বিনয় চন্দ্র দাস
সূর্যের প্রথম সোহাগ পুকুরের জলে
দিনান্তে সব মায়া ফেলে-
আকাশের বুকে সে তারা হয়ে জ্বলে…
আমার ছেলেবেলার কবিতা।
উৎসাহ দিয়ে তখন অনেকে বলেছিলেন-
লেখো লেখো, অনেক কিছু লিখতে হবে তোমায়…
সেই থেকে কবিতার প্রতি আমার প্রেম-ভালবাসা।
আমাদের ছোট নদী চলে বাঁকে বাঁকে…
অথবা মেঘের কোলে রোদ হেসেছে
বাদল গেছে টুটি…
পড়তে পড়তে ঘুমিয়ে পড়তাম, স্বপ্ন দেখতাম।
একদিন এক মহর্ষি এসে বললেন-
কবিতাটা আমায় দাও, এ যে আমার কবিতা।
শ্রদ্ধায় ভালবাসায় অর্পণ করেছিলাম
আমার প্রথম কবিতা সেই মহর্ষিকে।
তারপর অনেক কবিতা লিখেছি…
লিখতে লিখতে রোদ্র-আঁধারে
সাগরের কাছাকাছি।
ঢেউয়ের শব্দে শুনেছি –
অনেক কিছু লিখতে হবে তোমায়…
লিখতে চেয়েছি কিন্তু পারিনি,
আমি লিখতে পারিনি-কৃষকের আত্মহত্যা,
অনাহারে শ্রমিকের মৃত্যু
অথবা ধর্ষিতা নারীর আকুলতা।
আমার লেখনি নির্বাক নিশ্চল
কোন অলীক খেতাবের মোহে।
আর কোনদিন আসেননি সেই মহর্ষি
আমার কবিতার অঙ্গনে- কবিতা নিতে।
হয়তো আমি আর লিখতে পারিনি তার কবিতা।
দিনান্তে আজ সব দীনতা বিসর্জন দিয়ে
সেই মহর্ষির জন্য অন্তহীন অপেক্ষা আমার।



