শাহ্ মাশুক নাঈম, দোয়ারাবাজার
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর কয়েকদিনের বর্ষণে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির দ্রæত অবনতি ঘটছে। নদ-নদীর পানি আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে, তলিয়ে গেছে গ্রামীণ সড়ক। এতে জনজীবন চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দা ও মৎস্যচাষিরা সবচেয়ে বেশি উদ্বেগে রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সীমান্তবর্তী চেলা, খাসিয়ামারা, কালিউরি, মৌলা ও চিলাই নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। অনেক গ্রামীণ সড়কে পানি ওঠায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। নিম্নাঞ্চলের বসতবাড়িতে পানি প্রবেশ করতে শুরু করায় অনেক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে উপজেলার সদর, সুরমা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বেশ কয়েকটি গ্রামীণ সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। সড়কে হাঁটুপানি থাকায় স্থানীয়দের চলাচলে দুর্ভোগ নেমে এসেছে। কৃষিজমির আমনের বীজতলা ও বিভিন্ন ধরনের সবজি ক্ষেত পানির নিচে চলে যাওয়ায় কৃষকেরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি উৎকণ্ঠায় রয়েছেন উপজেলার কয়েক হাজার মৎস্যচাষী।
তবে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বিশেষ করে সুরমা, বোগলা, লক্ষীপুর, দোহালিয়া, দোয়ারাবাজার ইউনিয়নের অসংখ্য পুকুর তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পানি আরও বাড়লে কয়েক কোটি টাকার মাছ ভেসে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অরুপ রতন সিংহ কালবেলাক জানান, সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে, জরুরি যোগাযোগের জন্য কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। নৌকার মাঝিদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকদের সমন্বয়ে মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে।







