জাতীয় সমবায় দিবস আজ

4

কাজিরবাজার ডেস্ক :
আজ ৬ নবেম্বর, শনিবার ৫০তম জাতীয় সমবায় দিবস। এবার সারাদেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি উদযাপিত হচ্ছে। এবারের জাতীয় সমবায় দিবসের প্রতিপাদ্য ‘বঙ্গবন্ধুর দর্শন, সমবায়ে উন্নয়ন’। সমবায় দিবস ২০২১ উপলক্ষে সকাল ১০টায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সমবায় অধিদফতর আয়োজিত জাতীয় সমবায় পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান হচ্ছে। এতে প্রধান অতিথি থাকছেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম।
সমবায় সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করা এবং সমবায় আন্দোলনে গতিশীলতা আনয়নের জন্য প্রতিবছর নবেম্বর মাসের ১ম শনিবার দিবসটি দেশব্যাপী উদযাপন করা হয়। এবার জাতীয় সমবায় দিবস উপলক্ষে ১০টি ক্যাটাগরিতে ৮টি সমবায় সমিতি এবং ২ জনকে ব্যক্তি পর্যায়ে জাতীয় সমবায় পুরস্কার প্রদানের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। সমবায় দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী বাণী দিয়েছেন।
৫০তম জাতীয় সমবায় দিবস উপলক্ষে শুক্রবার দেয়া বাণীতে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ বলেন, কোভিড-১৯ এর কারণে সারাবিশ্ব বর্তমানে এক কঠিন সময় পার করছে। সমবায় পদ্ধতির পারস্পরিক সহযোগিতা, সমবেত প্রচেষ্টা ও মূল্যবোধের চর্চা বর্তমান সঙ্কট উত্তরণে ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সমবায়কে উন্নয়নের অন্যতম প্রায়োগিক পদ্ধতি হিসেবে বিবেচনা করেছিলেন। সমবায় সম্পর্কে বঙ্গবন্ধুর চিন্তাধারা ছিল গভীর এবং ব্যাপক।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের কৃষি ও অন্যান্য উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগসহ উৎপাদিত পণ্যের বাজারজাতকরণ ও পণ্যের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তিসহ নারীর ক্ষমতায়ন, অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন প্রভৃতি ক্ষেত্রে সমবায় একটি কার্যকর পদ্ধতি। বর্তমানে দেশে প্রায় ১ লাখ ৯৬ হাজার সমবায় সমিতি রয়েছে। এসব সমবায় সমিতি শেয়ার ও সঞ্চয়ের মাধ্যমে পুঁজি গঠন, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, উৎপাদন, বিপণন প্রভৃতি কার্যক্রমের মাধ্যমে নিজেদের ভাগ্যোন্নয়নসহ সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বঙ্গবন্ধু তাঁর অর্থনৈতিক উন্নয়ন দর্শন বাস্তবে রূপ দিতে সমবায়ের অন্তর্নিহিত শক্তিকে পুরোমাত্রায় ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অর্থনৈতিক দর্শন সমবায়ের শক্তিকে একটি গণমুখী সমবায় আন্দোলনে পরিণত করতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
৫০তম জাতীয় সমবায় দিবস উপলক্ষে শুক্রবার এক বাণীতে সরকারের লক্ষ্য পূরণে দেশের সমবায় সংগঠনগুলো অগ্রণী ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সমবায়ের গুরুত্ব বিবেচনা করে দেশের সংবিধানে সমবায়কে মালিকানার দ্বিতীয় খাত হিসেবে নির্ধারণ করেন। বঙ্গবন্ধুর অন্যতম উন্নয়ন দর্শন ছিল সমবায়। তিনি বলেন, গণমানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য জাতির পিতা গণমুখী সমবায় আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন। দেশের অন্যতম সমবায় প্রতিষ্ঠান ‘মিল্কভিটা’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের হাতেই গড়ে ওঠে।
দেশের সকল সমবায়ীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ সমবায়ের মাধ্যমে দারিদ্র্যমোচন ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বর্তমানে দেশে প্রায় ১ লাখ ৯৬ হাজার সমবায় সমিতি রয়েছে, যার ব্যক্তি সদস্য প্রায় ১ কোটি ১৭ লাখ। সমবায় দেশের কৃষি, মৎস্য চাষ, পশু পালন, দুগ্ধ উৎপাদন, পুষ্টি চাহিদা পূরণ, পরিবহন, ক্ষুদ্র ব্যবসা, আবাসন, নারীর ক্ষমতায়ন, অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সমবায় কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আনতে আইন করা হয়। সমবায় খাতে বাজেট বৃদ্ধিসহ প্রশিক্ষণ, আর্থিক ও উপকরণ সহায়তা প্রদানের কারণে সমবায়ীদের জীবনমান ও সামাজিক উন্নয়ন উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা মুজিববর্ষে জাতির পিতার গণমুখী সমবায় ভাবনার আলোকে ‘বঙ্গবন্ধু মডেল ভিলেজ’ করার কাজে হাত দিয়েছি। প্রাথমিকভাবে দেশের ৯টি জেলার ১০টি গ্রামের ৫ হাজার মানুষ এ প্রকল্পের সুফল পাবেন। গ্রামের মানুষের আয় বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে উন্নত গ্রামীণ জীবনযাপনের সুযোগ ও গ্রাম থেকে শহরমুখী জনস্রোত কমাতে এ প্রকল্প ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য কাজ করে চলেছে। আশা করি, সরকারের এ লক্ষ্য পূরণে দেশের সমবায় সংগঠনগুলো অগ্রণী ভূমিকা রাখবে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমরা সক্ষম হব। ইনশাআল্লাহ!