সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন ॥ ঘাসিটুলায় বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ করতে একটি পরিবারকে হয়রানির অভিযোগ

13
সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করছেন নগরীর কাজীটুলা এলাকার বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন।

স্টাফ রিপোর্টার :
নগরীর ঘাসিটুলায় স্থানীয় একটি চক্র ভাঙচুর আর লুটপাট করে বসতভিটা থেকে উচ্ছেদের পাঁয়তারা করছে বলে অভিযোগ করেছেন ওই এলাকার বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন সোহেল। তিনি বলেন, অনেক দিন ধরেই ওই চক্রের সদস্যরা তার প্রতি অত্যাচার করে তাকে ওই জমি থেকে উচ্ছেদের প্রক্রিয়া চলমান রেখেছে। এ নিয়ে তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগও করেছেন। কিন্তু আদালতের নির্দেশনার পরেও পুলিশ আসামিদের গ্রেফতার করছে না। এ কারণে তিনি এবং তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন।
সোমবার সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেছেন। লিখিত বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, দীর্ঘ ৫ বছর ধরে ক্রয়সূত্রে মালিক হয়ে তিনি ঘাসিটুলার ০ দশমিক ২ দশমিক ২৫ একর ভূমিতে চার কক্ষের একটি ঘর বানিয়ে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন। তার কাছে ভূমির সকল কাগজপত্রও রয়েছে। এরপরেও ঘাসিটুলর আবুল কালাম, রেজা, জুবায়ের, বেলাল আহমদ, জিলাল মিয়া, দিলাল মিয়া, নাজিম, সাজন, ফয়েজ, মটাই সোহেল, আখলিছ মিয়া, নুর ইসলাম, রানী বেগম ও জেবিনা তাকে এ জমি থেকে উচ্ছেদের জন্য নানাভাবে অপতৎরতা শুরু করেন।’
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, অভিযুক্তরা তাকে জমি থেকে উচ্ছেদের উদ্দেশ্যে প্রায় সময়ই হুমকি-ধমকিও দিয়ে আসছিল। এজন্য তিনি কোতোয়ালি মডেল থানায় একাধিক সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন। এরপর আদালতে জমির আগের মালিক চমন বেগমের দায়েরকৃত মামলায় পুলিশ তদন্ত করে। ওই তদন্তে দেওয়ানী আদালত কর্তৃক সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত যে যেভাবে আছেন সেই ভাবে জমির দখলে থাকার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়।’
তিনি বলেন, আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে অভিযুক্তরা গত ৭ এপ্রিল দুপুরে দা, ডেগার, সাবল, পিস্তল, দেশীয় মারাত্মক অস্ত্র নিয়ে বসত ঘরে প্রবেশ করে ভাঙচুর করে। এ সময় তার পরিবারের সদস্যদের তারা মারধরও করেছে। আর লুটপাট করেছে সোনা, নগদ টাকা, টেলিভিশনসহ ঘরের দ্রব্যাদিও। পরে স্থানীয়রা ৯৯৯ এ ফোন দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে সত্যতা পায় এবং দুইজনকে হাতেনাতে আটকও করে। এ ঘটনার পর কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করলেও আসামিরা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে আছেন। দেলোয়ার হোসেন অভিযোগ করেন এসআই আল আমিন আসামিদের সহযোগিতা করছেন। এ হামলার ঘটনায় তার ইন্ধন রয়েছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তদন্ত কর্মকর্তা বদলি এবং আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন দেলোয়ার হোসেন।