পাকিস্তানিরা নেই তারপরও কেন ছাত্র-জনতাকে প্রাণ দিতে হলো

12

 

স্টাফ রিপোর্টার

সারাদেশের ন্যায় সিলেটেও যথাযোগ্য মর্যাদায় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত হয়েছে। শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত মহানগরের চৌহাট্টাস্থ শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে ফুলেল বিনম্র শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মরণ করেন সিলেটের সর্বস্তরের মানুষ।
সকালে সরকারি বিভিন্ন দপ্তর, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, পেশাজীবী সংগঠন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তির পক্ষ থেকে পুস্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
সকাল থেকে ধারাবাহিকভাবে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসন, সিলেট সিটি করপোরেশন, মহানগর পুলিশ কমিশনার, জেলা পুলিশ সুপার, সিলেট মহানগর ও জেলা বিএনপি, জেলা পরিষদ, জেলা ও মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, সরকারী বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট প্রেসক্লাব, সিলেট জেলা প্রেসক্লাব, ইমজা, সিলেট বিভাগীয় ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন, বাসদ, খেলাঘর, বাম গণতান্ত্রিক জোট, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)-সহ উপজেলাগুলোতেও পুষ্পশ্রদ্ধা অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
এছাড়া বিকাল পর্যন্ত নানা কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে দিবসটি পালিত হয় সিলেটে। কর্মসূচির মধ্যে ছিলো- শহীদ মিনার, কবরস্থান ও স্মৃতিস্তম্ভে পুস্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা, র‌্যালি, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, রক্তদান কর্মসূচি, দোয়া মাহফিল ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী ইত্যাদি।
১৯৭১ সালের এই দিনে দখলদার পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা বাংলার শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে। এর ঠিক দুই দিন পর ১৬ ডিসেম্বর জেনারেল নিয়াজির নেতৃত্বাধীন বর্বর পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করে এবং স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।
সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী বলেছেন- অনৈতিকভাবে অধিকার হরণের প্রতিবাদে সোচ্চার ছিলেন শহীদ বুদ্ধিজীবীবৃন্দ। সেকারণে এদিনে হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের পরিকল্পিত নৃশংস হত্যাযজ্ঞের শিকার হন তাঁরা। আজ পাকিস্তানিরা নেই তারপরও কেন বৈষম্য দূর করতে ছাত্র-জনতাকে প্রাণ দিতে হলো? শনিবার সিলেটে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ২০২৪ পালন উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেন অতিরিক্ত ডিআইজি নাছির উদ্দিন আহমেদ, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স›দ্বীপ কুমার সিংহ, অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মো. শাহরিয়ার আলম, ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. জন্মেজয় দত্ত, সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার খোশনূর রুবাইয়াৎ।
স্বাধীনতা বিরোধীরা পরাজয় নিশ্চিত জেনে বাংলাদেশকে মেধাশূন্য করতে বাঙালি বুদ্ধিজীবীদের নির্মমভাবে হত্যা করে ছিল উল্লেখ করে খান মো. রেজা-উন-নবী আরো বলেন, এ ভ‚-খন্ডে আন্দোলনের মাধ্যমে অধিকার ফিরিয়ে আনার অনেক ইতিহাস আছে। মানুষের অধিকার কখনোই হরণ করা যায় না। কোন সরকার যখন অনৈতিকভাবে অধিকার হরণ করে তখনই মানুষ আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে। বৈষম্যহীন চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার আহŸান জানিয়ে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, জুলাই-আগস্টের ছাত্র-শ্রমিক-জনতার গণঅভ্যুত্থান তার আদর্শ প্রমাণ।