সরকারের সহায়তায় সৌদি থেকে দেশে ফিরেছেন সেই নির্যাতিতা তরুণী

11

হবিগঞ্জ থেকে সংবাদদাতা :
সৌদি আরবে গৃহকর্মী হিসাবে কাজ করতে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হওয়া ইয়াসমিন আক্তার গতকাল শনিবার সকালে দেশে ফিরেছেন। ভোর রাতে গালফ এয়ারের একটি ফ্লাইটে ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসেন তিনি। পরে সেখানে বাড়িতে আসার পর শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় সকাল ১১টার দিকে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তাকে ভর্তি করা হয়।
ইয়াসমিনের বাবা জানিয়েছেন- তার মেয়ে কথা বলতে পারছে না। সৌদিতে একটি পরিবারের পুরুষ সদস্যরা তাকে বিভিন্ন সময়ে যৌন নির্যাতনের চেষ্টা করে। এতে সে বাধা দেয়ায় তাকে শারীরিক ও মানষিক নির্যাতন করে। এমতাবস্থায় ইয়াসমিন বাড়িতে ফোন করে বিষয়টি জানালে তিনি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা চান। পরে সরকারের সহায়তায় গতকাল শনিবার সে দেশে ফিরে এসেছে। দেশে ফিরার পরে তার শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় মাদবপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরে দালাল ও তার লোকজন ইয়াসমিনকে জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময় বিমানবন্দর পুলিশ ও উপস্থিত লোকজনের বাধা দিলে দালালরা পালিয়ে যায়।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এএইচএম ইশতিয়াক মামুন জানিয়েছেন, ইয়াসমিনের অবস্থা স্ট্যাবল। তবে সে মানসিক ট্রমার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে, শনিবার দুপুরে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আলাউদ্দিন ইয়াসমিনকে দেখতে যান। এসময় তিনি ইয়াসমিনের পরিবারের সদস্য এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এএইচএম ইশতিয়াক মামুনের সাথে কথা বলেন ও ইয়াসমিনের খোঁজখবর নেন।
উল্লেখ্য, গত ২৭ সেপ্টেম্বর দালালের মাধ্যমে সৌদি আরবে গিয়ে গৃহকর্মীর কাজে যোগ দিয়ে নির্যাতনের শিকার হন ওই তরুণী। এক পর্যায়ে ইমো মেসেঞ্জারে পিতা কুদ্দুস মিয়াকে সবকিছু জানান তিনি। ইয়াসমিনকে উদ্ধারের জন্য কুদ্দুস মিয়া প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ সরকারের সহায়তায় বাড়ি ফেরেন ইয়াসমিন।