পাঁচ সিটি নির্বাচন

20

গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ১৫ মে এ দুই সিটিতে ভোটগ্রহণ হবে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ১২ এপ্রিল। যাচাই-বাছাই ১৫ ও ১৬ এপ্রিল। প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৩ এপ্রিল। দুই সিটির নির্বাচনের জন্য রিটার্নিং অফিসারও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের আগে পাঁচ সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠানে কোনো আইনি জটিলতা নেই, সরকারের কাছ থেকে এমন সবুজ সংকেত পাওয়ার পরই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হলো। গাজীপুর সিটিতে ভোট হয়েছে ২০১৩ সালের ৬ জুলাই। প্রথম সভা হয় ২০১৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর। আইন অনুযায়ী এ সিটি করপোরেশনের মেয়াদ পূর্ণ হবে আগামী ৪ সেপ্টেম্বর। খুলনা সিটিতে ভোট হয়েছে ২০১৩ সালের ১৫ জুন। প্রথম সভা হয় একই বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর। এ সিটি করপোরেশনের মেয়াদ পূর্ণ হবে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর। স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন অনুযায়ী পাঁচ বছর মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার ১৮০ দিনের মধ্যে যেকোনো সময় ভোট করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। পাঁচ বছর আগে নির্দলীয় প্রতীকে ভোট হলেও এবার মেয়র পদে দলীয়ভাবে ভোট হবে খুলনা ও গাজীপুরে। সিলেট, রাজশাহী ও বরিশালের নির্বাচনের বিষয়ে রমজানের পর সিদ্ধান্ত জানাবে ইসি।
স্থানীয় সরকারের নির্বাচন হলেও সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের রাজনৈতিক গুরুত্ব অনস্বীকার্য। বিশেষ করে গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গাজীপুর রাজধানীসংলগ্ন সিটি করপোরেশন। দুই সিটিরই বাণিজ্যিক গুরুত্ব রয়েছে। খুলনা ও গাজীপুর এখন শিল্পনগরী। নতুন নির্বাচন কমিশন বেশ কয়েকটি নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করায় জাতীয় নির্বাচনের আগে সিটি করপোরেশনগুলোর নির্বাচনও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। অনেকে মনে করছে, এই পাঁচ সিটির ভোটের ভেতর দিয়ে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অবস্থা কিছুটা হলেও আঁচ করা সম্ভব হবে। পাঁচ সিটির নির্বাচন আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কিছুটা হলেও প্রভাবিত করবে। অন্যদিকে সরকারের নিরপেক্ষতা প্রমাণের সুযোগ রয়েছে এই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে।
বাংলাদেশে যেকোনো নির্বাচনেই এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। তফসিল ঘোষণার পর থেকেই গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশন এলাকায় সম্ভাব্য প্রার্থীরা জনসংযোগ ও শুভেচ্ছা বিনিময় শুরু করে দিয়েছেন। প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দল থেকে মেয়র পদে কারা মনোনয়ন পাচ্ছেন, তা নিয়ে এলাকায় নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে। বাংলাদেশের যেকোনো নির্বাচনে কালো টাকা ও পেশিশক্তির ব্যবহার দেখা যায়। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এসব ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনকে যথেষ্ট সচেতন থাকতে হবে। নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা ও স্বচ্ছতা যাতে কোনোভাবেই প্রশ্নবিদ্ধ না হয় সে ব্যাপারে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। এ দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রভাব পড়বে অন্যান্য সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে, এমনকি জাতীয় নির্বাচনেও। কাজেই গুরুত্বপূর্ণ এ নির্বাচন সুষ্ঠু হতে হবে।