ছাতক থেকে সংবাদদাতা :
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার ব্যবসায়ী তৌহিদ হোসেন (২৫) হত্যাকান্ডের ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া আসামি শামীম আহমদ হত্যাকান্ডের দায় স্বীকার করেছে। রবিবার হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক রাকিবুল হাছান সাংবাদিকদের বলেন, হত্যাকারি ঘাতক শামীম সুনামগঞ্জের বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে।
ঘাতক শামীম তার দেয়া জবানবন্দিতে জানায়, প্রায় এক মাস পূর্বে শামীমের কাছ থেকে ২০হাজার টাকা ধার নেয় তৌহিদ। পাওনা টাকা নিয়ে শামীমের সাথে তৌহিদের বিভিন্ন সময়ে বাকবিতন্ডার ঘটনা ঘটে। গেল বৃহস্পতিবার সকালে তৌহিদ ছাতকের একটি ব্যাংকে টাকা জমা রেখে বিকেলে বাংলাবাজার ফিরে আসে। তৌহিদের সাথে সন্ধ্যায় দেখা হয় শমীমের। কিছু সময় পর শামীম ধুমপানের কথা বলে তৌহিদকে নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন ভবনের বিছমিল্লাহ গার্মেন্টেসের ২য় তলার একটি ষ্টোর রুমে বেশ কিছু সময় আড্ডা দেয়। শামীম রাত ৯টার পর আবারও তৌহিদকে তার পাওনা ২০হাজার টাকা দেয়া কথা বললে এনিয়ে দু’জনের মধ্যে ঝগড়া হয়। এ সময় শামীম তার হাতে চাপাতি দিয়ে ছুরিকাঘাত করলে তৌহিদ অজ্ঞান হয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে তৌহিদের মৃত্যু হলে তার লাশ গুম করার জন্য গলা কেটে মাথা বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করে। গভীর রাতে তৌহিদের লাশ ভবনের ছাদে রেখে শামীম বাড়ীতে চলে যায়। শুক্রবার ভোরে শামীম ওই ভবন থেকে লাশ গুম করতে না পেরে ছাদ থেকে তৌহিদের লাশ নীচে ফেলে দিয়ে সটকে পড়ে। নিহত তৌহিদ বাংলাবাজার ইউপির কলাউড়া (মাদরাসা পাড়া) গ্রামের অহিদ মিয়ার পূত্র। সে কলাউড়া বাজারে বিকাশ ও ফ্লেক্সি লোডের ব্যবসা করতো।
খবর পেয়ে শুক্রবার সকালে থানা পুলিশ বাংলাবাজারের একটি গলি থেকে তৌহিদের গলা কাটা লাশ উদ্ধার করে। ওই দিন বিকেলে পুলিশ হত্যাকান্ডে জড়িত সন্দেহভাজন শামীমসহ ৭জনকে আটক করলেও পরদিন শনিবার ৬জনকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। ঘাতক শামীম একই ইউনিয়নের বাঁশতলা গ্রামের ব্যবসায়ী নুরুল ইসলামের পুত্র। এ ঘটনায় শনিবার নিহতের ভাই রফিকুল ইসলাম বাদি হয়ে শামীমসহ দু’জনকে আসামি করে দোয়ারাবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।






