চাই আরও সতর্কতা

10

দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে করোনা মহামারি এবং গত ফেব্রুয়ারি থেকে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতিতে এক ধরনের টালমাটাল অবস্থা চলছে। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ও খাদ্যসামগ্রীর দাম দ্রুত বাড়ছে। এই অবস্থায় কিছু দেশের অর্থনৈতিক দুরবস্থা চরমে উঠেছে। দক্ষিণ এশিয়ায় শ্রীলঙ্কার অবস্থা শোচনীয়।
পাকিস্তানের অবস্থাও ভালো নয়। জ্বালানি তেল ও খাদ্যসামগ্রীর অভাবে মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করছে। বাংলাদেশের অবস্থা মোটেও তেমন নয়। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ভালো। জ্বালানি ও খাদ্যসামগ্রীর মজুদ যথেষ্ট। আমদানি ও সরবরাহেও কোনো সংকট হওয়ার কারণ নেই। এর পরও কিছু মানুষ নানা ধরনের গুজব ছড়াচ্ছে। এর পেছনে যেমন রাজনৈতিক বিরোধিতা রয়েছে, তেমনি ভূ-রাজনৈতিক কৌশলও কাজ করছে।
বাংলাদেশ জ্বালানির জন্য শতভাগ বিদেশনির্ভর নয়। গ্যাসের নিজস্ব মজুদ ও সরবরাহ সন্তোষজনক। পেট্রলের চাহিদার শতভাগই দেশে উৎপাদিত হয়। অকটেনেরও ৪০ শতাংশ উৎপাদিত হয় দেশে। ডিজেলসহ যেসব জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়, সেসবের আগামী ছয় মাসের আমদানিপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে আছে। নিয়মিত সেসব তেল আসছে এবং আসতে থাকবে। আগামী মাসে আটটি জাহাজে দুই লাখ ১৮ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল, একটি জাহাজে ২৫ হাজার মেট্রিক টন জেট-এ-১, একটি জাহাজে ২৫ হাজার মেট্রিক টন অকটেন আসবে। ভারত থেকেও জ্বালানির একটি বড় চালান এরই মধ্যে দেশে এসেছে। দেশটি বাংলাদেশকে ২৫ লাখ টন জ্বালানি তেল সরবরাহ করবে। ফলে সরবরাহে কোনো ধরনের বিপত্তি হওয়ার কারণ নেই। তাহলে জ্বালানি তেল নিয়ে এত গুজব ছড়ানো হচ্ছে কেন? কারণ একটাই। দেশে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা এবং ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করা।
এ ব্যাপারে আমাদের অনেক সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। কিন্তু গুজব ছড়ানো উচিত হবে না।