জনবান্ধব পুলিশ এখনো দু:স্বপ্ন

14

পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা দেশে নতুন নয়। শুধু পুলিশ হেফাজতে নয়, বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড ও বেশ আলোচিত ও বিতর্কিত একটি বিষয়। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন গুলো বার-বার বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডের বিরুদ্ধে সোচ্চার হলেও বন্ধ হয়নি এ ধরনের হত্যাকান্ড।
সম্প্রতি সিলেটে একটি পুলিশ ফাঁড়িতে রায়হান নামে এক যুবককে ধরে নিয়ে যাওয়া এবং পরে টাকার জন্য চাপ দিলে টাকা না পেয়ে ফাঁড়ির ভিতরেই নির্মম ভাবে ঐ যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ফুঁসে উঠছেন সাধারণ মানুষ। তারা কিছুইতে এ হত্যাকান্ড মেনে নিতে পারছেন না। এ অবস্থায় ছাত্র-শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার মানুষ নেমে এসেছেন রাজপথে। সিলেটে সম্প্রতি ঐতিহ্যবাহী এমসি কলেজের ন্যাক্কারজনক গণধর্ষণের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আরেকটি ইস্যু সামনে চলে এসেছে। এ অবস্থায় চাপা পড়তে শুরু করেছে পুরানো ইস্যু।
দেশে পুলিশকে জনবান্ধব করার হাজারো চেষ্টা চলছে। সরকারর পক্ষ থেকে তাদের বেতন ভাতা রেশন বৃদ্ধি, উন্নত মানের ট্রেনিং, অত্যাধুনিক অস্ত্র সরবরাহ সহ নানা উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, পুলিশের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে বলা হচ্ছে, পুলিশই জনতা, জনতাই পুলিশ, এ সব নানা শ্র“তিমধুর শ্লোগান এর পাশাপাশি পুলিশের মহাপরিদর্শক বার-বারই দুর্নীতিবাজ পুলিশ সদস্যেদের উদ্দেশ্যে কঠোর হুঁশিয়ারী দিচ্ছেন। কিন্তু এতকিছুর পরই পুলিশ জনবান্ধব হয়ে উঠতে পারেনি। বরং পুলিশের কিছু সদস্যের বেপরোয়া আচরণ আজ পুরো পুলিশ বিভাগের কর্মকান্ডকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
মাঝে-মাঝে আমরা বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে নানা বিতর্কিত ঘটনায় জড়িত পুলিশ সদস্যেদের শাস্তির পরিসংখান দেখি। আসলে এ পরিসংখ্যান দেখে আশাবাদি হওয়ার কিছু নেই। কারণ পুলিশের অপরাধের পরিসংখ্যান যদি এভাবেই ক্রমশ বাড়তে থাকে তাহলে বুঝতেই হবে, জনবান্ধব পুলিশ বা মানবিক পুলিশ হওয়ার স্বপ্ন এখনো অনেক দূর।