সুনামগঞ্জে তৃতীয় দফায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

20

আল-হেলাল সুনামগঞ্জ থেকে :
৩য় দফায় ভয়াবহ বন্যা শুরু হয়েছে ভাটির জনপদ সুনামগঞ্জে। ইতিমধ্যে জেলার প্রধান নদী সুরমার পানি বৃদ্ধি পেয়ে সুনামগঞ্জ পৌরসভার নবীনগর, ষোলঘর, কাজির পয়েন্ট, উকিল পাড়া, মধ্যবাজার, পশ্চিমবাজার, আরপিন নগর, তেঘরিয়া, বড়পাড়া, আমপাড়া আবাসিক এলাকা এবং সদর উপজেলার মইনপুর, ইব্রাহিমপুর, সদরগড় ও অচিন্তপুরসহ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। সুরমার পাশাপাশি তাহিপুর উপজেলার যাদুকাটা নদীতেও অনেক পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। জেলার দোয়ারাবাজার, তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় জেলা সদরের সাথে আবারো ৩ উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে গত ২ দিনে প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে আবারও শুরু হয়েছে প্রবল পাহাড়ী ঢল। একদিকে বজ্রপাতসহ শিলাবৃষ্টি অন্যদিকে প্রবল পাহাড়ী ঢলে নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ২৫ সেন্টিমিটারের উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এই সময়ে ভারতের চেরাপুঞ্জিতে ৩২৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে মঙ্গলবার সকাল ৯টায় সুরমার পানি বিপদসীমার ৭.৮০ সেন্টিমিটার অতিক্রম করে ৮.০৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
উল্লেখ্য গত ২৫ থেকে ২৯ জুন সুনামগঞ্জে প্রথম দফায় এবং ৯ জুলাই থেকে ১৪ জুলাই ২য় দফায় বন্যা হয়। এতে জেলা শহর নিমজ্জিত হয়ে ৮ উপজেলার ৭০ ইউনিয়নে বন্যা দেখা দেয়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় মানুষের বসতবাড়ী গবাদিপশুসহ মূল্যবান সহায় সম্পদ। ১৫ জুলাই শহরের পানি নেমে গেলেও গ্রামাঞ্চলে এখনও বিরাজ করছে বন্যা পরিস্থিতি। এর মধ্যে ২০ জুলাই সোমবার থেকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আবারও লাগাতার পাহাড়ী ঢল,বৃষ্টি বন্যায় ভেসে যাচ্ছে একটি পর একটি গ্রাম।
সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখত বলেন,পৌর এলাকায় ২৭টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু রয়েছে। সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি আরিফ আদনান বলেন,উপজেলার ১৯টি হাইস্কুল ও ১২৯টি প্রাইমারী স্কুলকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ সবিবুর রহমান বলেন, মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে ভারী বৃষ্টি হওয়ায় সুনামগঞ্জে তৃতীয় দফায় বন্যা শুরু হয়েছে। আগামী ৩/৪ দিন এ অবস্থা বিরাজমান থাকলেও পরবর্তীতে অবস্থার উন্নতি হবে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ বলেন, জেলার ১১টি উপজেলায় বন্যা তথ্যকেন্দ্র ও আশ্রয়কেন্দ্র সার্বক্ষণিকভাবে চালু রাখা হয়েছে। আমরা তৃতীয় দফা বন্যা মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত আছি।