বাড়ছে কুশিয়ারার পানি : ওসমানীনগরে বন্যার আগাম প্রস্তুতি খোলা হয়েছে ২৩ আশ্রয়কেন্দ্র

2

শিপন আহমদ, ওসমানীনগর
ঘূর্ণিঝড় রিমেলের প্রভাব, ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিলেটের বেশ কয়েকটি উপজেলা বন্যা আক্রান্ত হয়েছে। ইতিমধ্যে বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে কুশিয়ারা নদীর পানি। তাই সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় নেয়া হয়েছে আগাম বন্যার প্রস্তুতি। খোলা হয়েছে ২৩টি আশ্রয়কেন্দ্র ও উপজেলা কন্ট্রোল রুম। বন্যা মোকাবেলায় তৎপর রয়েছে উপজেলা প্রাশাসন।
জানা গেছে, কয়েক দিনে অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে ওসমানীনগরের সীমান্তবর্তী কুশিয়ারা নদীর পানি। অব্যাহত পানি বৃদ্ধি পেলে কুশিয়ারা ডাইকের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়ে উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রাম বন্যায় প্লাবিত হওয়ার আশংঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত কুশিয়ারার ডাইকের উপর দিয়ে পানি প্রবেশ না করলেও বিকালের দিকে নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ছোট-ছোট কালবার্ট দিয়ে পানি ডুকছে সাদিপুর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে।
এদিকে, সিলেটের বেশ কয়েক উপজেলায় বন্যার পানি বাড়তে থাকায় ওসমানীনগরে বন্যা মোকাবেলায় প্রস্তুতি গ্রহন করছে উপজেলা প্রশাসন। শুক্রবার বিকালে ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনুপমা দাশ কুশিয়ারা নদীর ডাইক পরিদর্শন করেছেন। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওসমানীনগর সার্কেল আশরাফুজ্জামান পিপিএম ও ওসমানীনগর থানার ওসি রাশেদুল হক ডাইক পরির্দশন করেন।
পানি বৃদ্ধি পেলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ২৩টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। সেগুলো হলো:-উমরপুর ইউনিয়নের খামিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শাহজালাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সিকন্দরপুর আব্দুল হাফিজ উচ্চ বিদ্যালয়। সাদিপুর ইউনিয়নের সাদিপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, দক্ষিণ কালণীচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রহমতপুর উচ্চ বিদ্যালয়। গোয়ালাবাজার ইউনিয়নের গোয়ালাবাজার সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয়, ব্রাম্মণ গ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নিজ করনসী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, লাল কৈলাশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সুরুজ আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভাগলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইয়াহিয়া উচ্চ বিদ্যালয়। তাজপুর ইউনিয়নের তাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নূর মিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, মঙ্গলচন্ডী নিশিকান্ত উচ্চ বিদ্যালয়। পশ্চিম পৈলনপুর ইউনিয়নের বল্লভপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আলমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বুরুঙ্গা ইউনিয়নের পূর্ব তিলাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মুক্তারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। উসমানপুর ইউনিয়নের মাদারবাজার উচ্চ বিদ্যালয়, থানা গাঁ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মঈনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
বিগত দুই বছর আগে বন্যায় বেশ ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় এবছর বন্যার আশংঙ্কায় বেশ আতংকে রয়েছেন নিন্মাঞ্চলের বাসিন্দারা। শুক্রবার দুপুর থেকে কুশিয়ারা নদীতে ২ ফুটের ওপরে পানি বৃদ্ধি পয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এছাড়া, উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের লামা-তাজপুর গ্রামসহ কয়েকটি গ্রামের নদী তীরবর্তী বাসিন্দারাও আতংকে রয়েছেন।
লামাতাজপুর গ্রামের রাজু মিয়া বলেন, দুপুরের পর কুশিয়ারা নদীতে দুই ফুটের উপরে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। ¯্রােতের কারণে নদীতে তেমন নৌযান নেই। নদীর তীরবর্তী বাসিন্দারা গবাদি পশু নিয়ে আতংকের মধ্যে সময় পার করছেন।
ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনুপমা দাশ বলেন, কুশিয়ারা নদীর ডাইক পরির্দশ করেছি। এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তারপরও আমরা বন্যা মোকাবেলায় উপজেলা প্রশাসন প্রস্তুতি রয়েছে।