দেশে কোনোভাবেই সোনা চোরাচালান রোধ করা যাচ্ছে না। কিছুদিন পরপরই ধরা পড়ছে সোনার বার। এক প্রতিবেদনে প্রকাশ, হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাড়ে চার কোটি টাকার সোনাসহ এক যাত্রীকে আটক করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার দুবাই থেকে আসা বেসরকারি একটি ফ্লাইটের এক যাত্রীর কাছ থেকে পাঁচ কেজি ৬৮৪ গ্রাম ওজনের ৪৯টি সোনার বার জব্দ করে শুল্ক গোয়েন্দার বিশেষ টিম। সোনার বারগুলোর বর্তমান বাজার মূল্য চার কোটি ৪১ লাখ টাকা।
দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর যেন সোনার খনি। সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে সোনার ছোটবড় চালান আসছে, ফাঁক গলে বের হয়ে যাচ্ছে, মাঝে মাঝে দুই-একটি চালান ধরাও পড়ছে। শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলেছেন, দেশে সোনার চাহিদা বছরে ১৬-২৬ টন। কিন্তু এর চেয়ে কয়েকগুণ বেশি সোনা অবৈধপথে দেশে আসছে। পাঁচটি সোনার চালান এলে ধরা পড়ে মাত্র একটি।
আমাদের স্মরণে রাখা দরকার, এ ক্ষেত্রে কাজ করছে বড় ধরনের দেশি ও বিদেশি সিন্ডিকেট। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক চক্র বাংলাদেশকে সোনা চোরাচালানের বড় ধরনের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার করছে। এর আগে এমন খবরও সামনে এসেছে, যাদের চোরাচালান রোধ করার দায়িত্ব, তাদের মধ্যেও কেউ কেউ অবলীলায় জড়িয়ে পড়ছে সোনা চোরাচালান চক্রের সঙ্গে। চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত বেশ কয়েকটি চক্রের সন্ধান পেয়েছিল গোয়েন্দারা।
বলা দরকার, বাংলাদেশ যে সোনা চোরাচালানের রুট হিসেবে ব্যবহার করতে চোরাচালানকারিরা তৎপর, তা বিভিন্ন সময়ের ঘটনা থেকেই স্পষ্ট হয়। এর আগেও হযরত শাহজালাল (রহ.) বিমানবন্দরে বিভিন্ন সময় সোনা উদ্ধার করা হয়েছে। প্যান্টের ভেতর, কম্বলের ভেতর কিংবা বিমানের টয়লেটে, এমনকি যাত্রীর জুতায়, মানিব্যাগে, লাগেজে, হ্যাঙ্গার গেটে সর্বত্রই পাওয়া গেছে সোনার বার বিভিন্ন সময়। এ ছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালিয়েও উদ্ধার করছে সোনার বার। দেশের সীমান্ত এলাকায়ও ধরা পড়ছে সোনার চোরাচালান। আমরা মনে করি, এ ধরনের ঘটনা রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও কঠোর হতে হবে। কেননা, এমন ঘটনা ঘটতে থাকলে তা দেশের জন্য বিপজ্জনক। এটা দেশের ভাবমূর্তিরও প্রশ্ন।
এবারের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। যারা সোনা চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত, তারা রাতারাতি ধনী হতে চায় এবং তারা দেশ ও জাতির শত্রæ, মানুষের শত্রæ। কেননা, এর ফলে দেশের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণœ হয়। যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটা খুবই উদ্বেগজনক পরিস্থিতি এবং এই পরিস্থিতির অবসান হওয়া জরুরি। দেশ থেকে চোরাচালান একেবারেই বন্ধ হোক- এমনটি সবার কাম্য। আর সে জন্য সক্রিয় হতে হবে সরকারসহ সংশ্লিষ্টদেরই। আমরা মনে করি, সোনা চোরাচালান-সংক্রান্ত সামগ্রিক পরিস্থিতি আমলে নিতে হবে এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। সরকারের পরিকল্পিত ও কার্যকর কঠোর উদ্যোগই কেবল পারে সোনা চোরাচালান রোধ করতে।






