জাহাঙ্গীর আলম খায়ের বিশ্বনাথ থেকে :
বিশ^নাথ উপজেলার মটুককোনা গ্রামের সরকারি গোপাট দখল নিয়ে তিনপক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছেন। যেকোন সময় বড় ধরনের সংঘর্ষের আশংকা করছেন এলাকাবাসী। সম্প্রতি গোপাট দখল নিয়ে গ্রামের দু’পক্ষের মধ্যে মারামরির পর গ্রামবাসী গোপাট উদ্ধারে ইউএনও বরাবরে স্মারকরিপি দিয়েছেন। আর গত মঙ্গলবার দশঘর ইউনিয়নের তফশীলদার জামিল আহমদ ঘটনা তদন্তে যাওয়ার পর গত তিনদিন ধরে তিন পক্ষে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
তিনপক্ষের এক পক্ষে রয়েছেন, গ্রামের যুক্তরাজ্য প্রবাসী আখতার হোসেন (৪০)। তিনি মটুককোনা গ্রামের মৃত নুরুজ আলীর ছেলে। প্রতিপক্ষে রয়েছেন তার চাচাতো ভাই পাশের বাড়ির হাজী আব্দুল আহাদের ছেলে সেলিম মিয়া (৩২)। আর তৃতীয় পক্ষে রয়েছেন গ্রামবাসী।
জানা গেছে, স্থানীয় বাসিয়া নদীর তীর থেকে মটুককোনা গ্রামের ভেতর দিয়ে বাবুল মেম্বারের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার দৈর্ঘ ও ১৮/১৯ ফুট প্রস্থ্যের সরকারি একটি গোপাট রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে গোপাটের পাশর্^বর্তি বাসিন্দাদের দখলের কারণে ১৯ ফুটের গোপাটটি বর্তমানে প্রায় ৯ফুটে এসে দাঁড়িয়েছে। আর ওই ৯ফুট গোপাটকে চলাচলের রাস্তা হিসেবে ব্যবহার করছেন গ্রমাবাসী। গত ২২ আগষ্ট ওই গোপাটের রাস্তা দখল করে দেওয়াল নির্মাণ করতে চান সেলিম মিয়া। এতে প্রবাসী আখতার হোসেন বাধা দিলে তাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় নারীসহ ১২জন আহত হন। এ ঘটনার ৫ দিনের মাথায় উভয় পক্ষকে অভিযুক্ত করে সরকারি গোপাটের সীমানা নির্ধারণ ও অবৈধ দখল উদ্ধারের জন্য ফিরোজ আলী, আফরোজ আলীসহ গ্রামের ৯জন মুরব্বি ইউএনও বরাবরে স্মরকলিপি দেন।
তবে দখলদার বাবুল মেম্বার দখলো বিষয়টি স্বীকার করে বলেন- শুধু তিনি নন প্রবাসী আনোয়ারা বেগম, সমশের আলী, সমুজ আলী, পংকি মিয়াসহ আরও প্রায় ১৫/২০জন গোপাটটি দখল করেছেন। গ্রামের আরও প্রায় ১৫/২০ লোক গোপাটটি দখল করে রেখেছেন। সরকার চাইলে তারা দখল দেড়ে দিবেন বলেও জানান তিনি।
অভিযুক্ত প্রবাসী আখতার হোসেন ও তার প্রতিপক্ষ সেলিম মিয়া বলেন, রাস্তা রেখে গোপাটের অপ্রয়োজনীয় অংশটুকু তারা দখল করেছেন। সরকারি তদন্তে প্রমানিত হলে তারা গোপাটের দখল ছেড়ে দিবেন।
তদন্ত প্রতিবেদন এখনও তার কাছে পৌঁছায়নি জানিয়ে ইউএনও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বর্ণালী পাল বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর দখলদারদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






