কেয়ামত পর্যন্ত অপেক্ষা করলেও আবাসিকে নতুন গ্যাস মিলবে না

3

স্টাফ রিপোর্টার

বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেছেন, কেয়ামত পর্যন্ত অপেক্ষা করলেও আবাসিকে নতুন গ্যাস সংযোগের সম্ভাবনা নেই। সরকারের লক্ষ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পে গ্যাস সরবরাহ করা। বাসাবাড়িতে এলপিজি গ্যাসই ব্যবহার করতে হবে। শুক্রবার সকালে সিলেট গ্যাস ফিল্ড পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, প্রতিবছর ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন কমছে, নতুন করে উৎপাদনে যুক্ত হচ্ছে মাত্র ৬০ থেকে ৭০ মিলিয়ন ঘনফুট তাই গ্যাস আমদানি বাড়ছে। সেটা নিয়ন্ত্রণের জন্য নিজেদের উৎপাদন বাড়াতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
সিলেটের গ্যাস উৎপাদন ও পাথর কোয়ারিগুলোতে খনিজ সম্পদ সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে শুক্রবার সকালে দুইদিনের সফরে সিলেটে যান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। সিলেটে নেমেই চলে যান সিলেট গ্যাস ফিল্ড লিমিটেডের গোলাপগঞ্জের কৈলাশটিলা গ্যাস ক্ষেত্রে। সেখানে নতুন করে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়া কৈলাশটিলা-৭ ক‚পটি পরিদর্শন করেন। পরে সেখান থেকে চলে যান এমএসটিই প্লান্টে। সেখানে বসেই এ অঞ্চলের গ্যাস উৎপাদনে নেয় উন্নয়ন কর্মকাÐের নানা খোঁজখবর নেন তিনি। ঘুরে দেখেন বিভিন্ন স্থাপনা।
পরিদর্শন শেষে জ্বালানি উপদেষ্টা দেশের জ্বালানি সীমাবদ্ধতা ও নানা পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আমরা এখানে এসেছি মূলত গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে সিলেট গ্যাস ফিল্ডের বেশ কিছু উন্নয়ন মূলক কাজ হচ্ছে। পুরাতন ক‚পগুলোর ওয়ার্কওভার এবং নতুন ক‚প খনন হচ্ছে সেগুলো দেখতে।
মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, প্রতিবছর গ্যাসের উৎপাদন কমছে ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট। যার বিপরীতে মাত্র ৬০ থেকে ৭০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস আমরা যুক্ত করতে পারছি। সেই ঘাটতির কারণে এলএনজি আমদানি বাড়ছে। গ্যাসের উৎপাদন বাড়িয়ে কিভাবে আমদানি কমানো যায় সেই চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, উৎপাদন বাড়াতে ইতিমধ্যে ভোলা ও জামালপুরে নতুন ক‚প খনন হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে ভ‚তাত্তি¡ক জরিপ চলমান রয়েছে। আমরা ক‚প খননের জন্য নতুন একটি রিগ ক্রয় করছি, একটি রিগ দিয়ে সম্ভব হচ্ছে না এছাড়া নতুন রিগগুলো অত্যাধুনিক মানের। ইতিমধ্যেই ডিপিডি তৈরি হয়েছে দ্রæতই তা ক্রয় করা হবে।
গত এক মাস ধরে পরীক্ষামূলকভাবে সিলেট গ্যাস ফিল্ডের কৈলাশটিলা-৭ ও সিলেট-১০ ক‚প হতে ৮ মিলিয়ন করে দৈনিক ১৬ মিলিয়ন ঘটফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে। নতুন এই ১৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন উপদেষ্টা।
আবাসিকে নতুন গ্যাস দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা জানতে চাইলে- ফাওজুল কবির খান বলেন, আবাসিকে গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রে কেয়ামত পর্যন্ত অপেক্ষা করলেও সম্ভাবনা নেই। আমার পক্ষে যদি সম্ভব হতো, তাহলে আমি ঢাকা শহরেও আবাসিকে গ্যাস বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতাম। কারণ এ আবাসিক গ্যাস সরবরাহ সবচেয়ে ইনইফিসিয়েন্ট, যেখানে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য গ্যাস মিলছে না, শিল্প কারখানায় গ্যাস দেওয়া যাচ্ছে না সেখানে বাসা বাড়িতে গ্যাস সরবরাহ অপচয় মনে করি। বাসা বাড়িতে গ্যাস সরবরাহের যে খরচ তার তুলনায় যে পরিমাণ অর্থ পাওয়া যায় তার মধ্যে বিস্তর ফারাক।
যেসব এলাকায় গ্যাস উৎপাদন হচ্ছে সেসব এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস সংযোগের যে দাবি করছেন তাও নাকচ করেন তিনি বলেন, যেসব এলাকা থেকে গ্যাস উত্তোলন হচ্ছে সেসব এলাকায় আমরা স্বল্পমূল্যে এলপিজি সিলিন্ডার দিচ্ছি। বাজারে যেখানে এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্য ১৪০০ টাকা সেখানে এসব এলাকায় ৮০০ টাকায় দেবে সরকার।
তিনি গণমাধ্যমের প্রতি আহŸান জানিয়ে বলেন, আপনারা সচেতনতা তৈরি করুন, আর বাসা বাড়িতে গ্যাস কেউ পাবেন না। এলপিজি এসে গেছে, আমরা দামও কমানোর চেষ্টা করছি। এখন থেকে বাসা বাড়িতে এলপিজি, শিল্পকারখানায় পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ করা হবে।
পরে বিকেলে সিলেট গ্যাস ফিল্ডের সিলেট-১০ ক‚পসহ আরও কয়েকটি উন্নয়ন কর্মকাÐ পরিদর্শন করেন তিনি। পরিদর্শনকালে সাথে ছিলেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের (অপারেশন বিভাগ) অতিরিক্ত সচিব মোঃ খালিদ আহমেদ, বাপেক্স/এসজিএফএল’র প্রকৌশলী এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ সোহেব আহমদ, পেট্রো বাংলার চেয়ারম্যান রেহসানুল ইসলাম, সেক্রেটারি এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মনির হোসেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন- কৈলাসটিলা গ্যাস ফিল্ড’র ডিজিএম ফারুক আহমদ, কৈলাসটিলা গ্যাস ফিল্ড এমএসটি প্লান্ট’র ডিজিএম জাফর রায়হানসহ সংশ্লিষ্ট কুপের কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা এবং কর্মচারীবৃন্দ।
শনিবার সিলেটের জাফলং ও ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারি পরিদর্শন করবেন বিদ্যুৎ জ্বালানি উপদেষ্টা।