বর্ণবৈষম্যের প্রতিবাদে সিনসিনাটির সেমিতে অংশ নেবেন না ওসাকা

7

স্পোর্টস ডেস্ক :
মাস তিনেক আগে যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েড হত্যার প্রতিবাদের ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছিল বিশ্বজুড়ে। ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ আন্দোলনের সঙ্গে পরিচিতি ঘটেছিল পৃথিবীব্যাপী মানুষের। সেই রেশ এখনও ফিকে হয়নি। এরই মধ্যে ফ্লয়েড ঘটনার পুনরাবৃত্তি যুক্তরাষ্ট্রে। গত রবিবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন প্রদেশের কেনোশা শহরে জ্যাকব ব্লেক নামে এক আফ্রো-আমেরিকান কৃষ্ণাঙ্গকে একাধিকবার গুলিবিদ্ধ করে পুলিশ। হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন ব্লেক।
জানা গিয়েছে, একটি গুলিতে তাঁর স্পাইনাল কর্ড এমনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে বেঁচে ফিরলেও আর হয়তো কখনও চলাফেরা করতে পারবেন না ব্লেক। ঘটনায় ফের প্রতিবাদের ঝড় যুক্তরাষ্ট্রে। বিশেষ করে ক্রীড়াক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক প্রতিবাদের সাক্ষী থেকেছে ট্রাম্পের দেশ।
বুধবার ঘটনার প্রতিবাদে এনবিএ’র সমস্ত ম্যাচ বয়কট করা হয়। বৃহস্পতিবার ইউএস ওপেনের প্রস্তুতি টুর্নামেন্ট হিসেবে চলতি সিনসিনাটি ওপেনের সমস্ত ম্যাচ বন্ধ রাখা হয়েছে। যদিও সিনসিনাটি ওপেনের মঞ্চে এই ঘটনায় প্রথম প্রতিবাদের সুর চড়ান জাপানের নারী তারকা প্লেয়ার নাওমি ওসাকা।
‘আমি আগে একজন কৃষ্ণাঙ্গ, তারপর একজন অ্যাথলেট’। বুধবার এই ভাষাতেই এস্তোনিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনাল জয়ের পর সেমিফাইনালে থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেন দুবারের গ্র্যান্ড স্ল্যামজয়ী। টুইটবার্তায় জাপানের অ্যাথলেট আরও লেখেন, ‘একজন কৃষ্ণাঙ্গ নারী হিসেবে আমি মনে করি, আমার খেলা দেখার চেয়ে এই মুহূর্তে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ দেওয়ার আছে। বলছি না যে, আমি না খেললে রাতারাতি সব বদলে যাবে। তবে আমার নাম প্রত্যাহারে শ্বেতাঙ্গ মহলে যদি আলোচনা শুরু হয় তাহলে মনে করব আমার পদক্ষেপ সঠিক ছিল।’
ওসাকার নাম প্রত্যাহারের পর ডব্লিউটিএ বৃহস্পতিবার সিনসিনাটি ওপেনের সমস্ত খেলা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। পাশপাশি এমএলবি এবং এমএলএস’র ম্যাচও স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এস্তোনিয়ার আনেত কোন্তাভেতকে ৪-৬, ৬-২, ৭-৫ সেটে হারিয়ে বুধবার সিনসিনাটি ওপেনের সেমিফাইনালে পৌঁছে গিয়েছিলেন ওসাকা। টুর্নামেন্ট সাময়িক স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে এক বিবৃতিতে ডব্লুটিএ জানিয়েছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রে বর্ণবৈষম্য এবং সামাজিক অন্যায়ের প্রতিবাদে টেনিসমহল সম্মিলিতভাবে একটি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।’