বাঁচানো গেল না সেই শিশুটিকে

50

কাজির বাজার ডেস্ক

ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মাগুরায় নির্যাতিত শিশুটি মারা গেছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ তথ্য জানিয়েছে।
গতকাল এক বিবৃতিতে সেনাবাহিনী জানিয়েছে, অত্যন্ত দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে জানানো যাচ্ছে যে, মাগুরায় নির্যাতিত শিশুটি আজ (১৩ মার্চ) দুপুর ১টায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল, ঢাকায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছে। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ)-এর সর্বাধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা প্রয়োগ এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা সত্তে¡ও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। শিশুটির আজ সকালে তিনবার কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়েছে, দুইবার স্থিতিশীল করা গেলেও তৃতীয়বার আর হৃদস্পন্দন ফিরে আসেনি।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শিশুটির শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে। তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছে। শিশুটির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনুস। আসামিদের দ্রæত বিচারের আওতায় নিয়ে আসার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। গত পাঁচই মার্চ শিশুটি মাগুরায় বোনের বাড়ি বেড়াতে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হয়। ওই ঘটনায় ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন শিশুটির মা।
মামলা দায়েরের পর শিশুটির বোনের স্বামী, বোনের শ্বশুর, শাশুড়ি ও ভাশুরকে গ্রেপ্তারের পর রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।
ধর্ষণের ঘটনায় জড়িতের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ : মাগুরা শহরের নোমানী ময়দানে আছিয়ার জানাজা শেষ হওয়ার পরই ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত হিটু শেখের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছেন বিক্ষুব্ধরা।
মাগুরা শহরের নিজনান্দুয়ালী চরপাড়ায় একই বাড়িতে বসবাস করতেন শিশু ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত আসামি হিটু শেখ, তার স্ত্রী জাহেদা এবং দুই ছেলে রাতুল, সজিব।
শিশু ধর্ষণের ঘটনায় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটের দিকে মিছিল নিয়ে ওই বাড়িটিতে পেট্রল ঢেলে জ্বালিয়ে দেয়। তবে ওই পরিবারের অভিযুক্ত চার আসামি গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই বাড়িটি তালাবদ্ধ ছিল।
মাগুরা ফায়ার স্টেশনের ফায়ার ফাইটার রিপন হোসেন বলেন, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ট্রিপল নাইনের মাধ্যমে হিটু শেখের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের খবর পাই। আমরা অগ্নিনির্বাপণ গাড়ি নিয়ে রওনা দিলেও মাঝপথে গ্রামের বিক্ষুব্ধরা আমাদের গতিরোধ করলে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছি। এ বিষয়ে মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আইয়ুব আলী বলেন, শিশু ধর্ষণে অভিযুক্ত হিটু শেখের বাড়িতে অগ্নিকাÐের খবর পাওয়ার পর পুলিশ কয়েক দফা সেখানে যাওয়ার চেষ্টা করলেও বিক্ষুব্ধদের প্রতিরোধের মুখে সেটি সম্ভব হয়নি। তবে গ্রামের নিরীহ সাধারণ মানুষের জানমালের যাতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি না হয় সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে।
গত ৬ মার্চ মাগুরা শহরে বোনের বাড়ি বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয় ওই শিশুটি। পরদিন তাকে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে ওই দিন দুপুরেই উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে রাতেই পাঠানো হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
এরপর গত শুক্রবার রাতে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। সংকটাপন্ন শিশুটিকে গত শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (পিআইসিইউ) থেকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরদিন রোববার শিশুটিকে সিএমএইচে পেডিয়াট্রিক আইসিইউতে নেওয়া হয়। আজ ১৩ মার্চ চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।