নিরাপত্তা পরিষদে জরুরী বৈঠক ॥ কাবুল বিমানবন্দরে ধেয়ে আসা একাধিক রকেট প্রতিহত

11

কাজিরবাজার ডেস্ক :
কাবুল বিমানবন্দরের দিকে ধেয়ে আসা অন্তত ৫টি রকেটকে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনা নিষ্ক্রিয় করে দিয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা। শহরটি থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের একেবারে শেষ পর্যায়ে রকেট হামলার এই ঘটনা ঘটল। সোমবার স্থানীয় সময় সকালে এ রকেট হামলা হয় বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে রয়টার্স। অন্যদিকে আফগান ইস্যুতে স্থানীয় সময় সোমবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী পাঁচ সদস্য দেশ জরুরী বৈঠকে বসছে। এছাড়া রবিবার আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে আত্মরক্ষার স্বার্থে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ড্রোন হামলায় ছয় শিশুসহ নিহত বেড়ে ৯ জনে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে আফগানিস্তানের কাবুলে যত রকেট উড়ে এসেছে, তার সবই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনা নিষ্ক্রিয় করতে পেরেছে কিনা, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এখন পর্যন্ত রকেট হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের কেউ হতাহত হয়নি বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে পরে এই তথ্য বদলেও যেতে পারে বলে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা। হোয়াইট হাউসও কাবুল বিমানবন্দরে রকেট হামলার ঘটনা নিশ্চিত করেছে। বিষয়টি প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে জানানো হয়েছে, বিমানবন্দরের কার্যক্রম ‘নির্বিঘ্নেই চলছে’ বলে জানিয়েছেন হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি জেন সাকি। এর আগে রবিবার মার্কিন বাহিনী কাবুল বিমানবন্দরে আত্মঘাতী বোমা হামলার পরিকল্পনা করা এক ব্যক্তির গাড়ি লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছিল। কাবুল বিমানবন্দরে ২৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে বড় ধরনের জঙ্গি হামলা হতে পারে বলে গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে বাইডেন শনিবার সতর্ক করেছিলেন। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের সহযোগী আইএসএস-কে বিমানবন্দরে রকেট হামলা চালানোর সুযোগ খুঁজছে বলে আগেও কর্মকর্তারা সাবধান করেছিলেন। এ ধরনের হামলা মোকাবেলায় মার্কিন বাহিনী প্রস্তুত ছিল।
আফগানিস্তান ইস্যুতে নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক : আফগানিস্তানের দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী পাঁচ সদস্য দেশ স্থানীয় সময় সোমবার জরুরী বৈঠকে বসছে। দেশের পুরো নিয়ন্ত্রণ তালেবানের হাতে চলে যাওয়া এবং মার্কিন সেনা প্রত্যাহারে আর মাত্র একদিন বাকি আছে। এরমধ্যেই নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ডনের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ফ্রান্স ও ব্রিটেন এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করতে পারে যাতে কাবুলে একটি নিরাপদ জোন প্রতিষ্ঠার কথা বলা হবে। যেসব ব্যক্তি আফগানিস্তান থেকে চলে যেতে চায় তাদের কাবুল বিমানবন্দরে নিরাপত্তা দেয়ার জন্য এবং দেশটিতে মানবিক ত্রাণ অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে ফ্রান্স ও ব্রিটেন এই প্রস্তাব উত্থাপনের চিন্তা করছে। এদিকে, কয়েকটি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অংশগ্রহণে একটি ভার্চুয়াল বৈঠকের আয়োজন করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। আফগানিস্তান সম্পর্কে ভবিষ্যত কৌশল নির্ধারণের লক্ষ্যে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা এবং বেসামরিক নাগরিকদের সরিয়ে আনার কাজ শেষ পর্যায়ে পৌঁছানোর প্রেক্ষাপটের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্রদের সঙ্গে এই বৈঠক করবে। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান, ব্রিটেন, তুরস্ক, কাতার এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও উত্তর আটলান্টিক চুক্তি সংস্থা বা ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো এই বৈঠকে যোগ দেবে।
কাবুলে ড্রোন হামলায় ছয় শিশুসহ একই পরিবারের ৯ জন নিহত : আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে আত্মরক্ষার স্বার্থে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ড্রোন হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। নিহত ওই ৯ জন একই পরিবারের সদস্য এবং তাদের মধ্যে ৬ জনই শিশু। রবিবার কাবুলের একটি আবাসিক এলাকায় ড্রোন হামলায় এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, আত্মরক্ষার স্বার্থে কাবুলে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। কাবুল বিমানবন্দরে নিরাপত্তা হুমকি সৃষ্টিকারী একজন আত্মঘাতী হামলাকারীকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। নিজেদের ভুল স্বীকার করে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের হামলায় বেসামরিক মানুষের হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। নিরপরাধ মানুষের হতাহতের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র গভীরভাবে ব্যথিত বলেও দাবি করেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন বিল আরবান। এদিকে মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত একজনের ভাইয়ের বরাত দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, হামলায় নিহতদের মধ্যে ২ বছর বয়সী একটি মেয়ে শিশু রয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, নিহতরা সবাই খুব সাধারণ পরিবারের সদস্য। তিনি আরও বলেছেন, আমরা আইএস বা দায়েশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নই এবং ওই বাড়িতে আমার ভাইয়েরা তাদের পরিবারের সঙ্গেই বসবাস করতো। এদিকে প্রতিবেশী ও হামলার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, কাবুলে মার্কিন ড্রোন হামলায় কয়েকজন নিহত হয়েছেন এবং তাদের মধ্যে শিশুও রয়েছে।
কাবুলে বেসামরিক মৃত্যুর ঘটনা খতিয়ে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র : কাবুলে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) আফগান শাখার ‘হামলা ঠেকাতে’ চালানো মার্কিন ড্রোন হামলায় শিশুসহ বেসামরিক নাগরিকদের নিহত হওয়ার খবর খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছে, রবিবারের ওই ড্রোন হামলা যে গাড়ি লক্ষ্য করে করা হয়েছিল, তাতে আইএসের আফগান শাখার অন্তত এক সদস্য ছিলেন। এর মাধ্যমে কাবুল বিমানবন্দরে আরেকটি প্রাণঘাতী হামলা ঠেকিয়ে দেয়ার দাবিও তারা করছেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বিবিসি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা বলছেন অন্য কথা। তাদের ভাষ্য, রবিবারের মার্কিন ড্রোন হামলায় শিশুসহ একাধিক বেসামরিক আফগান নিহত হয়েছে।