরকারের এই জনস্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, বিশ্বব্যাংকসহ বহির্বিশ্বে বিপুল প্রশংসা কুড়িয়েছে। এর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী সবিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন দেশে আবহমানকাল ধরে প্রচলিত এ অনূসৃত চিরায়ত চিকিৎসা ও ওষুধপত্রের ওপর, যার মধ্যে রয়েছে ভেষজ, আয়ুর্বেদিক, ইউনানী ও হোমিওপ্যাথি। তবে এসব চিকিৎসা পদ্ধতি অবশ্যই আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত হতে হবে। সেই সঙ্গে ওষুধ ও পথ্য হতে হবে মানসম্মত। একই সঙ্গে দেশে রোগ নির্ণয়সহ আনুষঙ্গিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সর্বাধুনিক প্যাথল্যাব প্রতিষ্ঠাসহ দক্ষ জনবল গড়ে তোলার ওপর যথেষ্ট গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। নবীন চিকিৎসক নিয়োগ এক্ষেত্রে একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ।