কোম্পানীগঞ্জে ধান নিয়ে মারামারিতে নিহত ১ আহত ৮

6

কোম্পানীগঞ্জ থেকে সংবাদদাতা :
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ধান নিয়ে মারামারিতে হারুন মিয়া (৪৫) নামের একজনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত হারুন মিয়া উপজেলার ইছাকলস ইউনিয়নের পুটামারা গ্রামের মৃত সিরাজ মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো ৮ জন। আহতদের মধ্যে বাবুল মিয়া (৪২) নামের আরো একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। বুধবার রাতে তার শরীরে অস্ত্রোপচার হয়েছে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নিহত হারুন মিয়ার ছোট ভাই বাবুল মিয়ার বৌ প্রায় ৬ মাস আগে প্রতিবেশী আব্দুন নূরের ছেলে নূর উদ্দিনকে ধান ক্রয় করার জন্য ১০ হাজার টাকা দেন। এই টাকার বিনিময়ে তিনি বৈশাখ মাসে কম দামে ধান দিবেন এই শর্তে। গত ৪/৫ দিন আগে নূর উদ্দিনের কাছে ক্রায়কৃত ধান চাইতে যান বাবুল মিয়ার স্ত্রী। এ সময় নূর উদ্দিন তার সাথে খারাপ ব্যবহার করে এবং বলে সে ধান দিতে পারবে না। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও গালিগালাজ হয়। এর পর গত বুধবার বিকেলে পুটামারা স্কুলের পশ্চিমে বাবুল মিয়ার স্ত্রী ধান শুকাচ্ছিলেন এমন সময় নূর উদ্দিনসহ কয়েকজন এসে শুকনো ধান নিয়ে যেতে চাইলে বাধা দেন এই মহিলা। তার ডাক চিৎকার শুনে হারুন মিয়া, বাবুল মিয়াসহ কয়েকজন ঘটনাস্থলে আসলে তাদের সাথেও নূর উদ্দিনের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধলে নূর উদ্দিনসহ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হারুন মিয়া, বালুল মিয়াদের আক্রমণ করলে তাদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় হারুন মিয়ার মাথায় ঝাঁটার ২টি আঘাত লাগলে তিনি ঘটনাস্থলে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। এ ঘটনায় হারুন মিয়া, বাবুল মিয়া, মজনু মিয়া, শয়েস্তা মিয়া, সালেক মিয়া ওরফে আজাদ মিয়া, জুনেদ, আয়না মিয়া, নুরু মিয়া, আকন্দর আলীসহ ১২/১৫ জন আহত হোন। আহত অবস্থায় ৯ জনকে বুধবার রাতে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বাকিদের স্থানীয় ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। বুধবার রাতেই হারুন মিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালের আইসিইউতে নেয়া হয়। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
নিহত হারুন মিয়ার স্ত্রী বাদি হয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেএম নজরুল বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে।