সারা বিশ্বই আজ এক অনিশ্চিত অবস্থার দিকে চলে যাচ্ছে। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। একদিকে যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে। দেশের অর্থনীতি যখন ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে, ঠিক তখনই শুরু হলো নতুন টানাপড়েন।
বাজারে জিনিসপত্রের দাম বাড়তে শুরু করেছে। বিদ্যুতের লোড শেডিং শুরু করতে হয়েছে। ঠিক সেই একই সময়ে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও অবনতি ঘটতে শুরু করেছে।
কুষ্টিয়ায় নিখোঁজের পাঁচ দিন পর সাংবাদিক হাসিবুর রহমান রুবেলের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে এক ছাত্রলীগ নেতাকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষ। নেত্রকোনার মদনে প্রতিপক্ষ হত্যা করেছে এক শিক্ষানবিশ অ্যাডভোকেটকে। নাটোরের লালপুরে বাবার হাতে ছেলে, খাগড়াছড়ির গুইমারায় ছেলের হাতে বাবা এবং পাবনার আটঘরিয়ায় স্বামীর হাতে স্ত্রী খুন হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। খুলনায় ভাইয়ের লাঠির আঘাতে ছোট ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল এবং গাজীপুরের টঙ্গীতে দুই ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। রাজধানী ঢাকার রায়েরবাজারে ছুরিকাঘাতে আহত যুবকের মৃত্যু হয়েছে। পাবনার সুজানগর উপজেলার নারুহাটি পক্কীর মোড় এলাকায় পদ্মা নদী থেকে গত বৃহস্পতিবার মাথাবিহীন অর্ধগলিত এক ব্যক্তির এবং নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নওগাঁর মহাদেবপুরে জমিজমার বিরোধে দুই নারীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন ও মারধর করে হাত-পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। গত মঙ্গলবার বিকেল থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এসব ঘটনা ঘটে।
এসব ঘটনা থেকে প্রশ্ন উঠতে পারে, আর্থ-সামাজিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে কি একটি মহল দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে চায়? তেমনটি হলে তো বলতে হবে যে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। কারণ সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো তো বলেই দিচ্ছে যে সমাজবিরোধী চক্র বেপরোয়া হয়ে উঠছে। গত কয়েক দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো থেকে সহজেই উপলব্ধি করা যায় যে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। গত ঈদুল ফিতরের ছুটিতেও আমরা দেখেছি দেশের বিভিন্ন স্থানে অপরাধমূলক ঘটনা ঘটে।
সাম্প্রতিক সময়ে যে প্রবণতাটি দেখা যায়, সেটি হচ্ছে গুরুতর অপরাধের ঘটনার সঙ্গে বাড়ছে সামাজিক ও পারিবারিক অপরাধ। তাই আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এখনই কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।







