স্টাফ রিপোর্টার :
নগরীর টিলাগড়ে প্রতিপক্ষের হামলায় খুন হওয়া কলেজ ছাত্র অভিষেক দে দ্বীপ (১৮)’র ময়না তদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে পুলিশ স্বজনদের কাছে তার লাশ হস্তান্তর করেছে। নিহত দ্বীপ শিবগঞ্জ গ্রীণহিল এস্টেট কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র এবং সাদিপুর এলাকার দিপক দে’র একমাত্র পুত্র। তবে এ ঘটনায় গতকাল রাত ৯টা পর্যন্ত মামলা দায়ের হয়নি বলেন জানান শাহপরান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।
তিনি বলেন, সম্ভবত লাশের সৎকারের পরেই পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হবে। তিনি আরো জানান, আটককৃত ছাত্রলীগ কর্মীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায় সরস্বতী পূজায় তাদের মধ্যে কথা কাটিকাটি হয়। এমন বিরোধের জের ধরেই গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে টিলাগড়ে দ্বীপকে ছুরিকাঘাত করে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে যায় তারা। পরে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দ্বীপকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আটক সিলেট সরকারি কলেজের ছাত্র সৈকত রায় সমুদ্র (২৩) ওসমানী হাসপাতালের ৫ নং ওয়ার্ডে পুলিশ পাহারায় চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। সে নগরীর টিলাগড় এলাকার গোপালটিলার সন্টুল রায়ের পুত্র।
জানা গেছে, নিহত দ্বীপ ও আটক সৈকত দু’জনই সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট রণজিত সরকারের অনুসারী ও ছাত্রলীগ কর্মী ছিলো।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় টিলাগড় এলাকায় সরস্বতী পূজার বিরোধ নিয়ে সৈকত ও দ্বীপ তর্কাতর্কিতে জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে সাবেক এক ছাত্রনেতা দু’জনকে ডেকে নিয়ে পুরো বিষয়টি মীমাংসা করে দেন। রাত সাড়ে ৯ টার দিকে হঠাৎ করে টিলাগড় পয়েন্ট সংলগ্ন এলাকায় দু’পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। আশপাশের লোকজন কিছু বুঝে উঠার আগেই দেশীয় অস্ত্র ও ছুরিকাঘাতে সৈকত, দ্বীপ ও সৌরভ রক্তাক্ত জখম হন। তাদের আর্তচিৎকারে লোকজন এগিয়ে আসেন। ছুরিকাঘাতে ছাত্রলীগ কর্মী দ্বীপের ঘাড়ের বামপাশ রক্তাক্ত জখম হয়। এ সময় প্রচুর রক্তক্ষরণ হলে সে সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ে। সহপাঠীরা তাকে ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় আহত সৈকত রায় সমুদ্রকে ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে পুলিশ চিকিৎসাধীন অবস্থায় সৈকতকে আটক করে। তবে এ ঘটনায় টিলাগড় এলাকায় এখন আতংক বিরাজ করছে বলে জানা গেছে।
অন্য একটি সূত্র জানায়, গতকাল শুক্রবার কলেজের বার্ষিক বনভোজনে যাওয়ার কথা ছিল নিহত অভিষেক দে দ্বীপের। এজন্য বৃহস্পতিবার কলেজে বনভোজনের নির্ধারিত ফি ৫০০ টাকা পরিশোধ করে সে। যথারীতি গতকাল দ্বীপের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গ্রীণ হিল এস্টেট কলেজের সবাই গেছেন বনভোজনে, আনন্দ-উল্লাস করেছেন সবাই। কিন্তু মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলে হওয়া এই বনভোজনে যাওয়া হলো না দ্বীপের। বন্ধু আর সহপাঠিদের সাথে আনন্দের ভাগিদার হওয়ার আগেই ঘাতকের ছুরিকাঘাতে পরপারে চলে গেছে সে। তার বাবা দীপক দে’র কণ্ঠেও সেই আক্ষেপ। তিনি বলছিলেন, পিকনিকে যাওয়ার জন্য বৃহস্পতিবার ফিস দিয়ে আসে দ্বীপ। গতকাল শুক্রবার পিকনিকে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আজ আমি আমার ছেলের লাশ নিয়ে ঘরে যাচ্ছি। এরপর শুধু কান্না আর অসহায় বাবার চোখ বেয়ে ঝরে নোনা জল। খানিক পরে দীপক দে বললেন, যারা আমার ছেলেকে হত্যা করেছে, আমি তাদের ফাঁসি চাই।





