মুহাম্মদ মনজুর হোসেন খান :
(পূর্ব প্রকাশের পর)
উপরোল্লিখিত আলোচনা দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, ইসলাম মাতা-পিতার অধিকারের বিষয়ে খুবই শক্ত আইন জারি করেছে। কোন মাতা-পিতা যদি তার অধিকার না পায় তাহলে আইনের আশ্রয় নিতে পারে কিংবা রাষ্ট্র নিজ উদ্যেগে সন্তানকে বাধ্য করবে তার মাতা-পিতার প্রতি ইহসান করতে এবং তাদের ভরণ-পোষণ দিতে। তাই তো দেখা যায়, সম্প্রতি বাংলাদেশে “পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৪” নামে একটি আইনও জারি করা হয়েছে। মাতা-পিতার অবাধ্য সন্তান দুনিয়াতেই তার শাস্তি ভোগ করবে বলে হাদীসে যে বর্ণনা এসেছে তাতে অনুমান করা যায়, ঐ সন্তান কোন অপরাধ কর্মে জড়িত হয়ে শাস্তি পেতে পারে। আর এ ধরনের সন্তানরাই পারিবারিক অপরাধ বেশি ঘটায়। তাই মা-বাবার প্রতি সদাচরণ করার মাধ্যমে একদিকে যেমন পারিবারিক বন্ধন সুদৃঢ় হবে, অপরদিকে জীবনে অপরাধ সংঘটন হারও ক্রমশ হ্রাস পাবে।
পরিবারে এবং পরিবারের বাইরে সর্বত্রই বড়দের সম্মান ও ছোটদের স্নেহ না করলে পারিবারিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকে না। তখন কেউ কারো কথা, আদেশ-নিষেধ শুনতে বা মানতে চায় না। ফলে নিজে নিজে সিদ্ধান্ত নিয়ে অনেক ক্ষেত্রে অপকর্ম করে ফেলে। বড়রা তাকে নিষেধ করলে সে তা মানে না। পরিবারের বড়রা বিশেষ করে বড় ভাই বা বোনেরা যদি ছোট ভাই-বোনদের স্নেহ করে এবং ছোটরা বড়দের শ্রদ্ধা করে তাহলে অনেক পারিবারিক সমস্যা; যেগুলো পরবর্তীতে সহিংসতায় রূপ নেয় সেগুলো সমাধান হয়ে যায়। এ জন্য ইসলাম ছোটদের স্নেহ ও বড়দের সম্মান করাকে অত্যাধিক গুরুত্ব দিয়েছে। রাসূলূল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে আমাদরে ছোটদের স্নেহ করে না এবং বড়দের সম্মান করে না, সে আমার দলভুক্ত নয়। এই হাদীস মেনে পরিবারের বড়রা যদি ছোটদের স্নেহ এবং ছোটরা যদি বড়দের শ্রদ্ধা করতো, তাহলে পারিবারিক বন্ধন ও দৃঢ় হতো এবং অপরাধও অনেকটা কমে যেতো।
ইসলামী আইনের অন্যতম প্রধান বিষয় হলো হালাল-হারাম। মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় বিষয়াবলির কিছু হালাল আর কিছু হারাম। একজন মুসলিম ব্যক্তির জন্য আবশ্যক যে, সে হালালকে গ্রহণ করবে এবং হারামকে বর্জন করবে। পরিবারের ব্যয় নির্বাহ করার জন্য উপার্জন করতে হয়। যেই উপার্জন করুন না কেন তা অবশ্যই হালাল পথে হালাল অর্থ-সম্পদ উপার্জন করতে হবে। উপার্জনের ক্ষেত্রে হালাল-হামার বাছ-বিচার করা না করার ওপর পরিবারের সদস্যদের পারস্পরিক সম্পর্কও নির্ভর করে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ঐ শরীর জান্নাতে প্রবেশ করবে না যা হারাম দ্বারা হৃষ্ট-পুষ্ট হয়েছে। তাই ইসলাম প্রত্যেকের জন্য হালাল উপার্জনকে ফরজ বলে আখ্যয়িত করেছে। রাসূলূল্লাহ (সা.) বলেছেন, সকল ফরজের পরে হালাল উপার্জনের অনুসন্ধান করাও ফরজ।
উপর্যুক্ত হাদীস দুটি দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, জান্নাতে যেতে হলে হালাল উপার্জন করতে হবে। যে ব্যক্তি হারাম উপার্জন করে নিজে খায় এবং পরিবারকে খাওয়ায় তার বা তাদের শরীর জাহান্নামের জন্য তৈরি হচ্ছে। আর যে দেহ জাহান্নামের জন্য তৈরি হচ্ছে তার মধ্যে ভালো অন্তর আশা করা যায় না। আর অন্তরই শরীরকে নিয়ন্ত্রণ করে বিধায় খারাপ অন্তর ব্যক্তিকে খারাপ ও অপরাধমূলক কাজে উৎসাহিত ও তৃপ্ত করবে, আর অন্যদিকে ভালো অন্তর ব্যক্তিকে ভালো ও গঠনমূলক কাজে উৎসাহিত ও তৃপ্ত করবে। রাসূল (সা.) অন্তরের বিশুদ্ধতার গুরুত্ব বর্ণনা করে বলেন, জেনে রাখ! দেহের মধ্যে এমন একটি মাংসপিন্ড রয়েছে। যেটি সুস্থ থাকলে সমস্ত দেহে সুস্থ থাকে আর সেটি অসুস্থ থাকলে সমস্ত দেহ অসুস্থ থাকে। সেটি হচ্ছে অন্তর। উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা প্রতিয়মান হয় যে, ব্যক্তির আচরণে তার খাদ্য, পরিধেয় বস্ত্র ও উপার্জনের প্রভাব থাকে। তাই পারিবারিক বন্ধন শক্ত করতে এবং অপরাধ কমাতে হালাল উপার্জনের কোন বিকল্প নেই।
পারিবারিক অপরাধ সংঘটনের পরোক্ষ কারণ হিসেবে পর্দা ব্যবস্থা মেনে না চলা অন্যতম। এই ব্যবস্থা মেনে চললে পরকীয় থেকে শুরু করে পারিবারিক অপরাধের অনেক প্রত্যক্ষ কারণই দেখা যেতো না। পারিবারিক পরিমন্ডলে ও পারিবারের বাইরে প্রত্যেক নারী-পুরুষের জন্য পর্দা ব্যবস্থা মেনে চলা আবশ্যক। পর্দা ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করার প্রতি আদেশ প্রদান করে আল্লাহ তা‘আলা বলেন, মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গের হেফাযত করে। এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা আছে। নিশ্চয় তারা যা করে আল্লাহ তা অবহিত আছেন। ঈমানদার নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌনঙ্গের হেফাযত করে। তারা যেন যা সাধারণত প্রকাশমান, তা ছড়া তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে এবং তারা যেন তাদের মাথার ওড়না বক্ষদেশে ফেলে রাকে এবং তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভ্রান্ত, ভ্রাতুস্পুত্র, ভগ্নিপুত্র, স্ত্রীলোক, অধিকাভুক্ত বাঁদী, যৌন কামনামুক্ত পুরুষ, বালক, যারা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ, তাদের ব্যতীত কারো কাছে তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, তারা যেন তাদের গোপন সাজসজ্জা প্রকাশ করার জন্য জোরে পদচারণা না করে। মুমিনগণ, তোমরা সবাই আল্লাহর সামনে তাওবা করো, যাতে তোমরা সফলকাম হও। উক্ত আয়াত দুটি ছাড়াও আল-কুরআনে একাধিক আয়াত ও হাদীসের গ্রন্থাবলিতে অসংখ্য হাদীস রয়েছে যেগুলোতে পর্দা ব্যবস্থা বাস্তবায়নের গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, সুফল ও উপকারিতা সম্মন্ধে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে। পর্দা সম্পর্কে কুরআন ও হাদীসের বর্ণিত নির্দেশনাসমূহ পারিবারিক ও সামজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে বাস্তাবায়ন করা হলে একদিকে যেমন নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, অপরদিকে পারিবারিক বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টির পথ রুদ্ধ হবে।
পরিবারের প্রতিটি সদস্য একদিকে যেমন দায়িত্বশীল অপরদিকে তেমন অধিকারী। তাদের প্রত্যেকের অপরের নিকট অধিকার রয়েছে। পারিবারিক অপরাধের ক্ষেত্রে একে অপরের অধিকার যথাযথভাবে প্রদান না করা অন্যতম কারণ। তাই ইসলাম পরিবারের প্রত্যেককেই দায়িত্বশীল হিসেবে ঘোষাণা করেছে। রাসূলূল্লাহ সা. বলেছেন, জেনে রাখ! তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল। আর তোমাদের প্রত্যেককেই তার নিজ নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। পুরুষ ব্যক্তি (স্বামী) তার পরিবারের ওপর দায়িত্বশীল সে তার অধীনস্তদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। পরিবারের স্ত্রী তার স্বামীর ঘরের ওপরের দায়িত্বশীল সে তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। সেবক তার মালিকের সম্পদের ব্যাপারে দায়িত্বশীল; সেও তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। একজনের দায়িত্বই অপরজনের অধিকার। তাই পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের যেমন দায়িত্ব রয়েছে তেমন অধিকার রয়েছে। পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় করতে প্রত্যেক সদস্যের অধিকার যথাযথভাবে প্রধান করার বিকল্প নেই।
সালাত মানুষকে অন্যায় ও অশ্লীল কাজ থেকে বিরত রাখে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, আর আপনি সালাত কায়েম করুন। নিশ্চয় সালাত অশ্লীল ও গর্হিত কার্য থেকে বিরত রাখে। যথাযথভাবে সালাত আদায় ব্যক্তিকে অনেক পাপাচার ও অপরাধ থেকে দুরে রাখে। যে পরিবারের সালাত প্রতিষ্ঠিত আছে সেখানে অন্যায় ও অপরাধ অপেক্ষাকৃত অনেক কম হয়। সালাত মানুষকে আল্লাহর প্রতি বিনয়ী ও একে অপরের প্রতি দায়িত্বশীল করে। তাই পারিবারিক জীবনে অপরাধ হ্রাস করতে হলে সালাত প্রতিষ্ঠা করতে হবে। উল্লেখ্য যে, একা একা সালাত আদায়কে সালাত প্রতিষ্ঠা বলে না; বরং পরিবার ও সামাজের সকল সদস্য সালাত আদায় করাকে সালাত প্রতিষ্ঠা বলে।
পারিবারিক অপরাধের অন্যতম প্রধান কারন হচ্ছে মাদক। আর এই মাদককে ইসলাম সম্পূর্ণরূপে হারাম করেছে। কোন মুসলিম সমাজে মাদক উৎপাদন, বাজারজাত, ক্রয়-বিক্রয়, পান ইত্যাদি সবকিছু করা নিষিদ্ধ। আল্লাহ তা‘আলা মদকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে বলেন, হে মুমিনগণ, এই যে মদ, জুয়া, প্রতিমা এবং ভাগ্য-নির্ধারক শরসমূহ, এসব শয়তানের অপবিত্র কাজ। অতএব এগুলো থেকে বেঁচে থাক, যাতে তোমরা কল্যাণ প্রাপ্ত হও। রাসূলূল্লাহ (সা.) সকল প্রকার মদকে হারাম ঘোষণা করে বলেন, প্রত্যেক নেশা উৎপাদনকারী জিনিসই মদ এবং প্রত্যেক নেশা উৎপাদনকারী জিনিসই হারাম। ইসলাম মাদককে হারাম করলেও অনেক মুসলিম দেখা যায়, তারা মাদকাসক্ত হয়ে অনেক অপরাধ ঘটায়। তাই এসব অপরাধ সংঘটন বন্ধ করতে হলে মাদক সম্পর্কে ইসলামের নিষেধাজ্ঞা রাষ্ট্রীয় ভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।
ইসলাম আত্মীয়তার সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছে। কিন্তু মুসলিমরা ছোটখাটো বিষয়কে কেন্দ্র করে আত্মীয়তার সম্পর্ককে ছিন্ন করে ফেলে। যার ফলে পারিবারিক সংকট আরো ঘনীভূত হয়। অনেক সময় দেখা যায়, পারিবারিক পরিমন্ডলে সংঘটিতব্য অপরাধ দমনে আত্মীয়গণ সালিশ কিংবা অন্য কোনভাবে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে। তাই ইসলাম আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করাকে হারাম করেছে। রাসূলূল্লাহ (সা.) বলেছেন, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না। অন্য হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলূল্লাহ (সা.) বলেছেন, আত্মীয়তার সম্পকৃ আরশের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় থেকে বলে, যে ব্যক্তি আমার সাথে সম্পর্ক রক্ষা করবে আল্লাহ তার সাথে সম্পর্ক রক্ষা করবেন। আর যে ব্যক্তি আমাকে ছিন্ন করবে আল্লাহও তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করবেন। আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী ব্যক্তির সাথে যেহেতু আল্লাহর সম্পর্ক নেই, সেহেতু ঐ ব্যক্তি যে কোন অপরাধ করতে পারে। তাই পারিবারিক ক্ষেত্রে অপরাধ না করা ও অপরাধ সংঘটিত হয়ে গেলে তা সমাধান করার ক্ষেত্রে আত্মীয়দের ভূমিকা অনন্য।
পারিবারিক জীবনে সংঘটিত অপরাধ দমনে পরিবারে ও সমাজে ধর্মীয় অনুশাসন ও নীতি-নৈতিকতা ও মূল্যবোধ জাগ্রত করতে হবে। এ জন্য কুরআন তিলাওয়াত, হাদীস, রাসূলুল্লাহ (সা.) এর জীবনী, সাহাবীগণ ও মুসলিম মনীষীগণের জীবনী ও ইসলামী সাহিত্য পাঠ করার ব্যবস্থা করতে হবে। সালাত, সিয়াম, দান-সাদাকা ইত্যাদি ইবাদতে ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে হবে। এছাড়াও সন্তানের ন্যায়-অন্যায় বোধ জাগ্রত করন, অপসংস্কৃতি রোধ করণ, সুস্থ সংস্কৃতির অনুশীলন, পরিবারের সর্বদা ইসলামের অনুশাসন বাস্তবায়ন ইত্যাদির মাধ্যমেও পারিবারিক জীবনে অপরাধ সংঘটনের পথকে শুরুতেই বন্ধ করে আদর্শ পরিবার ও সমাজ গঠনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ সম্ভব। ধর্মীয়, পারিবারিক ও সামাজিক অনুশাসন ভিত্তিক বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করার পাশাপাশি পারিবারিক জীবনে সংঘটিত অপরাধের বিচার করে অপরাধীকে তার প্রাপ্য শাস্তি প্রদানের নিমিত্তে কঠোর আইন প্রনয়ণ, দায়েরকৃত মামলার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করণ, অপরাধীকে তার যোগ্য শাস্তি প্রদান করতে হবে। বাংলাদেশে এ প্রসঙ্গে একাধিক আইন থাকলেও সেগুলোর যথাযথ প্রয়োগ না থাকায় অপরাধ হ্রাস পাচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট মামলাসমূহের বিভিন্ন পর্যায়ে দুর্নীতি ও অলসতা ন্যায়বিচারকে বাধাগ্রস্ত করে। তাছাড়া মামলার রায় পেতে দীর্ঘসূত্রতা দূর করতে হবে। প্রয়োজনে এসব মামলার জন্য পৃথক ট্রাইব্যুনাল তৈরি করে বিচারকার্য ত্বরান্বিত করতে হবে।
পরিবার হচ্ছে শান্তির আধার। কিন্তু বিভিন্ন কারণে সেই শান্তিনিবাসে অশান্তির দাবানল জ্বলছে। আজকাল পরিবারের এক সদস্য অপর সদস্যের হাতে নিরাপদ নয়। শারীরিক ও মানসিক ভাবে পারস্পরিক নির্যাতন হয় না এমন পরিবার খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। উপেরোল্লিখিত সংক্ষিপ্ত আলোচনায় উঠে এসেছে পারিবারিক জীবনে ঘটমান অপরাধসমূহের তালিকা, এর সাথে উঠে এসেছে পারিবারিক জীবনে সংঘটিত অপরাধসমূহের কারণ ও এগুলো প্রতিরোধের ইসলামের নির্দেশনা। ইসলাম যেহেতু অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পূর্বেই তা সংঘটনের পথ রুদ্ধ করতে চায়। সেহেতু বর্তমান প্রবন্ধে পারিবারিক জীবনে যে কোন অপরাধ সংঘটিত হওয়ার কারণ উদঘাটন করে তা প্রতিরোধে ইসলামের নির্দেশনাসমূহ উল্লেখ করা হয়েছে। অপরাধ সংঘটিত হয়ে গেলে তার শাস্তি নিশ্চিত করার ব্যবস্থাও ইসলাম করেছে। ইসলামী দন্ডবিধির মাধ্যমে পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র ও পৃথিবীকে অপরাধমুক্ত করার সুব্যবস্থা করা হয়েছে। হুদূদ, কিসাস ও তাযীর এর মাধ্যমে পারিবারিক জীবনে সংঘটিত অপরাসমূহের বিচার করা সম্ভব। প্রচলিত আইনের মাধ্যমেও এসব অপরাধের বিচার করা সম্ভব। তবে ইসলামী আইন অপেক্ষাকৃত বেশি কার্যকর। যেহেতু চৎবাবহঃরড়হ রং নবঃঃবৎ ঃযবহ পঁৎব “রোগ প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম” সেহেতু বর্তমান প্রবন্ধে নির্দেশিত ইসলামী বিধি-বিধানসমূহ পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে বাস্তবায়ন করা গেলে পারিবারিক জীবনে অপরাধের হার শূণ্যের কোঠায় নেমে আসবে। ইসলামী জীবন ব্যবস্থা থেকে বিচ্যুতিই পারিবারিক জীবনে অপরাধের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। তাই অপরাধের ক্রমবার্ধমান এই নবতর প্রবণতা রুদ্ধ করা না গেলে সার্বিক অর্থে পারিবার ব্যবস্থা ও সমাজ ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়বে। তাই সংশ্লিষ্ট সকলকে বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে আরো বৃহত্তর পরিসরে গবেষণা করে এর কারণসমূহ উদঘাটন করে প্রতিরোধ ও প্রতিকারের করনীয় নির্ধারণ করতে হবে। ৯০ শতাংশ মুসলিমের দেশে পারিবারিক জীবনে ইসলামী মূল্যবোধ ও নৈতিকতা এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রে ইসলামী আইন প্রতিষ্ঠা করা গেলেই পরিবারকে বাস্তবেই শান্তির আধারে পরিণত করা সম্ভব। (সমাপ্ত)






