বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতা, সাম্প্রদায়িকতা ও মানবিক সংকটের এই সময়ে বিশ্বমানবতার পথ প্রদর্শনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের দর্শন অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। এই চেতনাকে বুকে ধারণ করে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, সিলেট জেলা সংসদের উদ্যোগে উদযাপিত হলো ‘রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী’। উদীচীর শিল্পীকর্মীদের গান, নাচ, কবিতা আর গুণীজনদের কথামালায় অনুষ্ঠানটি এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত হয়।
উদীচী, সিলেট জেলা সংসদের সভাপতি প্রদীপ দেবরায়ের সভাপতিত্বে আয়োজনের আলোচনা পর্ব সঞ্চালনা করেন জেলা সংসদের সহকারী সাধারণ সম্পাদক ধ্রুব গৌতম।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক দেবব্রত পাল মিন্টু। শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন সম্মিলিত নাট্যপরিষদ সিলেট জেলার প্রধান পরিচালক শামসুল বাসিত শেরো এবং উদীচী সিলেটের সাবেক সভাপতি বিশিষ্ট কবি এ কে শেরাম।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে সমকালীন সামাজিক ও বৈশ্বিক বাস্তবতায় রবীন্দ্রনাথের মানবতাবাদ এবং নজরুলের সাম্য ও প্রতিবাদের চেতনাকে ধারণ করে সমাজ থেকে অন্যায়, বৈষম্য ও ভেদাভেদ দূর করে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও অসাম্প্রদায়িক সমাজ গঠনের আহ্বান জানান।
আলোচনা সভা শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। উদীচী সিলেট জেলা সংসদের শিল্পীবৃন্দ একক ও সমবেত কণ্ঠে রবীন্দ্রসংগীত ও নজরুলগীতি পরিবেশন করেন। উদীচীর বন্ধুদের চমৎকার ও নান্দনিক নৃত্য পরিবেশনা উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে। এছাড়াও উদীচী-সিলেটের শিল্পীকর্মীবৃন্দ সমবেত কণ্ঠে (কোরাসে) কবিতা আবৃত্তি পরিবেশন করেন।
উক্ত রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তীর অনুষ্ঠানে সিলেটের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) সিলেট জেলার সভাপতি সৈয়দ ফরহাদ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক খায়রুল হাছান, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন সিলেট জেলা সংসদের সভাপতি মাশরুখ জলিল, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) সংগঠক নাজনীন লীজা, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ সিলেট জেলার সম্পাদক সিরাজ আহমদ, বাংলাদেশের সাম্যবাদী আন্দোলন সিলেট জেলার সমণ্বয়ক মহিতোষ দেব মলয়, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল সিলেট জেলার সভাপতি তানজিনা বেগম, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র সিলেট জেলার সভাপতি নাজিকুল রানা, কথাকলির সভাপতি নীলাঞ্জন দত্ত টুকু, নাট্যজন অরিন্দম দত্ত চন্দনসহ বিভিন্ন বামপন্থী-প্রগতিশীল রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।










