নির্মম নিষ্ঠুরতা তিন মাসের কন্যা শিশুকে পুকুরে ফেলে হত্যা, লাশ উদ্ধার

79

সিলেট নগরীর দক্ষিণ সুরমা এলাকার পালপুরে একটি বাসা থেকে ৩ মাসের এক শিশুকে চুরি করে নিয়ে পুকুরে ফেলে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার রাত ৮টার দিকে সিটি করপোরেশনের ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের পালপুর গ্রামের হাফিজ আব্দুল কাইয়ূম ও শাম্মী বেগম দম্পতির সন্তানকে চুরি করা হয়। ওইদিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাড়ির পুকুর থেকে শিশু সাহেরা জান্নাতের লাশ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার পাঁচ ঘন্টা আগে সন্ধ্যার দিকে বিছানায় ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় সাহেরা হারিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন তার পরিবার। ঘটনার পর থেকে কারণ অনুসন্ধানে নামে পুলিশ। নিহত সাহেরা জান্নাত মোগলবাজার থানার পালপুর এলাকার হাফিজ আব্দুল কাইয়ুমের মেয়ে।
জানা যায়, তিন মাসের শিশু সাহেরা জান্নাতকে শুক্রবার সন্ধ্যায় তাকে বিছানায় ঘুম পারিয়ে বাথরুমে যান মা শাম্মী বেগম। ফিরে এসে দেখেন বিছানায় তার শিশু সন্তানটি নেই। ঘরে ও আশপাশে অনেকে খোঁজাখোঁজি করেও পাওয়া যায়নি তাকে। অবশেষে রাত ১১ টার দিকে জান্নাতের লাশ পাওয়া যায় বাড়ি থেকে ১০০ মিটার দূরের পুকুরে। শিশুটির এমন মৃত্যুর ঘটনায় রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ শিশুর লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে। শিশুর পিতা আব্দুল কাইয়ূম জানান, তিনি বাজার করার জন্য স্থানীয় হবিনন্দী বাজারে যান। তখন মেয়ে চুরি হয়েছে বলে খবর পান। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করা হয়। পরে বাড়ির পুকুর থেকে তার লাশ পাওয়া যায়। কাইয়ুম বলেন, আমার সাথে কারও কোনো শত্রæতা নেই। এমনকি বাড়ির কোনো লোকজনের সাথেও কোনো বিরোধে নেই। তবু কে বা কারা আমার মেয়েটিকে হত্যা করেছে। আমি বুঝতে পারছি না আমার মেয়ে কিভাবে পুকুরে গেলো। কে তাকে সেখানে নিয়ে গেলো। আমি আল্লাহর কাছে বিচার দিলাম।
শিশু সাহেরার চাচা আবুল কালাম জানান, শিশুর খোঁজে মসজিদে ও বিভিন্ন স্থানে মাইকিং করা হয়। চোর তার ভাতিজিকে নিয়ে পালাতে না পেরে শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ পুকুরে ফেলা দিতে পারে।
এ ব্যাপারে মোগলাবাজার থানায় পুলিশের উপ পরিদর্শক মুকুল আহমেদ জানান, খবর পেয়ে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ময়না তদন্তের রির্পোট পেলে নিশ্চিত হওয়া যাবে শিশুটি কিভাবে মারা গেল।
মোগলাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম মাঈন উদ্দিন জানান, কে বা কারা শিশুকে চুরি করে বাড়ির পুকুরে ফেলে দিয়ে হত্যা করেছে তার তদন্ত চলছে। এখনও কাউকে আটক করা যায়নি।