দোয়ারাবাজারে কাঁচা সড়কে দুই ইউনিয়নবাসীর দুর্ভোগ

4

শাহ্ মাশুক নাঈম, দোয়ারাবাজার

বৃষ্টি মৌসুমে সড়কে জমে থাকে কাঁদা! শুকনো মৌসুমে ধুলাবালির কারণে জনসাধারণের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়ে তাই বহুদিন ধরে কাঁচা সড়কটি পাকা করণের দাবি জানিয়ে আসছেন সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলা লক্ষীপুর ও সুরমা দুই ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরে জমিন গিয়ে দেখা যায়, কাদা জমে থাকা কাঁচা সড়কের কাদা সরাচ্ছেন স্থায়ীয় অটোরিকশা, মোটরসাইকেল চালকরা, তারা বলেন, উপজেলা লক্ষীপুর ইউনিয়নের রসরাই মাদ্রাসা থেকে সুরমা ইউনিয়নের নূরপুরবাজার পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার সড়কের মধ্য এক ইঞ্চি জায়গাও পাকা নেই। বর্ষাকালে এ সড়কটি চলাচলের জন্য অনুপযোগী হয়ে পড়ে। জনপ্রতিনিধি থাকলেও তাদের চোখে পড়ছেনা এসব দৃশ্য! কাদা-জলাবদ্ধতার কারণে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে দিনদিন। তাই দুই ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ কাঁচা সড়কটির কাদা জমে আছে তাই নিজ উদ্যোগে কাদা সরাচ্ছি।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলা লক্ষীপুর-সুরমা, দুই ইউনিয়নের হাজার-হাজার মানুষ প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, বাজার, হাসপাতাল, উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করে থাকেন। বৃষ্টির দিনে কাদা, শুকনো মৌসুমে ধুলাবালির কারণে জনসাধারণের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে কাঁচা সড়কে করুণ অবস্থার কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে দুই ইউনিয়ন বাসির।
আলীপুর সোনালীনুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল ইসলাম জানান, প্রায় ৯/১০ গ্রামের ছাত্র/ছাত্রী আমার প্রতিষ্ঠানে পড়া-লেখা করেন। অভিভাবকরা বলেন কাঁদা সড়কের জন্য ছাত্র/ছাত্রী স্কুল যেতে চায়না অনেক সময়। আমি উর্ধতন কর্মকর্তাদের অনুরুধ করছি নুরপুর বাজার থেকে রসরাই দাখিল মাদ্রাসা পর্যন্ত কাঁচা সড়কটি দ্রæত যেন পাকা করণের ব্যবস্হা করা হয়।
রসরাই হযরত শাহজালাল দারুচ্ছুন্নাহ হিঃকোঃ দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষিকা মনোয়ার জানান, বর্ষাকালে ঐ সড়কটি কাদায় ভরে যায়, যার কারণে যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, হেঁটে চলাই কষ্টকর হয়ে পড়ে। সড়কটি দ্রæত পাকা করা হলে হাজার-হাজার মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় স্বস্তি ফিরবে।
সুরমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হারুন-অর-রশীদের মোবাইলে কল দিলে তিনি কল রিসিভ করেনী।
লক্ষীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রভাষক জহিরুল ইসলাম কাজির বাজারকে জানান, বর্ষাকালে বৃষ্টি হলেই সড়কের মাটি নরম হয়ে ব্যাপক হারে কাঁদা-মাটি ও পিচ্ছিলসহ বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। এভাবে চলাচলের সময় বিপাকে পড়তে হয়। আমি রসরাই থেকে সুরমা ইউনিয়নের পর্যন্ত আমার ইউনিয়নে যে ভাঙা সড়কটুকু রয়েছে আমি সে অংশটুকু কাজ করাচ্ছি।
দোয়ারাবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা সাদ্দাম হোসেন দৈনিক কাজির বাজারকে বলেন, নুরপুরবাজার থেকে রসরাই মাদ্রাসা পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার সড়ক পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধিনে। এ সড়কটি কাজ করিয়েছি এখন কাজের সময় শেষ। এখন সড়ক ভেঙে গেলে আমাদের করার কিছুই নাই।
দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অরুপ রতন সিংহ দৈনিক কাজির বাজারকে বলেন, এটা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজ। গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি সম্পর্কে আমি প্রথম শুনলাম। খোজ নিয়ে দেখতেছি।