একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের ৫১তম বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বঙ্গবন্ধু’ শীর্ষক ওয়েবিনারে কালজয়ী ভাষণটিকে পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছে, যা অত্যন্ত সময়োচিত ও প্রাসঙ্গিক। একইসঙ্গে সংগঠনটি বঙ্গবন্ধুর ভাষণসহ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও বাঙালির ধর্মনিরপেক্ষ অসাম্প্রদায়িক মানবতার অঙ্গীকার থেকে স্নাতকোত্তর পর্যায় পর্যন্ত সব মাধ্যমের পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করতে বলেছে। উল্লেখ্য, উচ্চতর আদালতের নির্দেশ থাকলেও বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ এখন পর্যন্ত পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ঐতিহাসিক বাস্তবতা হচ্ছে ৭ মার্চের বজ্র ভাষণেই নিহিত ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার বীজমন্ত্র। যে পেক্ষাপটে বাংলাদেশে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর ব্যাপক গণহত্যা এবং তৎপর বাঙালির সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ হয়ে ওঠে অনিবার্য। ওয়েবিনারে বক্তারা বঙ্গবন্ধুর ভাষণটি বিশ্বের সকল গুরুত্বপূর্ণ ভাষায় অনুবাদসহ যথাযথ প্রচারের আহ্বান জানান, যা মূলত বিশ্বমানবতার মুক্তির একটি অনন্য দলিল।
বাংলাদেশ এবং বঙ্গবন্ধু এক ও অভিন্ন। একটিকে বাদ দিয়ে অন্যটি কল্পনাও করা যায় না। বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে জন্ম হতো না বাংলাদেশের। বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশকে আলাদাভাবে দেখার সুযোগ নেই। বাংলাদেশকে জানতে হলে বুঝতে হলে বাঙালির মুক্তিসংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জানতে হবে। জানতে হবে বঙ্গবন্ধুকেও। এই দুই সত্তাকে যারা আলাদাভাবে দেখা অথবা পৃথক করার অপচেষ্টা করেছে, তারা ব্যর্থ হয়েছে চরমভাবে। নিক্ষিপ্ত হয়েছে ইতিহাসের আঁস্তাকুড়ে। বঙ্গবন্ধু এখন শুধু বাঙালির নেতা বঙ্গবন্ধু নন, বরং তিনি বিশ্ব নেতায় পরিণত হয়ে অভিহিত হয়েছেন বিশ্ববন্ধু হিসেবে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ইউনেস্কো জাতিসংঘসহ পালিত হচ্ছে বিশ্বব্যাপী। এই উপলক্ষে বছরব্যাপী বঙ্গবন্ধুর কর্মমুখর ও সংগ্রামী জীবন, জেলজীবনসহ ত্যাগ-তিতিক্ষা সর্বোপরি দেশমাতৃকার জন্য চরম আত্মদান নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা সভা, স্মারক বক্তৃতা, চলচ্চিত্র, আলোকচিত্র ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনী সর্বোপরি গ্রন্থপাঠসহ গবেষণা কার্যক্রম চলমান। মনে রাখতে হবে যে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুুজিবুর রহমান কেবল একটি নাম নন একটি ব্যাপক ইতিহাস, একটি প্রতিষ্ঠান, একটি সত্তা। জীবিত বঙ্গবন্ধুর মতোই অন্তরালের বঙ্গবন্ধুও সমান শক্তিশালী। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, বাঙালী জাতি স্বাধীন ও সার্বভৌম থাকবে, ততদিন বিশ্বের বুকে সগৌরবে ও স্বমহিমায় উচ্চকিত ও আলোচিত হবে বঙ্গবন্ধুর নাম ও মহিমা। বঙ্গবন্ধু শুধু বাংলাদেশের নয়, বরং সমগ্র বিশ্বের অগণিত নিপীড়িত-নির্যাতিত-বঞ্চিত মানুষের অফুরন্ত অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবেন। গণমানুষের হৃদয়ে তিনি সর্বদাই বিরাজ করবেন মুক্তিসংগ্রাম ও স্বাধীনতার আলোকবর্তিকা হয়ে। নতুন ও ভবিষ্যত প্রজন্ম যাতে বঙ্গবন্ধুর সততা ও ত্যাগ-তিতিক্ষার নীতি-আদর্শসহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে বেড়ে উঠে দেশ গড়ায় ব্রতী হয়, সেজন্য উদ্যোগী হতে হবে সবাইকে। আর তাহলেই কেবল সম্ভব বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশের যথাযথ বাস্তবায়ন ও রূপায়ন।
বাংলাদেশের জাতির পিতা বর্তমানে বিশ্বনেতা, বিশ্ববন্ধু। ২০১৭ সালে জাতিসংঘের অঙ্গ সংস্থা ইউনেস্কো বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা তথা ভাষণকে ‘বিশ্ব ঐতিহ্যের দলিল’ অর্থাৎ মানবজাতির অমূল্য সম্পদ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ অসাম্প্রদায়িক, ধর্মনিরপেক্ষ নীতি, সকলের সঙ্গে সৌভ্রাতৃত্ব। আর সে কারণেই ৭ মার্চের ভাষণের বৈশ্বিক তাৎপর্য অপরিসীম।





