গোয়াইনঘাট থেকে সংবাদদাতা :
সিলেটের গোয়ানইঘাটে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে যুবক আব্দুল কাদিরকে জবাই করে গলা কেটে হত্যা হয়। ঐ ঘটনায় মারাত্মক আহত সিলেটের ওসমানী মেডিকেলে চিকিৎসাধীন তার মা হাসিনা বেগমও মারা গেছেন। রবিবার বেলা ২টায় ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে।
আব্দুল কাদিরকে জবাই করে হত্যা, অগ্নিসংযোগ ও লুন্ঠনের ঘটনায় গোয়াইনঘাট থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শ্মশানের নিরবতা নেমে এসেছে। এখনও পুরুষশূন্য দক্ষিণ লাবু গ্রাম। পুলিশি আতংকে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন গ্রামের অপরাধী, নিরপরাধী সবাই। শুধু লাবু গ্রাম নয় আশপাশের গ্রামের কৃষক, শ্রমিকসহ সাধারণ মানুষের মধ্যেও গ্রেফতার আতংক বিরাজ করছে। ফসলের মাঠে চাষাবাদ এমনকি দৈনন্দিন কাজেও বের হচ্ছেন না আশপাশ গ্রামের মানুষজন।
এ ঘটনায় পুলিশ ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ২ আসামীসহ মোট ১৩ জনকে আটক করেছে। তাদের মধ্যে ৯ জনকে রবিবার আদালতে প্রেরণ করা হয়।
সরেজমিনে রবিবার দক্ষিণ লাবু এলাকায় গেলে দেখা যায় গ্রামটিতে যুবক, কিশোর বয়সের পুরুষ লোকজন নেই বললেই চলে। বৃদ্ধ-বৃদ্ধা আর মহিলারা রয়েছেন বাড়ী ঘরে।
এদিকে, গোয়াইনঘাটের লাবু গ্রামের লোমহর্ষক এই ঘটনায় গোয়াইনঘাট জুড়ে পুলিশের একাধিক টিম অভিযানে রয়েছে। থানায় কর্মরত পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি সিলেট জেলা পুলিশের অগণিত সদস্যসহ গোয়েন্দা পুলিশও মাঠে রয়েছেন। জড়িত অপরাধীদের গ্রেফতারে হন্যে হয়ে খুঁজছে পুলিশ। উপজেলা সদর থেকে যানবাহন যোগে সরাসরি লাবু গ্রামে যাওয়ার ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ায় নৌকা এবং পায়ে হেঁটে আসামী গ্রেফতারে ছুটে বেড়াচ্ছে পুলিশ সদস্যরা। গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ কে. এম. নজরুল জানান, লাবুর ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আমাদের একাধিক ইউনিট মাঠে অবস্থান করে জড়িত অপরাধীদের গ্রেফতারে অভিযান পরিচালনা করছে।
গোয়াইনঘাটের লাবু গ্রামে এই ঘটনায় জেলা পুলিশের তরফে সর্বোচ্চ শক্তি নিয়োগ করে মূল অপরাধী গ্রেফতারে পুলিশ বিভাগের তরফে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে জানিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিডিয়া লুৎফুর রহমান জানান, এই ঘটনায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। জেলা পুলিশের প্রতিটি ইউনিট অভিযানে আছে। অচিরেই জড়িত অপরাপর অপরাধীরা গ্রেফতার হবে।







