সহিংসতা, নাশকতা কোনোভাবেই কাম্য নয়

40

 

বিএনপিসহ সমমনা বিরোধী দলগুলোর ডাকে পাঁচদফা অবরোধ কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর, রোববার থেকে সারাদেশে ৪৮ ঘণ্টার হরতাল শুরু হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বলা দরকার, সংসদ নির্বাচনের তফসিলের প্রতিবাদে বিএনপির ৪৮ ঘণ্টার হারতাল ঘিরে ১৫ ঘণ্টায় সারাদেশে বাস, ট্রাক, ট্রেনসহ ১১টি যানবহানে আগুন দেওয়া হয়েছে বলে প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে জানা যায়। ফায়ার সার্ভিস সূত্রের মতে, শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রোববার সকাল ৯টার মধ্যে ঢাকাসহ দেশের ৫ বিভাগের বিভিন্ন জেলায় এসব অগ্নিসংযোগের খবর পায় তারা। এর মধ্যে রাজশাহী বিভাগের নাটোর, বগুড়া, জয়পুরহাটে তিনটি, চট্টগ্রামের ফেনী ও কুমিল্লার দুটি এবং ময়মনসিংহের জামালপুরে একটি অগ্নিনাশকতার ঘটনা ঘটে। আমরা বলতে চাই, হরতালকে ঘিরে নাশকতা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। দুর্বৃত্তরা এর আগেও যানবাহনে অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন ধরনের অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটিয়েছে। সহিংস পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এছাড়া রাজনৈতিক সহিংসতার বিষয়টিও সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনায় আসছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি বলেই প্রতীয়মান হয়। সহিংসতা রোধে যেমন প্রত্যেক দলকে সহনশীল হতে হবে, তেমনি জরুরি রাজনৈতিক সংস্কৃতির উন্নয়নও। অন্যদিকে, দুর্বৃত্তরা যেন দেশ ও মানুষের ক্ষতি করতে না পারে, নাশকতা ঘটাতে না পারে সে জন্য সংশ্লিষ্টদের কার্যকর পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে হবে।
উল্লেখ্য যে, এর আগে এটাও সামনে এসেছিল, অবরোধে পথে আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে ভেঙে পড়ে সারাদেশে পণ্য সরবরাহের স্বাভাবিক চেইন। অন্যদিকে, বাজারে ভোগ্যপণ্যের দাম আরও এক ধাপ বেড়ে গিয়েছিল। নেতিবাচক প্রভাব পড়ে আমদানি রপ্তানি খাতেও। সঙ্গত কারণেই আমরা বলতে চাই, সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ অব্যাহত রাখা জরুরি।
এছাড়া আমলে নিতে হবে, এর আগে অর্থনীতিবিদরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, অবরোধের ফাঁদে সামগ্রিক অর্থনীতি পড়তে যাচ্ছে। এতে দেশে খেলাপি ঋণ ও ব্যাংকে তারল্য সংকট আরও বাড়বে। পাশাপাশি রেমিট্যান্স এবং রপ্তানি আয় উদ্বেগজনক হারে কমবে। এতে ডলার সংকট আরও ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছাবে- যা সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। এমন আশঙ্কা উঠে এসেছিল। আর এবারে হরতালকে ঘিরে ১৫ ঘণ্টায় ১১টি যানবাহনের অগ্নিসংযোগের ঘটনা সামনে এলো। ফলে সামগ্রিক পরিস্থিতি আমলে নিয়ে সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি। এছাড়া প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের সহিংসতা রোধে এগিয়ে আসা উচিত, সহনশীলতার মধ্য দিয়ে যে কোনো সংকট মোকাবিলা করা জরুরি।
আমলে নেওয়া দরকার যে, সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈশ্বিক মহামারি করোনার প্রকোপ কাটিয়ে বাংলাদেশ যখন অর্থনীতিকে চাঙা করার চেষ্টা করছিল, তখনই শুরু হয় ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ, যার কঠিন প্রভাব পড়ে বিশ্ব অর্থনীতির ওপর। এরই মধ্যে ফিলিস্তিন-ইসরাইল যুদ্ধ নতুন সংকট তৈরি করে। এর প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যে জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আর এ যুদ্ধও বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। অন্যদিকে, এমন আশঙ্কাও সামনে এসেছে যে, এই ধারাবাহিকতায় যদি দেশের রাজনৈতিক অবস্থা অস্থিতিশীল হয়, সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো যদি ধারাবাহিকভাবে হরতাল, অবরোধের মতো কর্মসূচি দেয়, তবে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সঙ্গত কারণেই সমাগ্রিক পরিস্থিতি আমলে নেওয়া, করণীয় নির্ধারণ ও তার বাস্তবায়নে উদ্যোগী হতে হবে। এটাও লক্ষণীয়, রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের দাবি, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যদি স্থিতিশীল না হয়, তাহলে অর্থনৈতিক অবস্থার কোনো উন্নতি ঘটবে না। রাজনৈতিকভাবে অস্থিতিশীলতা আরও বাড়লে স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগ উদ্বেগজনক হারে কমবে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি এড়ানোর সুযোগ নেই।
সর্বোপরি আমরা বলতে চাই, যে কোনো ধরনের সংকট নিরসন হোক আলাপ- আলোচনার মধ্য দিয়ে। সহিংসতা, নাশকতা কোনোভাবেই কাম্য নয়। রাজনৈতিক সহিংসতা রোধে প্রত্যেক দল সচেতন হোক এবং দেশের রাজনৈতিক ও সংস্কৃতির উন্নতি হোক। রাজনীতিবিদের উচিত স্থিতিশীল রাজনৈতিক পথ বেছে নেওয়া। তা না হলে অর্থনীতি আর সাধারণ মানুষ উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হবে- এমন আশঙ্কাও উঠে এসেছিল। ফলে সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ অব্যাহত থাকুক এমনটি কাম্য।