কাজিরবাজার ডেস্ক :
যুবলীগ নেতা টেন্ডার কিং জি কে শামীম ও ক্যাসিনো মাফিয়া নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার শত শত কোটি টাকার ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসছে জুয়ার আসর ক্যাসিনো সা¤্রাজ্য ও টেন্ডারবাজির মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটে নেয়ার চাঞ্চল্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। ক্যাসিনো সা¤্রাজ্য ও টেন্ডারবাজির সঙ্গে জড়িত মাফিয়া চক্রের গডফাদার, গ্র্যান্ডফাদার বলে পরিচিত শতাধিক বেনিফিসিয়ারির নাম বলেছে জি কে শামিম ও খালেদ মাহমুদ ভুইয়া। বেনিফিসিয়ারি গ্রুপের সদস্যদের মধ্যে আছেন রাজনীতিক, সরকারী আমলা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও আন্ডারওয়ার্ল্ডের মাফিয়ারা। রাজধানী ঢাকাসহ দেশব্যাপী চলমান শুদ্ধি অভিযানে যে কোন সময়ে গ্রেফতার হতে পারে আন্ডারওয়ার্ল্ড নিয়ন্ত্রণকারী হোয়াইট কালার মুখোশধারী বড় বড় রাঘব বোয়াল। ক্যাসিনো সাম্রাজ্য, টেন্ডারবাজি নিয়ন্ত্রণকারী, মাদক কারবারি, দুর্নীতিবাজ যাদের নাম পাওয়া গেছে তাদের নজরদারির মধ্যে রেখেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা।
অপরদিকে সোমবার যুবলীগ নেতা নূরুন্নবী চৌধুরী শাওন এমপি এবং ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের ব্যাংক হিসাবও তলব করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ)। দেশের সকল বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীর কাছে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, নূরুন্নবী চৌধুরী শাওন এমপি এবং তার স্ত্রী ফারজানা চৌধুরী ও ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের নামে কোন হিসাব অতীতে বা বর্তমানে পরিচালিত হয়ে থাকলে সে হিসাবের যাবতীয় তথ্য (হিসাব খোলার ফর্ম, কেওয়াইসি, ট্রানজেকশনার, প্রোফাইল, শুরু থেকে হালনাগাদ বিবরণী) জরুরী ভিত্তিতে ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পাঠাতে বলা হয়েছে।
তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, যুবলীগ নেতা জি কে শামীমের ব্যাংক হিসাবে ৩০০ কোটি টাকার খোঁজ মিলেছে বিভিন্ন ব্যাংক এ্যাকাউন্টে। এছাড়া তার স্ত্রী ও মাসহ স্বজনদের ব্যাংক হিসাবও খোঁজ নেয়া হচ্ছে। রবিবার যুবলীগ নেতা গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীমের ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ (স্থগিত) করার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রবিবার দেশের সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীর কাছে এ-সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, জি কে শামীমের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংসহ বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ এসেছে। তার ব্যাপারে খোঁজ নেয়া হচ্ছে। তার ব্যাংক হিসাবের বিষয়ে ব্যাংকগুলোতে চিঠি পাঠানো হয়েছে। জি কে শামীমের ব্যাংক হিসাবে ৩০০ কোটি টাকা আছে বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত রবিবার সকালে জি কে শামীমের হিসাব থেকে টাকা উত্তোলনের জন্য বড় বড় অঙ্কের কয়েকটি চেক ব্যাংকে জমা পড়ে। এরপর ব্যাংকগুলো থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকে যোগাযোগ করে পরামর্শ চাওয়া হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক দুপুরের মধ্যেই নির্দেশনা জারি করে। জি কে শামিম ও খালেদ ভুইয়ার কোন ব্যাংকে কত টাকা, সম্পদ রয়েছে তার তথ্য পাঁচ দিনের মধ্যে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে জানাতে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। জি কে শামীম ও তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কর ফাঁকি দিচ্ছে কি না তার সন্ধানে নেমেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি)। ইতোমধ্যে কর সার্কেল থেকে আয়কর নথি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইসিতে তলব করা হয়েছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনা পাওয়ার পর জি কে শামীমের কর ফাঁকির অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। আয়কর রিটার্নে ঘোষিত সম্পদ বিবরণীর সঙ্গে প্রকৃত সম্পদের গরমিল রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া তার লাইফস্টাইলের সঙ্গে প্রকৃত জীবনযাপনে অসঙ্গতি রয়েছে। কর ফাঁকি দিতেই তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে রিটার্নে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন।
সোমবার বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান আবু হেনা মোহা. রাজী হাসান বলেছেন, সন্ত্রাসী ও মানি লন্ডারিং বিষয়ে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ এলে বিএফআইইউ তা অনুসন্ধান করে। সম্প্রতি এসব অপরাধে যারা গ্রেফতার হয়েছেন তাদের হিসাবও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। অনুসন্ধানকালে তাদের হিসাবে টাকা জমা হবে কিন্তু উত্তোলন করতে পারবে না।
গত শুক্রবার নিকেতনের অফিস থেকে গ্রেফতার করা হয় জি কে শামীমকে। তার অফিসে থাকা নগদ দেড় কোটি টাকা ও ১৬৫ কোটি টাকার এফডিআরের কাগজ জব্দ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। উদ্ধার করা হয় বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য। এর আগে বুধবার অবৈধ অস্ত্র ও ইয়াবা রাখার অপরাধে খালেদকে গ্রেফতার করে র্যাব। পরদিন তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক ও মানি লন্ডারিং মামলা করা হয়। এর মধ্যে মাদক ও অস্ত্র মামলায় সাতদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এছাড়া মামলার তদন্তভার দেয়া হয় মহানগর গোয়েন্দাকে (ডিবি)।
জিজ্ঞাসাবাদে শামীম গণপূর্ত অধিদফতরের ২০ জন সাবেক সরকারী কর্মকর্তার নাম বলেছেন, যাদের মাসে ২-৫ লাখ টাকা দিতেন তিনি। এর বদলে তারা শামীমকে ঠিকাদারির কাজের টেন্ডার পেতে সাহায্য করতেন। গণপূর্তের যুগ্ম ও অতিরিক্ত সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তারা তার সঙ্গে সব ধরনের ব্যবসায়িক আলাপ ও লেনদেন করতেন। সেখানে সরকারী কর্মকর্তাদের জন্য বিনোদনের ব্যবস্থাও ছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এ যুবলীগ নেতা সরকারী বড় বড় প্রকল্পের কাজ বাগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কোটি কোটি টাকা ঘুষ দেয়ার কথা স্বীকার করেন। জিজ্ঞাসাবাদে শামীম জানান, ঠিকাদারির কাজ পাইয়ে দিতে তিনি দুই কর্মকর্তাকে এখন পর্যন্ত প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা দিয়েছেন। জিজ্ঞাসাবাদে জি কে শামীম আরও জানান, প্রতি টেন্ডারে ৮-১০ শতাংশ কমিশন দেয়া লাগত তার। অনেক সময় নির্দিষ্ট কমিশনের পরও ঘুষ দিতে হতো। পূর্ববর্তী ও ভবিষ্যতের কাজ পেতে এখন পর্যন্ত গণপূর্ত অধিদফতরের সদ্য সাবেক এক প্রধান প্রকৌশলীকে তিনি ঘুষ হিসেবে এক হাজার ১০০ কোটি টাকা দেন। গণপূর্তেও ঢাকা জোনের আরেক সদ্য সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীকে ঘুষ দিয়েছেন ৪০০ কোটি টাকা- এমন দাবি করেন তিনি। গত বছর গণপূর্তের প্রধান প্রকৌশলী অবসরে যান। তিনি দায়িত্বে থাকাকালীন সেখানে একচ্ছত্রভাবে ঠিকাদারি কাজ পান শামীম। তবে রফিকুল অবসরে যাওয়ার পরও গণপূর্তে শামীমের প্রভাব কমেনি। কমিশন দিয়ে নিজের প্রভাববলয় বজায় রাখেন তিনি। গণপূর্তে এমন কথা প্রচলিত আছে, ঠিকাদারি কাজ বাগিয়ে নিতে নানা দফতরে ‘তদবির’ করে তাকে প্রধান প্রকৌশলী বানিয়েছিলেন শামীম। সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা জি কে শামীম ক্ষমতাসীন দলের ভুয়া পরিচয় দিয়ে চলাফেরা করতেন। একসময় পরিচিত ছিলেন বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসের ‘ডান হাত’ হিসেবে। ঢাকা মহানগর যুবদলের সহ-সম্পাদকও ছিলেন তিনি। তবে ক্ষমতার পালাবদলে শামীমও তার পরিচয় বদলে ফেলেন। রাতারাতি ভোল পাল্টে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগে ভিড়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
র্যাবের লিগ্যাল ও মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ সারওয়ার-বিন-কাশেম বলেন, জি কে শামীম তার অফিস ও বাসায় অভিযান না চালাতে এবং গ্রেফতার এড়াতে আমাকে ১০ কোটি টাকার ঘুষ প্রস্তাব করেছিলেন। প্রস্তাব আমলে না নিয়ে আমরা জি কে শামীমের কার্যালয়ে অভিযান চালাই, তাকেসহ তার সাত দেহরক্ষীকে গ্রেফতার করি। তিনি বলেন, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, মানি লন্ডারিংয়ের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালত তাকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তিনি এখন ডিবি হেফাজতে।
খালেদ মাহমুদ : অপরদিকে অস্ত্র ও মাদকের পৃথক দুই মামলায় ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছে যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার। অস্ত্র মামলায় চার দিন ও মাদক মামলায় তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। শুনানি শেষে অস্ত্র মামলায় ঢাকা মহানগর হাকিম বেগম মাহমুদা ও মাদক মামলায় ঢাকা মহানগর হাকিম শাহিনুর রহমান এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর বিভিন্ন তথ্য দিয়েছেন এই যুবলীগ নেতা, স্থানীয় প্রসাশন ও রাজনৈতিক নেতাদের ম্যানেজ করেই রাজধানীর ফকিরাপুলের ইয়ংমেন্স ক্লাবে চলছিল জুয়ার আসর। এজন্য চীন ও নেপাল থেকে আনা হয় অভিজ্ঞ নারী-পুরুষও। ওই ক্যাসিনো থেকে মাসিক প্রায় ৩ কোটি টাকা আয় ছিল ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার। আর এই টাকার ভাগ পেতেন অনেকেই। খালেদকে জিজ্ঞাসাবাদে অবৈধ ক্যাসিনোগুলোর পেছনে থাকা স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের সম্পর্কে নানা তথ্য ও টাকার ভাগ কারা কারা পেতেন জানতে পেরেছে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে তার দেয়া তথ্য সঠিক কিনা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। ক্লাবটিতে সব ধরনের জুয়া, মদ, ইয়াবা ও সুন্দরী নারীসহ সব ধরনের মনোরঞ্জনের ব্যবস্থা ছিল।
র্যাবের এক কর্মকর্তা বলেন, খালেদের নিয়ন্ত্রণাধীন আরও কতগুলো ক্যাসিনো আছে সেই বিষয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে ক্যাসিনোর মতো অবৈধ ব্যবসা চালাতে গেলে অবশ্যই অর্থ ভাগাভাগির বিষয় থাকে। জুয়ার টাকার কারা কারা পেত তাদের নামও জানিয়েছে সে। বিদেশে খালেদের বিপুল পরিমাণ সম্পদ রয়েছে। বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তার। তাকে গ্রেফতারের পর অনেকেই গা ঢাকা দিয়েছে। বুধবার বিদেশ যেতে চেয়েছিল খালেদ ও তার সহযোগীরা। পরে বিমানবন্দর থেকে ফিরে আসে।
জিজ্ঞাসাবাদে খালেদ বলেছে, ইয়ংমেন্স ক্লাবের ক্যাসিনোতে দুই সিফটে জুয়া খেলা হয়। সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা এবং রাত ৮টা থেকে সকাল ৮টা। জুয়ার বোর্ডগুলো চীনা নাগরিকরা চালু করে। নেপালিরা বোর্ড পরিচালনা করে। তারা এগুলো অপারেট করতে দক্ষ। তারা মাসিক ও দিন হিসেবে এখানে চাকরি করে। প্রতি শিফটে ৭০-৮০ জন মানুষ খেলে। কখনও বেশিও আসে। তবে রাতের বেলায় বেশি মানুষ থাকে। ক্লাবটির মালিক খালেদের প্রতিদিন আয় ছিল ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা।
খালেদকে জিজ্ঞাসাবাদে বলেছে, ব্যাংককে একটি টু-স্টার মানের হোটেল ও পাতায়াতে ফ্ল্যাট ব্যবসায় বিনিয়োগ আছে খালেদের। মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অভিজাত সুপারমল প্যাভেলিয়নের উপরে ১১ কোটি টাকায় সম্পত্তি এ্যাপার্টমেন্ট কিনেছেন। স্কটল্যান্ডেও কিনেছেন বাড়ি। বর্তমান সরকারের আমলে রাতারাতি কোটিপতি হয়ে উঠে খালেদ। জুয়ার টাকার ভাগ পেত সংশ্লিষ্ট থানা, ডিসি, রাজনৈতিক নেতা, ওয়ার্ড কমিশনার, আন্ডারওয়ার্ল্ডের সন্ত্রাসীরাও। এছাড়া যুবলীগের তিন প্রভাবশালী ও আওয়ামী লীগের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতাও ভাগ পেতেন। গত বুধবার খালেদকে গ্রেফতারের আগে ফকিরাপুলের ইয়াংমেন ক্লাবে নিষিদ্ধ ক্যাসিনোতেও অভিযান চালায় র্যাব। এখান থেকে দুই নারীসহ ১৪২ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়েছে। ক্যাসিনোতে মদ আর জুয়ার বিপুল সরঞ্জামের পাশাপাশি প্রায় ২৫ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।
র্যাবের মিডিয়া শাখার সিনিয়র সহকারি পরিচালক মিজানুর রহমান বলেছেন, জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছি। তবে তদন্তের স্বার্থে সেগুলো এখনই প্রকাশ করা যাবে না। কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম পাওয়া গেছে।






