জেলা ও মহানগর বিএনপির মানববন্ধনে বক্তারা ॥ সরকারের প্রশ্রয় ও বিচারহীনতার সংস্কৃতিই নারী-শিশু নির্যাতন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে

17
দেশব্যাপী অব্যাহত নারী, শিশু ধর্ষণ ও অমানবিক নির্যাতনের প্রতিবাদে এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে জেলা ও মহানগর বিএনপি আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখছেন মহানগরের সিনিয়র সহ সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম জালালী পংকি।

বিএনপির কেন্দ্রঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশব্যাপী নারী-শিশুদের উপর অব্যাহত অমানবিক নির্যাতনের প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসুচী পালন করেছে জেলা ও মহানগর বিএনপি। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় নগরীর চৌহাট্টাস্থ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে জেলা ও মহানগর বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের বিভিন্ন পর্যয়ের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
সিলেট মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম জালালী পংকী’র সভাপতিত্বে ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আব্দুল আহাদ খান জামালের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধন কর্মসুচীতে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন, সিলেট মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি হুমায়ুন কবির শাহীন, সহ-সভাপতি এডভোকেট হাবিবুর রহমান হাবিব, সহ-সভাপতি সিটি কাউন্সিলর রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সহ-সভাপতি আব্দুর রহিম, সহ-সভাপতি জিয়াউল হক জিয়া, সহ-সভাপতি বাবু নিহার রঞ্জন দে, মহানগর সহ-সভাপতি ও জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অধ্যাপিকা সামিয়া বেগম চৌধুরী, মহানগর সহ-সভাপতি সুদীপ সেন বাপ্পু, সহ-সভাপতি আমির হোসেন ও ফাত্তাহ বকশী, মহানগর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আতিকুর রহমান সাবু, হুমায়ুন আহমদ মাসুক, সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, কাউন্সিলর সৈয়দ তৌফিকুল ইসলাম হাদী ও মুর্শেদ আহমদ মুকুল, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আবুল কাশেম, মহানগর সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুব চৌধুরী, সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এ কে এম তারেক কালাম ও ১নং সদস্য শহীদ আহমদ চেয়ারম্যান, জেলা মহিলা দলের সভাপতি সালেহা কবির শেপি, মহানগর শ্রমিক দলের সভাপতি ইউনুস মিয়া, মহানগর বিএনপির স্বাস্থ্য সম্পাদক ডা: আশরাফ আলী, স্বেচ্ছাসেবক সম্পাদক হাবিব আহমদ চৌধুরী শিলু, পরিবার কল্যাণ সম্পাদক লল্লিক আহমদ চৌধুরী, মহানগগর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদিকা নিগার সুলতানা ডেইজি, জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদিকা আমেনা বেগম রুমি, বিএনপি নেতা এভোকেট আহমদ রেজা, কয়েস আহমদ সাগর, মঞ্জুর হোসেন মঞ্জু, হেলাল উদ্দিন, উজ্জল রঞ্জন চন্দ, মোতাহির আলী মাখন, সুহেল আহমদ, দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী, জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মকসুদ আহমদ, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য লিটন আহমদ, কয়েস আহমদ, এনামুল হক শামীম, মকসুদুল করিম নোহেল, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আলতাফ হোসেন সুমন, মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বী আহসান, মহানগর শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক লিটন আহমদ, জেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মারুফ আহমদ টিটু, আব্দুল আহাদ, মহিলা দল নেত্রী আম্বিয়া বেগম, বিএনপি নেতা নুরুল ইসলাম, সুফিয়া খাতুন মনি, মিলি বেগম ও নাজমা বেগম, বিএনপি নেতা রফিক উদ্দিন, আলমগীর কবির মুন্না, জাবেদুল ইসলাম দিদার, এনামুল হক সোহেল, ছাত্রদল নেতা আব্দুল হাসিব, ফাহিম রহমান মৌসুম, আলী আকবর রাজন, দুলাল রেজা, আব্দুল মোমিন লস্কর ও রুবেল ইসলাম প্রমুখ। মানববন্ধনের শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন জেলা বিএনপির সাবেক সহ-দফতর সম্পাদক আব্দুল মালেক।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের ছত্রছায়ায় দেশে গণধর্ষণ ও নারী-শিশু নির্যাতন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সিলেট সহ সারাদেশ জুড়ে গণধর্ষণের ঘটনায় সরকার দলের নেতাকর্মীদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাচ্ছে। সরকারের মদদে সরকারদলীয় সন্ত্রাসীরা দেশে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। ক্যাম্পাস গুলো থেকে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বের করে দিয়ে সেখানে এখন ছাত্রলীগ কর্তৃক গণধর্ষণের ন্যাক্কারজনক ঘটনাও ঘটছে। বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে দেশজুড়ে অপরাধ প্রবণতা বেড়ে চলেছে। এক দেশে সরকারী দলের নেতাকর্মীদের জন্য এক আইন ও বিরোধী নেতাকর্মীদের জন্য আরেক আইন। তিন বারের সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রীকে মাত্র দুই কোটি টাকা দুর্নীতির মিথ্যা অভিযোগে ১০ বছরের ফরমায়েসী সাজা দেয়া হলেও দেশে সরকার দলের নেতাকর্মীদের দ্বারা হাজার কোটি টাকা লুটপাট হচ্ছে। এর সঠিক বিচার করা হচ্ছেনা।
তারা বলেন, সম্প্রতি সিলেটের এমসি ছাত্রাবাসে স্বামীকে বন্দী করে গৃহবধুকে গণধর্ষণ এবং নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে গৃহবধূর প্রতি মধ্যযুগীয় কায়দায় যৌন নিপীড়নের ঘটনায় দেশের মানুষ বিস্মিত হয়েছে। সরকার দলের ক্ষমতার বলেই তারা এসব অপকর্ম করে যাচ্ছে। এটা শুধু সিলেট কিংবা নোয়াখালী জেলা নয়। গোটা দেশেই গণধর্ষণ ও ধর্ষণ ছড়িয়ে পড়েছে। এই অবস্থা চলতে দেয়া যায়না। সরকারদলীয় মন্ত্রী এমপি ও নেতারা যদি ধর্ষণের প্রশ্রয় দেয়া বন্ধ করেন তাহলে দেশে ধর্ষণ বলতে কিছু থাকবেনা। নারী ও শিশুদের উপর অমানবিক আচরণ মেনে নেয়া হবেনা। অবিলম্বে এর লাগাম টেনে ধরতে হবে। নারী-শিশু নির্যাতনের সাথে জড়িত সবাইকে গ্রেফতার করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। বিজ্ঞপ্তি