স্টাফ রিপোর্টার
প্রচন্ড গরমে সিলেটে বিদ্যুতের ৭০ মেগাওয়াট লোডশেডিংয়ে জনজীবনে চরম বিপর্যস্ত নেমে এসেছে। প্রতিদিনের চাহিদা ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ থাকলেও সেখানে পাচ্ছে প্রতিদিন ১৬০ মেগাওয়াট। কোনোদিন তা ১৪০ মেগাওয়াটেও নেমে আসে। বিদ্যুতের এই ঘাটতি পূরণ করা হচ্ছে এক ঘন্টা বিদ্যুৎ, আবার এক ঘন্টা লোডশেডিংÑ এরকম লুকোচুরি করে। এতে ব্যবসা বাণিজ্যে ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেখা দিচ্ছে স্থবিরতা। বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে সিলেটে লোডশেডিংয়ের এ ভয়াবহ চিত্র পাওয়া গেছে।
এদিকে, তেলের দাম বাড়ায় দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। পাশাপাশি ভারতের আদানি কোম্পানির বকেয়া থাকার কারণেও বিদ্যুৎ আমদানি কমেছে। যে কারণে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ বিতরণ কম হচ্ছে। আর সেই প্রভাব পড়েছে সিলেটের বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডে।
সিলেট পিডিবি সূত্র জানায়, সিলেটে গত সপ্তাহে ঘনঘন লোডশেডিং হয়েছে। প্রায় ৭০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করে সিলেটের এ বিদ্যুৎ ঘাটতি পূরণ করা হয়েছে। এতে সিলেটে চরম ভোগান্তিতে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। ব্যবসায় লোকসান গুনছেন বড় বড় শপিং মলের দোকানিরা। কারণ, বিদ্যুৎ না থাকলে ক্রেতারা শপিং মলে প্রবেশ করেন না। এদিকে, মাত্রাতিরিক্ত লোডশেডিংয়ে অতীষ্ঠ হয়ে ওঠেছেন বাসার বিদ্যুৎ গ্রাহকরা। দিন রাত সমান তালে লোডশেডিং করা হচ্ছে। এমনকি মধ্যরাতেও বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে।
বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ গ্রিড পিএলসি বিদ্যুৎ পাচ্ছে দেশিয় কয়েকটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র থেকে। মূলত, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় এসব প্লান্টে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমেছে। যে কারণে পিএলসিকে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবাহ করতে পারছে না উৎপাদন কেন্দ্র। তাই পিএলসি দেশের পিডিবিকে তাদের চাহিদা অনুসারে বিদ্যুৎ বরাদ্দ কম দিচ্ছে। এদিকে, ভারতের আদানি কোম্পানির বকেয়া থাকায় তারাও বিদ্যুতের যোগান দিচ্ছে কম। সব মিলিয়ে গরমে আরও কয়েক সপ্তাহে এরকম লোডশেডিং ভোগান্তিতে পড়বেন সিলেটবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তীব্র গরমের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সিলেটের মানুষ। প্রতি ঘন্টায় ঘন্টায় লোডশেডিং করা হচ্ছে। কোন কোন এলাকায় ঘন্টার পর ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। নগরীর চেয়ে গ্রাম অঞ্চলের চিত্র আরও ভয়াবহ।
এদিকে, আজ বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা। লোডশেডিংয়ের কারণে দুর্ভোগে পড়েছে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, চাহিদামাফিক সরবরাহ না পাওয়ার কারণে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। আর গত রবিবার সংসদে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন, কারিগরি ত্রæটির কারণে দুটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহ প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট কমে গেছে। একারণে লোডশেডিং বেড়েছে। তবে আগামী দুই দিনের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। অবস্থার উন্নতি হলে লোডশেডিংয়ের প্রকোপ কমে যাবে।
সিলেটে গত ১০/১২ দিন ধরে লোডশেডিং মারাত্মক আকার নিয়েছে। দিনের বড় অংশই বিদ্যুৎ থাকে না বলে অভিযোগ গ্রাহকদের। এছাড়াও বিশ্বকাপ ফুটবলে লোডশেডিংয়ের কারণে খেলা দেখতে বিভ্রাট হওয়ার কারণে বিদ্যুৎ অফিস ঘিরে উত্তেজনার খবর পাওয়া যাচ্ছে।
নগরীর আখালির হান্নান মিয়া বলেন, দিনের বেলা খুব ঘনঘন লোডশেডিং হচ্ছে। আগে আধাঘন্টা পর পর বিদ্যুৎ চলে যেতো। এখন এক ঘন্টা পর পর বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করে। এতে শুধু ভোগান্তিই বাড়েনি, আমাদের ব্যবসায় লস হচ্ছে।








