হারিয়ে যাওয়া তাঁত শিল্প ফিরে আসছে তাহিরপুরের আদিবাসী পাড়ায়

বাবরুল হাসান বাবলু তাহিরপুর থেকে :
তাঁতের খট খট শব্দ আবার ফিরে এসেছে তাহিরপুরের সীমান্ত গ্রাম কড়ইগড়ার আদিবাসী পাড়ায়। ২৮ বছর ধরে হারিয়ে যাওয়া এ তাঁত শিল্প ফিরে পেয়ে খুশিতে মাতোয়ারা অনেক পরিবার। এমনটাই দেখা গেছে উপজেলার সীমান্ত গ্রামের আদিবাসী পাড়া ঘুরে।
স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায় ৮০ দশকে তাহিরপুর উপজেলার সীমান্ত গ্রাম রাজাই, কড়ইগড়া, লালঘাট সহ বেশ কয়েকটি গ্রামে আদিবাসী জনগোষ্ঠিদের মধ্যে অধিকাংশ পরিবারে একটি করে তাঁত মেশিন ছিল। তাঁত মেশিনগুলোতে তখনকার সময় তারা দুকমানদা শাড়ি, দুক শাড়ি ও ওড়না তৈরী করে নিজেদের পরিধানের বস্ত্র ব্যবহার করতেন। পাশাপাশি সিলেট ঢাকা সহ বিভিন্ন স্থানে কিছুটা তাঁতের কাপড় বিক্রিও করতেন এখানকার আদিবাসী তাতীরা। সে সময় ঐ আদিবাসী পাড়ার লোকজনদের একমাত্র উপার্জনের জায়গাও ছিল এ তাঁতশিল্প। কিন্তু কালের আবর্তে তাঁত শিল্পের চাহিদা কিছুটা কমে যাওয়ায় অনেকটা বেকায়দার পড়েন স্থানীয় তাঁত শিল্পীরা। ৯০ দশকের প্রথম দিকে শুধু মাত্র অর্থাভাবে বন্ধ হয়ে যায় ঐতিহ্যবাহী এ শিল্পটি। তখন কর্মহীন লোকজন কাজের জন্য পাড়ি জমান দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। পরবর্তীতে দীর্ঘদিন ধরে এ শিল্পটি ফিরিয়ে আনতে স্থানীয় আদিবাসীরা কাজ করে যান কিন্তু কোন উপায় বেড় করতে পারেন নি। এরই ধারবাহিকতায় এ শিল্পটিকে ফিরিয়ে আনতে এখানকার স্থানীয় আদিবাসী মহিলারা ২০১৫ সালে গড়ে তোলেন সুরমা আদিবাসী মহিলায় সমবায় সমিতি নামে একটি সংগঠন।
আর সংগঠনের লোকজন গত দু’বছরে সরকারী বেসরকারী ভিবিন্ন দপ্তরে ঘুরে কিছু টাকা সংগ্রহ করে সম্প্রতি কয়েকটি তাঁতের মেশিন ও প্রয়োজনীয় সুতা কিনে ২৮ বছর ধরে হারিয়ে যাওয়া এ শিল্পটিকে নতুন করে চালু করেন। আর নতুন করে আবার পুরনো স্বপ্ন দেখেন আদিবাসী পাড়ার লোকজন।
কড়ইগড়া গ্রামের আদিবাসি নারী ঝর্ণা রাকসাম বলেন,আমরা হারিয়ে যাওয় তাতশিল্প ফিরে পেয়েছি। এ শিল্পটি বাঁচিয়ে রাখতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
কড়ইগড়া সুরমা আদিবাসি মহিলা সমবায় সমিতির সভাপতি সুষমা জাম্বিল বলেন, সরকারী বেসরকারী বিভিন্ন দফতরে ঘুরে কিছু অনুদান পেয়েছিলাম তা দিয়ে শুরু করেছি। সবার সহযোগিতা না পেলে যে কোন সময় আবার বন্ধ হয়ে যেতে পারে এ ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্পটি।