শ্রীমঙ্গল থেকে সংবাদদাতা :
প্রয়োজনীয় লোকবলের অভাবে সিলেট-আখাউড়া রেল সেকশনের ৫টি গুরুত্বপূর্ণ রেলস্টেশন বন্ধ রয়েছে। যার ফলে এখানকার প্রতিদিন শত শত যাত্রীরা ভোগান্তিতে রয়েছেন। স্টেশন বন্ধ থাকায় পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, সিলেট-আখাউড়া রেলওয়ে সেকশনের হবিগঞ্জের লস্করপুর, শ্রীমঙ্গলের সাতগাঁও, ইটাখোলা ও কুলাউড়া উপজেলার টিলাগাঁও এবং ভাটেরা রেলস্টেশনগুলো দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। তবে এসব স্টেশনে ট্রেনের যাত্রাবিরতি বহাল রাখা হয়েছে।
এনিয়ে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় লেখালেখি হলেও রেল কর্তৃপক্ষ বন্ধ থাকা স্টেশনগুলো চালু করার কোন উদ্যোগ না নিয়ে একের পর এক স্টেশন বন্ধ করে দিচ্ছে।
সম্প্রতি লংলা রেলস্টেশনের কর্তব্যরত দু’মাস্টারের মধ্যে একজনকে কুলাউড়ায় ও অপরজনকে রশিদপুর স্টেশনে বদলি করে দেয়ায় চলতি মাসের ১ নভেম্বর থেকে লংলা রেলস্টেশন বন্ধ হয়ে গেছে।
ব্রিটিশ শাসনামলে শিল্পকারখানাসহ চা-বাগানবেষ্টিত মালামাল পরিবহন ও এলাকার জনসাধারণের যাতায়াতের সুবিধার্থে স্থাপিত লংলা, টিলাগাঁও, লস্করপুর, ইটাখোলা এবং ভাটেরা রেল স্টেশনগুলো অনেক গুরুত্বপূর্ণ হলেও বন্ধ স্টেশনগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে ট্রেনের ক্রসিং বন্ধ থাকার কারণে ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম-গামী আন্তঃনগর ট্রেনসহ লোকাল ট্রেনগুলোর সিডিউল বিপর্যয় নিত্য-নৈমত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অপরদিকে স্টেশনগুলো অরক্ষিত হয়ে পড়ায় সংঘবদ্ধ লোহা চোরেরা স্টেশনের মূল্যবান উপকরণ চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। এসব স্টেশনের শতশত যাত্রীর একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম রেলস্টেশন দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় যাত্রীরা ট্রেনের খবর জানতে, মালামাল বুকিং ও টিকেট সংগ্রহ করতে পারছেন না। ফলে অসংখ্য যাত্রী সিলেট, আখাউড়া, ঢাকা ও চট্টগ্রামে যাতায়াতে ও মালামাল পরিবহনে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
এ ব্যাপারে ভুক্তভোগীরা অনতিবিলম্বে বন্ধ স্টেশনগুলোতে পুনরায় মাস্টার নিয়োগ করে স্টেশনগুলো সচল করে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অবসান ঘটানোর জন্য রেলওয়ে মন্ত্রীসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।






