জামালগঞ্জে ভোগান্তিতে লাখো মানুষ, মিলছে না পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা

41
বন্যায় তলিয়ে যাওয়া সুনামগঞ্জে জামালগঞ্জের একটি প্রত্যন্ত গ্রাম।

নিজাম নুর জামালগঞ্জ থেকে :
ভারতের মেঘালয়ের ভারি বৃষ্টিপাত ও সারাদেশের প্রচুর বৃষ্টিপাত এবং দক্ষিণ থেকে দেয়ে আসা প্রবল বাতাসে তৃতীয় বারের মত বন্যা দেখা দিয়েছে সুনামগঞ্জের জেলার জামালগঞ্জ সহ সবকটি উপজেলায়। উপজেলার শতাধিক গ্রামের মানুষ পানিবন্দী। বার বার বন্যা দেখা দেওয়ায় বিপাকে লাখ মানুষ। দিশেহারা হয়ে ঘরে বাড়ি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে নিয়েছেন সাময়িক আশ্রয়। কেউ কেউ গবাদিপশু সহ ঘরের আসবাবপত্রের মায়ায় পানির উপরেই বসবাস করছেন। কেউ বা আশ্রয় নিয়েছেন আত্মীয় কিংবা নিকটস্থ বাসমান কোন বাড়িতে ফলে ভোগান্তির চরম পর্যায় পৌঁছে গেছে সাধারণ লোকজন। দিন মজুর সহ কেটে খাওয়া লোকজন ঘর বন্দী হওয়ায় না খেয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে অনেকে। বন্যার স্থায়িত্ব দীর্ঘ মেয়াদী হওয়ায় ত্রাণেও প্রাণ বাঁচাচ্ছে অনেকের। জামালগঞ্জ উপজেলায় আবারও তৃতীয় ধাপে বন্যা দেখা দেওয়ায় ইতিমধ্যে আবারও পানি বন্দী হয়ে পড়েছেন উপজেলার সবকটি ইউনিয়নের।
২০ জুলাই (সোমবার) সরেজমিনে উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়। আবারও রাস্তাঘাট ঘর বাড়ি ডুবছে এবং পানি বাড়তেই আছে। যেভাবে পানি বাড়ছে আর নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে এতে তৃতীয় ধাপে আরও বড় বন্যার আশঙ্কা করছেন উপজেলাবাসী।
জামালগঞ্জে গত ২ দফা বন্যায় পুরো সুনামগঞ্জ সহ জামালগঞ্জ উপজেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ওই বন্যায় রাস্তাঘাট, মৎস্য খামারের ব্যাপক ক্ষতি হয়। বিশেষ করে মৎস্য খামারীরা দিশেহারা। ভীমখালী ইউনিয়নের মৎস্য চাষী ওষুধ মিয়া জানান, আমার পুকুর প্রায় ৮ একর জমি নিয়ে অবস্থিত। প্রায় ২-৩ মণ মাছ সহ রেনু পোনাও ছিল কিন্তু এই বন্যায় পুকুরে আর কিছুই রইল না। প্রায় ১০ লক্ষ টাকার মাছ এই বন্যায় ভেসে গেছে। আমার জীবনের সঞ্চয় বলতে এটুকেই কিভাবে বউ পোলা নিয়ে বাঁচব সেই চিন্তায় আছি। সরকার যদি আমাদের একটু দেখে তাইলে কোন রকম বাঁচব।
এদিকে দ্বিতীয় দফা বন্যার পানি কিছুটা কমলেও এখনো নিম্নাঞ্চল থেকে পানি পুরোদমে সরেনি। এই অবস্থায় তৃতীয় ধাপে বন্যায় ব্যাপক আতঙ্ক আর কষ্টের প্রহর গুণছেন হাওরপারের মানুষজন। যদিও ত্রাণ বিতরণ সরকারে পাশাপাশি অন্যান্য সামাজিক সংগঠনের বিদ্যমান রয়েছে তবুও হতাশা আর চরম কষ্টে কাঠছে মানুষের দিনযাপন। ফেনারবাকঁ ইউনিয়নের হঠামারা গ্রামের এক কৃষক জানান, ত্রাণে কি আর প্রাণ বাঁচে। আমরা হাওরে তাকি বছরে একবারেই বোরো ফসল ফলাই তা দিয়েই নিজের সাধ্য মত চলি, ছেলে মেয়েদের পড়ালেখা সহ বিভিন্ন প্রয়োজন মেটাতে হিমশিম খেতে হয় তারপরও এই বন্যার পানি আমাদের ঘর বাড়ী সহ সব কিছু ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। নিজের খাবারে ধান গুলোও ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। আশ্রয়কেন্দ্রে যাবার কথা উল্লেখ করলেই তিনি বলেন, কয়জন আর ঐ খানে থাকবে দশ পনেরটা পরিবার উঠলে পরে আর কোন জায়গাই তাকে না, তাছাড়া নিজের ঘর গরু, ছাগলের কথা চিন্তা করলে যেতেই মন চায় না।