অস্থির নিত্যপণ্যের বাজার
নিয়ন্ত্রণে সঠিক উদ্যোগ নিন
আবারও অস্থির হয়ে উঠেছে নিত্যপণ্যের বাজার। স্বস্তি নেই মাছ, মাংস, শাকসবজিসহ নিত্যপণ্যের বাজারে। একেক সময় একেক পণ্যের দাম বাড়ছে। এরই মধ্যে বেড়েছে ডিম, পেঁয়াজ, শাকসবজি ও মাছের দাম। ভালো মানের দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকা কেজি। আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা কেজি। টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা কেজিতে। কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা কেজি, আলু ৫০ টাকা, করলা ১০০ থেকে ১২০ টাকা, বেগুন ১০০ থেকে ১২০ টাকা, পেঁপে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, শিম ২০০ টাকা কেজি, ফুলকপি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি গুনতে হচ্ছে ২০০ টাকা। সোনালি মুরগি ৩২০ টাকা কেজি। তেলাপিয়া, পাঙাশ এখন দামি মাছ, বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকা কেজি। প্রতিটি শাকের আঁটি ২০ থেকে ২৫ টাকা। ঢ্যাঁড়স ১০০ টাকা কেজি। লাউ প্রতি পিস ৬০ থেকে ১০০ টাকা। এমনিভাবে প্রতিটি পণ্যের দামই চড়া। ফলে দেশের সাধারণ মানুষ অসহায়, দিশেহারা।
বৈশ্বিক মন্দায় সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকটের কারণে বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতির হার বেড়েছিল। মূল্যস্ফীতির হার নিয়ন্ত্রণে বিশ্বব্যাপী সংকোচনমুখী মুদ্রানীতি অনুসরণের মাধ্যমে ভোক্তার চাহিদা কমানো হয়। পণ্যের দাম কমাতে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি আমদানিও নিয়ন্ত্রণ করা হয়। ফলে অনেক দেশে বিশেষ করে খাদ্যে মূল্যস্ফীতির হার কমতে শুরু করেছে। অবাক করা ব্যাপার হচ্ছে, বাংলাদেশে এ হার বাড়ছে।
প্রশ্ন হচ্ছে- শ্রীলঙ্কার মুদ্রাস্ফীতি কমলেও বাংলাদেশে কমছে না। দক্ষিণ এশিয়ার দ্রæত অগ্রসরমাণ দেশ শ্রীলঙ্কা নজিরবিহীন অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলা করছে। সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হয়েছিল গত বছর। দ্বীপ রাষ্ট্রটির মূল্যস্ফীতির হার ঠেকেছিল প্রায় ৬০ শতাংশে। রিজার্ভ সংকটে জ্বালানি তেলের মতো অতিপ্রয়োজনীয় পণ্যটিও আমদানি করা সম্ভব হচ্ছিল না। আমদানি দায় আর বিদেশি ঋণ পরিশোধের ব্যর্থতায় নিজেদের দেউলিয়াও ঘোষণা করেছিল দেশটির সরকার। কিন্তু ইতিহাসের সবচেয়ে নাজুক সে পরিস্থিতি দ্রম্নতই কাটিয়ে উঠছে শ্রীলঙ্কা। মূল্যস্ফীতির হার কমতে কমতে গত জুনে ১২ শতাংশে নেমে এসেছে। প্রতিবেশী দেশ ভারতের মূল্যস্ফীতিও দুই বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমে এসেছে। দেশটির মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ২৫ শতাংশে। মূল্যস্ফীতি কমেছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোয়ও। কিন্তু এ ক্ষেত্রে একেবারেই বিপরীত অবস্থান বাংলাদেশের।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামও কমেছে। ভোজ্যতেল, খাদ্যশস্য, কৃষি খাতের কাঁচামাল, সার এবং ব্যবহারিক বা শিল্প ধাতুর মূল্যও টানা কয়েক মাস ধরে কমছে। কোডিভপূর্ব পরিস্থিতিতে ফিরেছে ভোগ্যপণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার। আন্তর্জাতিক বাজারে এসব পণ্যের দাম কমলেও বিপরীত চিত্র দেশের বাজারে। বাংলাদেশে ভোগ্যপণ্যসহ সব পণ্যের দাম এখনো অস্থিতিশীল। ফলে নিয়ন্ত্রণে আসছে না মূল্যস্ফীতির হার। দেশে দেশে মূল্যস্ফীতি কমলেও বাংলাদেশে তা কমানো সম্ভব হচ্ছে না। সরকারের বেঁধে দেয়া দামও মানা হচ্ছে না। এর জন্য দায়ী এ দেশের অসৎ ও অতি মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি সরকারের বাজার তদারকির ক্ষেত্রে উদাসীনতা রয়েছে। খাদ্যমূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের সঠিক পদক্ষেপ জরুরি।






