
সারা দেশের ন্যায় সিলেটেও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে শুক্রবার ২১ মে বিশ^ মেডিটেশন দিবস পালিত হয়। বিশে^র অন্যান্য দেশের ন্যায় এই বছর প্রথমবারের মতো বাংলাদেশেও সামাজিক-মানবিক সংগঠন কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বিশ^ মেডিটেশন দিবস পালিত হলো। এ বছরের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিলো ‘নিয়মিত মেডিটেশন: সুস্থ সফল সুখী জীবন’। দিবসের অন্যতম প্রধান কর্মসূচি ছিলো শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় সারা দেশে ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন সেন্টারে ও ব্যক্তিগতভাবে নিজ নিজ সুবিধাজনক স্থানে একযোগে মেডিটেশন কর্মসূচি আয়োজন।
কর্মসূচির আওতায় নগরীর মাছুদীঘির পার, আম্বরখানা ইলেকট্রিক সাপ্লাই রোড, শাহজালাল উপশহর, দক্ষিণ সুরমা, বাগবাড়িস্থ কোয়ান্টাম সেন্টারসহ সিলেট বিভাগের বিভিন্ন উপজেলায়ও আলোচনাসভা ও মেডিটেশন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন সিলেট সেন্টারে সেন্টার ইনচার্জ শাহরিয়ার আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় অনুভূতি ব্যক্ত করেন মাহবুব হাসান কাওসার, দেবী সরকার, গায়ত্রী রায়। দিবসটি পালন উপলক্ষে সেন্টারের উদ্যোগে এক আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।
কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের আম্বরখানা শাখায় মোমেন্টিয়ার অধ্যাপক শেখ মো. আবদুর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উপসচিব জুলিয়া যেসমিন মিলি। সিলেট এমসি কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপিকা অলকা রাণী দাস মহালদারের উপস্থাপনায় অন্যান্যের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন দেশের প্রাচীনতম সাহিত্য সাময়িকী মাসিক আল ইসলাহ সম্পাদক সেলিম আউয়াল, সফটওয়ার প্রকৌশলী ইউসুফ কামাল, ব্যবসায়ী জাকারিয়া ইফতেখার শামীম। দিবসটি পালন উপলক্ষে শাখায় এক কোয়ান্টাম মেলা অনুষ্ঠিত হয়।
কোয়ান্টাম শাহজালাল উপশহর শাখার ইনচার্জ নাজমুন নাহারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন শাবিপ্রবি’র প্রফেসর তাহমিনা ইসলাম। বাগবাড়ি শাখায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন আজিজুর রহমান।
উল্লেখ্য, পৃথিবী জুড়ে মেডিটেশনের প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে ২১ মে বিশ্ব মেডিটেশন দিবস পালন করা হয়ে থাকে। বিশ্ব মেডিটেশন দিবসকে প্রথমবারের মতো দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশের সামাজিক-মানবিক সংগঠন কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন। তিন দশক ধরে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন সাধারণ মানুষের কাছে মেডিটেশনের কার্যকারিতা ও প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরতে অবিরাম কাজ করে যাচ্ছে। প্রাচ্য এবং পাশ্চাত্যের মেডিটেশন পদ্ধতির সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে কোয়ান্টামের ধ্যান পদ্ধতি। কোয়ান্টাম মেথড নামে পরিচিত এই মেডিটেশন পদ্ধতির প্রবর্তক শহীদ আল বোখারী মহাজাতক। যিনি এখন পর্যন্ত প্রায় ৪৭৫টি ব্যাচে কয়েক লাখ মানুষকে সরাসরি মেডিটেশনের কৌশল শিক্ষা দিয়েছেন।
মনের ওপর পরিপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা ও আত্মিক পরিশুদ্ধির জন্য প্রাচ্যে মেডিটেশনের চর্চা অন্তত পাঁচ হাজার বছর ধরে চলে এসেছে। আধুনিক মেডিটেশন এখন আত্মিক উন্নতি, মানসিক প্রশান্তি, শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি বৈষয়িক উন্নতির মাধ্যম হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে। বিজ্ঞপ্তি







