গত এক দশকে বিশ্বে খাদ্যশস্যের দাম বেড়েছে সর্বোচ্চ পর্যায়ে রীতিমতো উদ্বেগজনক। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষিবিষয়ক সংস্থা এফএও-এর খাদ্যমূল্য সূচকে উঠে এসেছে এ তথ্য। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে খাদ্যশস্য, ভোজ্যতেল ও চিনির দাম। তারা এর কারণও বলেছে। কিছু দেশে ব্যাপক চাহিদা বৃদ্ধি, উৎপাদন ঘাটটি, করোনা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ-সর্বোপরি মহামারীর কারণে পণ্য চলাচল ও ব্যবসা-বাণিজ্যে বিধি নিষেধসহ সীমিত হওয়ার জন্য প্রায় সব খাদ্যের এহেন উল্লম্ফন বলেছে। এও বলেছে, ব্যাপক চাহিদা ও স্বল্প উৎপাদনের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে ব্যাপক মূল্যস্ফীতি দেখা দিতে পারে। তবে আশার কথাও শুনিয়েছে সংস্থাটি। করোনা মহামারীর পরিস্থিতির উন্নতি হলে চলতি বছর বিশ্বে রেকর্ড পরিমাণ খাদ্যশস্য উৎপন্ন হতে পারে, যা নিত্যপণ্যের দাম কিছুটা কমাতে হতে পারে সহায়ক।
করোনাভাইরাসজনিত মহামারীর কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক মন্দায় বিশ্ব ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচীর (ডব্লিউএফপি) বলছে, অন্তত ৩৬টি দেশ, যেগুলোর মধ্যে রয়েছে আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও লাতিন আমেরিকা।
বর্তমানে বিশ্বে সাড়ে ১৩ কোটি মানুষ তীব্র খাদ্য সঙ্কটে রয়েছে। করোনার কারণে তা বেড়ে দাঁড়াতে পারে সাড়ে ২৬ কোটিতে। খাদ্য সঙ্কটের পেছনে করোনার বাইরেও রয়েছে সিরিয়া-ইয়েমেনের মতো যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ এবং জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো। সংস্থাটি বলেছে চলতি বছর বৈশ্বিক সাহায্য কর্মসূচীগুলো অব্যাহত রাখতে প্রয়োজন ১০-১২ বিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি। গত বছর এর পরিমাণ ছিল ৮ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। তবে আশার কথা এই যে, বাংলাদেশ এদিক থেকে রয়েছে সন্তোষজনক অবস্থানে। দেশ বর্তমানে খাদ্য বিশেষ করে ধান-চাল উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ। বর্তমানে খাদ্য মজুদও সন্তোষজনক। তদুপরি বোরোর বাম্পার ফলন। খাদ্য মজুদের লক্ষ্যে সরকার এবার ১৭ লাখ টন খাদ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কিনে। ধান-চালের সংগ্রহ মূল্যও বাড়িয়েছে। ফলে খাদ্য সঙ্কটের সম্ভাবনা নেই দেশে। করোনা সঙ্কট মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী সর্বাগ্রে জোর দিয়েছেন খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর।






