পাবনা-৪, ঢাকা-৫ ও নওগাঁ-৬ আসনের সংসদ সদস্য উপনির্বাচনকে ঘিরে সক্রিয় ও তৎপর হয়ে উঠেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ অন্যান্য দল। নির্বাচন কমিশনও বসে নেই। তারা ভোটার তালিকা হালনাগাদসহ পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন নিয়েও তোড়জোড় শুরু করেছে। ফলে স্বভাবতই এতদিন পর্যন্ত প্রায় মৃতবৎ রাজনৈতিক অঙ্গন ক্রমশ মুখর হতে শুরু করেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের পদচারণায়। কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক দলীয় কার্যালয়গুলো দীর্ঘদিন পর ধোয়া-মোছা ও ঝাড়পোছ করে কার্যোপযোগী করে তোলা হয়েছে। সকাল-সন্ধ্যা নেতা-কর্মীরাও আসছেন। অনেকের মুখে সুরক্ষার নিমিত্ত মাস্ক ও হ্যান্ডগ্লাভস থাকলেও অধিকাংশের তা নেই, বিশেষ করে মধ্যম সারির নেতা এবং নিচের স্তরের নেতাকর্মীদের। করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়েই তারা রাজনীতির মাঠ গরম করার চেষ্টা করছেন। মুখে মাস্ক পরার একটা অসুবিধাও আছে। সব নেতাকর্মী সমান জনপ্রিয় ও পরিচিত নন। সেক্ষেত্রে মুখে মাস্ক থাকলে চেনা আরও দায় হয়ে পড়ে। সুতরাং ঝুঁকি তো কিছু নিতেই হবে নিবেদিতপ্রাণ রাজনৈতিক নেতাকর্মীর পরিচয় পেতে হলে। অন্যদিকে সবাই এখন পুরনো ও মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি বাদ দিয়ে নতুন কমিটি গঠনে ব্যস্ত। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ বলছে, এবার তারা নতুন কমিটি গঠন করবে অনেক যাচাই-বাছাই করে; যাতে অতীতের মতো বিতর্কিতরা অর্থাৎ স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকার, আলবদরের সঙ্গে সম্পৃক্ত কেউ ঢুকতে না পারে। বলাবাহুল্য এটি একটি অত্যন্ত কঠিন কাজ। তিন দফা সময়সীমা পার হলেও অন্তত ১৭টি জেলায় এখনও কমিটি গঠন করা যায়নি। এ অবস্থায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, কেন্দ্রীয় নেতাদের জেলা-উপজেলা পর্যায়ে সফরের। আর বিএনপির তো কেন্দ্রীয় কমিটিসহ অধিকাংশই পুরনো, জরাজীর্ণ সর্বোপরি মেয়াদোত্তীর্ণ। তদুপরি দুর্নীতিসহ গ্রেনেড হামলায় দ-িত ও সাজাপ্রাপ্ত বেগম খালেদা জিয়া এবং পলাতক তারেক রহমানকে স্বপদে এবং একই সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বজায় রেখে আগামীতে রাজনীতি করা রীতিমতো দুরূহ হয়ে উঠবে। অন্যদিকে, জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা এইচ এম এরশাদের মৃত্যুর পর দলটি কার্যত হয়ে পড়েছে বিভক্ত ও দিকভ্রান্ত। এর ফলে দলটির রাজনৈতিক ভবিষ্যতই হয়ে পড়েছে ছন্নছাড়া ও অনিশ্চিত।
গণতন্ত্রে বিরোধী দলের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে তা প্রায় অনুপস্থিত। অথবা যথেষ্ট দুর্বল। এই দুরবস্থা যথাসত্বর কাটিয়ে ওঠা অত্যাবশ্যক হয়ে পড়েছে। সরকারও চায় যে, দেশের শক্তিশালী ও গঠনমূলক বিরোধী রাজনীতি ও দলের বিকাশ ঘটুক। নানা কারণে তা হয়ে উঠছে না, যা নিঃসন্দেহে দুঃখজনক। আগামীতে দেশের রাজনীতিতে সুবাতাস বয়ে যাক এবং গণতন্ত্র ও উন্নয়ন হাত ধরাধরি করে চলুক, এই প্রত্যাশা দলমত নির্বিশেষে দেশের সাধারণ মানুষের।






